চাহিদামতো মিলছে না সার, কৃষককে কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে
, ০২ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৭ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০১ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) তাজা খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রংপুর, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা আমন ধান রোপণ ও পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। কোথাও অনুমোদিত ডিলারের দোকানে ভর্তুকির সার মিলছে না, আবার কোথাও খুচরা দোকানে পাওয়া গেলেও তা কিনতে হচ্ছে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়ে। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি বেশি প্রকট বলে অভিযোগ কৃষকদের।
সরকার নির্ধারিত দামে কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়া সার বিক্রির কথা প্রতি কেজি ২২ টাকা দরে। ৫০ কেজির এক বস্তার দাম ১ হাজার ১০০ টাকা। টিএসপির কেজি ২৭ টাকা, বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা। ডিএপির কেজি ২১ টাকা, অর্থাৎ ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা। আর এমওপি সারের কেজি ২০ টাকা, বস্তা ১ হাজার টাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত ডিলারের দোকানে সরকারি দামে সার না পেয়ে খুচরা বাজার থেকে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, টিএসপির ৫০ কেজির বস্তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ সরকারি দামের তুলনায় একেকটি বস্তায় বাড়তি দিতে হচ্ছে ৩৫০-৪৫০ টাকা। ডিএপির ক্ষেত্রেও ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতি বস্তায় কৃষকের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে ৫৫০-৬৫০ টাকা।
দুর্গাপুর উপজেলার কৃষক আবির আহম্মেদ বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ডিলাররা বলছেন সার নেই, কিন্তু ৫০০-৬০০ টাকা বেশি দিলে ঠিকই সার দিচ্ছে। গোদাগাড়ী উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের কৃষক ওয়ালিউল্লহর অভিজ্ঞতাও একই। কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়েছেন সার কিনতে, কিন্তু পাননি।
নওহাটা বাজারে বিএডিসি অনুমোদিত ডিলার মেসার্স হক অ্যান্ড সন্স এন্টারপ্রাইজে গিয়ে ভর্তুকি মূল্যের কোনো সার পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবদুল হক বলেন, জুলাইয়ে মাত্র ২২ বস্তা টিএসপি, ৭০ বস্তা এমওপি ও ১১০ বস্তা ডিএপি পেয়েছি। অথচ এ অঞ্চলে ৪২টি মৌজার কয়েক হাজার কৃষক রয়েছেন। বরাদ্দ পাওয়া সার দুই-তিনদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তারা বলছেন, ডিলারদের বরাদ্দের পরিমাণ নির্ধারণ করে কৃষি মন্ত্রণালয়। অনুমোদিত বরাদ্দের বাইরে গিয়ে সার সরবরাহের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে বিএডিসির রাজশাহীর সহকারী পরিচালক (সার) নাসির উদ্দিন বলেন, ডিলারদের বরাদ্দ কম পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত পরিমাণ অনুযায়ীই সরবরাহ করি। মন্ত্রণালয় যতটুকু বরাদ্দ দেয়, ততটুকুই দিতে পারি।
কুষ্টিয়াতেও সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। ডিলারদের কাছ থেকে সার না পেয়ে তারা সাব-ডিলার ও খুচরা দোকান থেকে বাড়তি দামে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কোথাও সার পাওয়া গেলেও ১০-২০ কেজির বেশি মিলছে না। এতে যাদের বেশি সার প্রয়োজন তারা বিপদে পড়ছেন। আবার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি কেজিতে ৫-১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
কুমারখালীর পান্টি ইউনিয়নের বড় ভালুকা গ্রামের কৃষক সামছুল ইসলাম জোহা জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। ইউনিয়নের ডিলারের দোকানে গিয়ে নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার পাননি। পরে সাব-ডিলারের কাছ থেকে প্রতি কেজি ইউরিয়া ৩২ টাকা, ডিএপি ৩৭ ও টিএসপি ৩৮ টাকা দরে কিনেছেন।
একই এলাকার কৃষক আরিফিন মোল্লার অভিযোগ, ডিলারের কাছ থেকে একসঙ্গে বস্তা ধরে সার দেয়া হয় না। ১৫-২০ কেজি দেয়া হচ্ছে। ফলে তিনি জমিতে ঠিকমতো সার দিতে পারছেন না।
সারের সংকট ও বাড়তি দামের অভিযোগে সোমবার লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান কৃষকরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর উপজেলা প্রশাসনের আশ^াসে তারা অবরোধ তুলে নেন। কৃষকদের অভিযোগ, টিএসপি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০, ইউরিয়া সারের বস্তা কিনতে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে তাদের।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের এরশাদের মোড় এলাকার কৃষক আবু তালেব তার ১০০ শতক জমিতে ধান আবাদ করেছেন। তিনি জানান, ধান আবাদের ১৫-২০ দিনের মধ্যে সার দেয়ার প্রয়োজন হয়। সময়মতো তা দিতে না পারলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। ডিলারের কাছে পটাশ ও ইউরিয়া না পেয়ে তাই বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে সার কিনেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলেও সারের সংকটের অভিযোগ রয়েছে। গতকাল ইয়াওমুস সাবত (শনিবার) সার সংগ্রহ করতে ভোর থেকেই ডিলারদের দোকানের সামনে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন ছিল। একপর্যায়ে সার নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতেই চাহিদা অনুযায়ী তারা সার পাননি। এজন্য সার বিতরণের দিন ভোর থেকে লাইনে দাঁড়ান তারা।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন মৌসুমে সারের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতি কৃষির জন্য উদ্বেগের বিষয়। সময়মতো সার না পেলে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। বেশি দাম কিনলে কৃষকের ব্যয় বাড়বে। যেটি কৃষক ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় বিঘœ সৃষ্টি করবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মাদক সেবনের দায়ে ৩ বন্ধু কারাগারে
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাজার থেকে কারা কিনছে সব পুরোনো বই
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রসদ সংকট ও মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি, ৫ হাজার সেনা নিয়ে ফিরছে মার্কিন রণতরী
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়ার পরিকল্পনা, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কাছে ব্যাখ্যা চাইল রাশিয়া
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অপচয় কমিয়ে বাড়বে আয়, শেকৃবির স্মার্ট ড্রায়ারে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
লাওয়াত ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগে রাজপথে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রাজধানীতে যখন-তখন যানজট: গাড়ির চাপের বাইরেও যত কারণ
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রাজধানীতে যখন-তখন যানজট: গাড়ির চাপের বাইরেও যত কারণ
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তারেক রহমানের দিল্লি সফর: প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ঢাকা অনড়
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
১ হাজার বস্তা ফেলে দাবী করা হচ্ছে ৬ হাজার বস্তার
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গ্যাস সংকটে বন্ধ শত শত কারখানা, ঝুঁকিতে অর্থনীতি
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












