কোটলার মসজিদে নামাজ পড়তে হয় টিকিট কেটে
, ০৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) বিদেশের খবর
ফিরোজ শাহ কোটলা বর্তমানে একদম ধ্বংসের প্রান্তে। এখানে পর্যটক খুব কম যাতায়াত করেন। কোটলার ভাঙা অংশের অদূরেই বামদিকে লম্বা লোহার পিলার। এটা শাসক অশোকের স্তম্ভ! ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫৬ সালে স্তম্ভটিকে পাঞ্জাবের আম্বালা থেকে আনিয়ে কোটলায় পুনস্থাপনা করেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও পর্যটকের বরাতে উল্লেখ করা হয়, স্থানটির ডানদিকে বেশ ভাঙা ভবন। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে হয়। নিচতলায় ওজুখানার মতো লাগছে। নিচতলায় ধ্বংস হওয়া বিল্ডিংয়ের অংশবিশেষ দেখে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠা যায়। ভেতরে ঢুকে দেখা গেল পুরো উন্মুক্ত ভাঙা ছাদ। তবে সেখানে যাওয়ার আগে সবাই জুতা খুলে প্রবেশ করছেন।
এক পর্যটক বলেন, আমি যখন প্রথমবার দেখি; তখন বুঝে উঠতে পারিনি এটা মসজিদ হতে পারে। কিছুক্ষণ পরে লক্ষ্য করলাম, কিছু মুসল্লি নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজরত অবস্থায় না দেখলে বোঝা মুশকিল, এটা মসজিদ! আমি যে দরজা দিয়ে ঢুকলাম, সেটাই ছিলো ফিরোজাবাদ কোটলা মসজিদের প্রবেশ দুয়ার।
মসজিদ বলতে আমরা যা বুঝি, মসজিদের তেমন কিছুই না। ছাদবিহীন মসজিদ শুধু প্রথম সারিতে জায়নামাজ পাতানো। তবে বোঝা যায়, দোতলার ছাদ পুরোটাই মসজিদ ছিলো। কিন্তু বৃষ্টি হলেই দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নেই। নিচতলার ভবন ঠিক থাকলেও সেখানে কী ছিলো তা আজকের প্রেক্ষিতে বোঝা যায় না। ১৩৯৮ সালে দিল্লি আক্রমণকারী তৈমুর লং এই মসজিদে প্রতি জুমাতে নামাজ পড়তে আসতেন। তিনি মসজিদ দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন, সমরখন্দে তৎকালীন একই রকম একটা মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।
মসজিদেও ইমাম বলেন, এই মসজিদে এখনো নিয়মিত জুমার নামাজ আদায় করা হয়। সকাল ও সন্ধ্যায় কোটলা বন্ধ থাকায় নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলেও দর্শনার্থীরা এলে অন্য সময়ের নামাজ জামাতে আদায় করা হয়। যে কোনো পরিস্থিতিতে এখনো এখানে এক হাজারের বেশি মানুষ একত্রে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
তবে সাধারণ মানুষের নামাজ পড়তে আসার বাধা হলো টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হবে। পর্যটক ছাড়া যারা নামাজ পড়তে আসেন; তারাও নির্ধারিত ৩০ রুপির টিকিট কেটেই আসেন। বাইরে আরও মসজিদ আছে। তবুও এই মসজিদে আসার কারণ, সম্ভবত মসজিদটি দিল্লির অন্যতম পুরাতন অথবা এর মনস্তাত্ত্বিক মূল্য আছে।
দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫৪ সালে যমুনা নদীর তীরে দিল্লির পঞ্চম শহর ফিরোজাবাদের পত্তন করেন। শহরে তিনি তার কোটলা বা দূর্গ প্রাসাদ নির্মাণ করেন। যা ফিরোজ শাহ কোটলা নামে সমধিক পরিচিত। প্রাচীর ঘেরা এ স্থাপত্যের একদিকে জামে মসজিদের ছাদবিহীন ধ্বংসস্তূপ বর্তমান। অতীতে এটি দিল্লির সবচেয়ে বড় মসজিদ ছিলো। তুঘলকবাদ ফোর্ট থেকে তুঘলক রাজবংশের রাজধানী ফিরোজাবাদে স্থানান্তর করার অন্যতম কারণ ছিল পানি সংকট।
দিল্লি সালতানাতের আমলে ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করে নির্মিত এ মসজিদে নেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। মসজিদটি এমন অবস্থায় আছে যে, তার মেহরাব, মিনার, খিলানের বর্ণনা দেওয়া কঠিন। তবে কোটলার ধ্বংসপ্রায় দালানের অংশবিশেষ দেখে এর স্থাপত্যরীতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যেতে পারে।
বর্তমানে মসজিদের কোনো মিনার অবশিষ্ট না থাকলেও ধ্বংসপ্রায় মেহরাব বিদ্যমান। মেঝেতে কোয়ার্টজ পাথরের ওপরে চুনের প্রলেপ লক্ষ্য করা যায়। এ ছাড়া ছাদ না থাকলেও তিনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দেওয়াল আছে।
মসজিদ ও কোটলার বিভিন্ন ধ্বংসপ্রায় অংশ দেখে ধারণা করা যেতেই পারে, দিল্লি সালতানাতের তুঘলক স্থাপত্যরীতিতে কোটলা নির্মিত হয়েছে। এর গ্রানাইড পাথর, চুন, সুরকি তুঘলকবাদ ফোর্ট ও হাউজ খাসের বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসাবশেষের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
মসজিদে ঢোকার সংস্কারহীন প্রধান ফটক এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও তা অবহেলিত বোঝা যায়। ফটকটিতে কয়েকটি খিলান ও ধ্বংসপ্রায় গম্বুজ অবশিষ্ট আছে। যা ইসলামি স্থাপত্য চিহ্ন বহন করছে।
তুঘলক শাসকদের অধীনে স্থাপত্যবিভাগ ও নির্মাণ বিভাগ আলাদা ছিলো। তুঘলক সাম্রাজ্যের তৃতীয় সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক (শাসনকাল ১৩৫১-১৩৮৮) বহু ইমারত নির্মাণ করেছিলেন। তার সময়ে নির্মিত ইমারতগুলোর স্থাপত্যকলার বৈশিষ্ট্যগুলো ইসলামি স্থাপত্যকলায় দেখা যায় অথবা ইসলামি স্থাপত্যকলার বৈশিষ্ট্য থেকে আলাদাও হতে পারে। এই সময়ে ইন্দো-ইসলামি স্থাপত্যে ভারতীয় স্থাপত্যের কিছু উপাদান যুক্ত হয়। যেমন- উঁচু স্তম্ভমূলের ব্যবহার, ইমারতের কোণা ছাড়াও স্তম্ভ; স্তম্ভের ওপরে এবং ছাদে ঢালাইয়ের ব্যবহার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কায়রো যাচ্ছে হামাস
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তেহরান থেকে ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেবে ইরান?
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গোলান ঘিরে ঘূর্ণায়মান শঙ্কা, সন্ত্রাসী ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য কি তবে সিরিয়া?
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, প্রাণহানি ছাড়ালো ১৬ হাজার
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় লালা, বিদ্যুৎহীন অর্ধসহস্রাধিক
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘যুদ্ধে ইসরায়েল খুবই দুর্বল প্রতিপক্ষ’
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হামাসের বীরত্ব:
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ফিলিস্তিনি শিশুদের পড়াশোনায়ও বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘সামরিক ও রাজনৈতিক-উভয় দিক থেকেই যুদ্ধে জিতেছে ইরান’
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গোপনে ইরানের পাইলটদের আটকের অভিযোগ অস্বীকার কাতারের
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার -ইরানের সেনাপ্রধান
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












