সুন্নত মুবারক তা’লীম
চাঁদ দেখে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসের রোযা শুরু করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
, ১লা রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
সারা বিশ্বে একদিনে পবিত্র রোযা শুরু করা ও পবিত্র ঈদ পালন করার দাবীদাররা বিভ্রান্ত ও চরম গোমরাহ
জাযিরাতুল আরবের আকাশে চাঁদ না দেখে যেমনি পবিত্র হজ্জ উনার সময় নির্ধারণ করা জায়িয নয়, তেমনি নিজস্ব উদয়স্থলে চাঁদ না দেখে পবিত্র রোযা, পবিত্র ঈদ, অন্যান্য আমল পালন করাও জায়িয নয়। পৃথিবীর দু’টি স্থানের সর্বোচ্চ সময়ের পার্থক্য ১৪ ঘণ্টারও বেশি। সুতরাং কখনো এক দিনে পৃথিবীর সব দেশে পবিত্র রোযা ও পবিত্র ঈদ পালন করা সম্ভব নয়।
পৃথিবীর এমন অনেক স্থান আছে যেখানে সন্ধ্যা হলে অন্য স্থানে সকাল। আর আমরা জানি, সম্মানিত শরীয়ত উনার দিন শুরু হয় সন্ধ্যার পর থেকে। সুতরাং কোন স্থানের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখে, যে স্থানে সকাল সেখানে যদি পবিত্র ঈদ পালন করতে হয় তবে ঐ স্থানের দিনটি হবে অপূর্ণ। কেননা, পবিত্র ঈদ পালনের দিনটির রাতটি তাহলে কোথায়?
অথচ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, পবিত্র ঈদের রাতে দোয়া কবুল হয়। তাহলে কোন স্থানের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখে পৃথিবীর সব দেশে পবিত্র ঈদ পালন করতে চাইলে পৃথিবীতে বহু দেশের অধিবাসীরা এই দোয়া কবুলের রাত পাবে না। সম্মানিত শরীয়ত উনার পূর্ণ দিন পাবে না। আর এরকম অবস্থায় পবিত্র ঈদ, পবিত্র রোযা পালন করা সম্মানিত শরীয়ত কখনো সমর্থন করে না।
শুধু পবিত্র ঈদ কেন, পবিত্র রোযার কথাই ধরা যাক। পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান আছে যেখানে সন্ধ্যায় পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার চাঁদ দেখা গেলে অন্যস্থানে সকাল গড়িয়ে প্রায় দুপুর। যে অঞ্চলে সকাল সে অঞ্চলের অধিবাসীরা পূর্বে পবিত্র তারাবীহ নাময পড়েননি, পবিত্র সাহরীও খাননি বরং সকালের নাস্তা শেষ করেছেন। তাহলে অন্য অঞ্চলের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে সেই চাঁদ দেখে কিভাবে তারা পবিত্র রোযা পালন করবেন? তাহলে দেখা যাচ্ছে, সারা বিশ্বে একদিনে পবিত্র ঈদ এবং পবিত্র রোযা পালনকারীদের সম্মানিত শরীয়ত উনার ইলিমের যেমনি অভাব রয়েছে তেমনি রয়েছে ভৌগোলিক জ্ঞানের অভাব।
অনেকেই বলে থাকে- যদি পৃথিবীর সব দেশের ইয়াওমুল জুমুয়াহতেই পবিত্র জুমুয়ার নামায আদায় হয় তাহলে এক দিনে পবিত্র ঈদ পালন করা সম্ভব হবে না কেন? বলা হয়, প্রশ্ন হচ্ছে অর্ধেক জ্ঞান। এ প্রশ্নকারীদের প্রশ্নটিই অবান্তর। পৃথিবীর সব দেশের জুমুয়ার দিনে যেমনি পবিত্র জুমুয়ার নামায আদায় হয় তেমনি সব দেশের পহেলা শাওওয়ালেই পবিত্র ঈদ পালিত হয়। অর্থাৎ একটি দেশের পহেলা শাওওয়ালের সকালে অন্য অনেক স্থানে পবিত্র ৩০শে রমাদ্বান শরীফ সন্ধ্যা আবার কোন দেশে পহেলা শাওওয়ালের পবিত্র ঈদ পালন করে সন্ধ্যায় যখন পৌঁছেছে তখন অন্য দেশে পবিত্র ঈদ পালন শুরু হয়েছে। যেহেতু পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সময়ের পার্থক্য রয়েছে এবং এই পার্থক্য ১৪ ঘণ্টারও বেশি। সুতরাং কোন দেশে পবিত্র ঈদ পালিত হলে অন্য দেশে পবিত্র ঈদ পালন শেষ হবে; এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই সম্মানিত শরীয়ত উনার নিয়ম। যার যার অঞ্চলে চাঁদ দেখে পবিত্র ঈদ এবং পবিত্র রোযা বা অন্যান্য দ্বীনী আমল পালন করতে হবে। কোন স্থানের পবিত্র শাওওয়াল উনার চাঁদ দেখে পৃথিবীর সব স্থানে পবিত্র ঈদ পালন অবান্তর।
পৃথিবীর এমন অনেক স্থান আছে সেখানে জাযিরাতুল আরব উনার পূর্বে চাঁদ দেখা যায়। যদি কোন বছরের পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ জাযিরাতুল আরবের পূর্বে অন্য কোন দেশে দেখা যায় এবং তার একদিন পর যদি জাযিরাতুল আরবে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ দৃশ্যমান হয় তাহলে কি জাযিরাতুল আরবের পূর্বে বা আগেই প্রথমে যে স্থানে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ দেখা গেলো সে অনুযায়ী হাজীদের পবিত্র আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকতে হবে! যদি তাই হয়, তাহলে কারো পবিত্র হজ্জ আদায় হবে না; জাযিরাতুল আরবের আকাশে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ দেখেই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস শুরু করতে হবে এবং তাদের ৯ই যিলহজ্জ শরীফ তারিখে পৃথিবীর সব হাজীকে পবিত্র আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকতে হবে।
যারা একই দিনে পবিত্র ঈদ, পবিত্র রোযা পালন করার কথা বলে থাকে তাদের কোন দলীল নেই। বরং তারা যা বলে তা অবান্তর, দলীলহীন, মনগড়া এবং যা মোটেও সম্মানিত শরীয়ত সম্মত নয়। সুতরাং একই দিনে পবিত্র ঈদ পালনকারীদের উচিত এখনই এই অবান্তর বিষয়টি থেকে খালিছ তওবা করে সম্মানিত শরীয়ত উনার সঠিক পথ অনুসরণ করা। (সমাপ্ত)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












