পরগাছা দখলদার ‘ইসরাইলের দ্রুত বিলুপ্তির কাউন্ট ডাউন শুরু হয়েছে’
কেন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জাগরণে আতঙ্কিত ফিলিস্তিনের দখলদাররা?
, ২০ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০১ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ৩০ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রি:, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) বিদেশের খবর
আল ইহসান ডেস্ক:
ইহুদিবাদী ইসরাইলের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনের পক্ষে ছাত্রদের ব্যাপক বৈপ্লবিক জাগরণ বা গণ-অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে এই বিপ্লবকে ইহুদি-বিদ্বেষ বলে দাবি করেছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স বা সাবেক টুইটারে দেয়া এক পোস্টে সে ওই মন্তব্য করেছে। দৈনিক রাই আল ইয়াওম পত্রিকার সম্পাদক আবদুল বারি আতওয়ান এ প্রসঙ্গে লিখেছে, আমি আমার জীবনে আর কখনও নেতানিয়াহুর এমন চেহারার মত এমন অশ্রদ্ধাপূর্ণ চেহারা আর দেখিনি।
আবদুল বারি আতওয়ান-এর মতে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইহুদিবাদী ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের বিরোধী যে ব্যাপক জাগরণ ও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে তা শেষ পর্যন্ত ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্তমান বর্ণবাদী সরকারের পতন না ঘটা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এটা স্পষ্ট বিশ্ব-জনমতের ওপর নেতানিয়াহুর কর্তৃত্ব শেষ হয়ে গেছে। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন প্রবল বিক্ষোভ এর আগে কেবল ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে ও দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দেখা গেছে। সেইসব বিক্ষোভের ফলে মার্কিন সরকার ভিয়েতনামে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল এবং পতন ঘটেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকারের।
নেতানিয়াহুর বিশ্ব জনমতের ওপর প্রভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে হাসবারা নামের একটি প্রচারণার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলো সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে নিয়ে। মিথ্যার বেসাতি ছড়িয়ে বিশ্বজনমতকে ইহুদিবাদী দখলদার ইসরাইলের পক্ষে বিভ্রান্ত করতে এ প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর ব্যয় করত ১৫০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ। ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সব পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ ও অপরাধ আর বর্বরতা ঢাকার এই ব্যাপক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত প্রায় বানচাল হয়ে যাচ্ছে তড়িঘড়ি করে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাক-স্বাধীনতা দমনের অভিযানের কারণে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে গাজার জনগণের অসাধারণ প্রতিরোধ, দৃঢ়তা ও শহীদদের রক্তের বরকতে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই গৌরবময় জাগরণ ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকারের আদর্শিক দাবি ও প্রেরণাকে মার্কিন মুল্লুকেরও চলতি বিষয়ে পরিণত করেছে। এ ছাড়াও এ বিষয়টিকে ঘিরে মার্কিন সমাজে ন্যায়বিচারের পুনরুজ্জীবন, স্বাধীনতা ও জাতিগত শুদ্ধি-অভিযান এবং বর্ণবাদ বন্ধ করা সংক্রান্ত বৈধ সংগ্রাম গড়ে উঠছে ও এ নিয়ে মার্কিন প্রজন্মগুলোর মধ্যে সংঘাতও দেখা দিচ্ছে।
আতওয়ানের মতে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের প্রবল জাগরণে ইহুদিবাদী ইসরাইলের আতঙ্কের কয়েকটি বড় কারণ: দৈনিক রাই আলইয়াওম-এর সম্পাদক আবদুল বারী আতওয়ান-এর মতে, ইহুদিবাদী নেতারা এই ভেবে আতঙ্কিত যে ফিলিস্তিনপন্থী এই ছাত্র-বিপ্লব গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপে ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর কারণ প্রথমত: নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইহুদিবাদী লবির এক জোরালো আস্তানা এবং বোস্টনের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও অনুরূপ হওয়া সত্ত্বেও এ দুই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছে ফিলিস্তিনপন্থী ও ইহুদিবাদী দখলদার ইসরাইল বিরোধী ছাত্র-বিপ্লব। এর অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রজন্মগুলো কখনও তাদের বাপ-দাদাদের মত ইহুদিবাদের মিথ্যা প্রচার-প্রোপাগা-ায় আর প্রভাবিত হবে না। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই ছাত্ররা যারা গণগ্রেফতার ও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে তারা সমাজের সাধারণ শ্রেণীর সন্তান নন বরং তারা সমাজের উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তান তথা মার্কিন কংগ্রেসম্যান, সিনেট সদস্য ও বড় বড় ব্যবসায়ী আর রাজনীতিবিদদের সন্তান। অন্য কথায় এ ছাত্ররা হবে আগামী দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নেতৃবৃন্দ।
মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্ররা গাজায় ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী ইসরাইলের নব্য-নাৎসীবাদী হামলার প্রতিবাদে যে বৈপ্লবিক আন্দোলন করছে তার ওপর দমন-পীড়ন চালানোর ইসরাইলি উস্কানি এমন এক বিশ্বাসঘাতকতা যে এ আন্দোলনের নেতারা কখনও তা ভুলবে না। দুঃখ ও পরিহাসের বিষয় হলো, পরগাছা দখলদার ইসরাইল নিজেকে নাৎসীবাদী বর্বরতার শিকার বলে দাবি করলেও ফিলিস্তিনীদের ওপর আরও বহুগুণ ভয়াবহ বর্বর অপরাধযজ্ঞ চালাচ্ছে ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের ফিলিস্তিনপন্থী এই বৈপ্লবিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই ইহুদি। তারা ফিলিস্তিনের পতাকা উড়াচ্ছে ও ফিলিস্তিনের নানা প্রতীক ব্যবহার করায় বিষয়টি নহির গালে এক ধরনের বড় চপেটাঘাত এবং এ থেকেই এ আন্দোলনকে ইহুদি-বিদ্বেষী আন্দোলন বলে যে অভিযোগ করছে নাহি তার অসত্যতা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের এই বৈপ্লবিক আন্দোলন বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোর ওপর ইহুদিবাদের একচ্ছত্র কর্তৃত্বকে ধ্বংস করেছে এবং দখলদার সন্ত্রাসী কাপুরুষ ইসরাইলি মানদ-গুলোর প্রতি বিশ্বজনমতকে সমমুখিন করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে গণমাধ্যম ও বিশ্ব-জনমতের ওপর ইহুদিবাদের কর্তৃত্ব বিলুপ্ত হচ্ছে।
এই নিবন্ধ অনুসারে, এটা বলা যায় যে জায়নবাদী নাৎসিবাদ আজ উন্মোচিত হয়েছে এবং আমেরিকান ছাত্রদের মাধ্যমে তার কুৎসিত মুখ থেকে মুখোশ মুছে ফেলা হয়েছে এবং দখলদার সন্ত্রাসী ইসরাইলের দ্রুত বিলুপ্তির কাউন্ট ডাউন শুরু হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মিশরের সামরিক শক্তি ‘বৃদ্ধি’ নিয়ে উদ্বিগ্ন সন্ত্রাসী ইসরায়েল
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আজাদ কাশ্মিরে খাবার-জ্বালানি-ওষুধের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আলোচনা চলাকালে জেনেভায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলো মোসাদ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করলো ওরাকল
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইউরোপজুড়ে দাবদাহে বাজিমাত: স্পেনে প্রাণ গেছে ২১২ জনের
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হরমুজ প্রণালিতে নতুন করিডোর চালু করলো ওমান
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আমরা কোনো অবস্থাতেই আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করবো না -পেজেশকিয়ান
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যুদ্ধ অবসানের চুক্তিটি ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’ -ইরান
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইরানের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল কেবলই ‘আকাক্সক্ষা’ -কাতার
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উপসাগরীয় মিত্রদের কাছে ইরানচুক্তি ‘বিক্রির’ চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র!
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যুক্তরাজ্যে ৫০ বছরের রেকর্ড তাপপ্রবাহ, এক হাজারের বেশি স্কুল বন্ধ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
‘ইসরায়েল যুদ্ধক্ষেত্রে কখনোই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না’
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












