সুন্নত মুবারক তা’লীম
কম্বল ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
, ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ.
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করুন এবং যা নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকুন এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করুন। নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা। (পবিত্র সূরা হাশর শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللّهَ.
অর্থ: যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করবেন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনারই আনুগত্য করলেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ ৮০)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ تَمَسَّكَ بِسُنَّتِي عِنْدَ فَسَادِ أُمَّتِي فَلَهُ أَجْرُ مِائَةِ شَهِيدٍ
অর্থ: “যিনি আমার উম্মতের ফিতনা-ফাসাদের যুগে কোন একটা সুন্নত মুবারক উনাকে আঁকড়িয়ে ধরে রাখবেন, উনাকে একশত শহীদ উনাদের ছাওয়াব প্রদান করা হবে।” সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ)
কেমন একশত শহীদের ছওয়াব? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা ‘আনহুম উনারা সম্মানিত বদর ও সম্মানিত উহুদ জিহাদে শহীদ হয়ে যে রকম মর্যাদা মুবারক হাছিল করেছেন ঠিক সেই রকম মর্যাদা মুবারক হাছিল করবেন আখিরী যামানায় একটা সুন্নত মুবারক আদায় করলেই। সুবহানাল্লাহ! এক হাজার হিজরী শতকের পরবর্তী সময়কে আখেরী যামানা বলা হয়েছে।
একজন মুসলমান উনার মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, হায়াত থেকে মওত, এমনকি হায়াতের পূর্ব থেকে মওতের পর পর্যন্ত, তিনি কি খাবেন, কি পরবেন, কিভাবে চলবেন, এককথায় উনার যাবতীয় করণীয়-কর্তব্য সম্পর্কে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ বর্ণনা মুবারক করেছেন। সুতরাং মনগড়াভাবে কোন কিছু করার সুযোগ নেই। সুতরাং যারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করবেন অর্থাৎ যারা মুসলমান হবেন, পুরুষ কিংবা মহিলা, উনাদের কর্তব্য হলো- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সমস্ত মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক সম্পর্কে জানা এবং তদানুযায়ী আমল করা।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قالت خرج رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذات غداة الى المسجد وعليه مرط مرحل من شعر أسود.
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, একদিন সকাল বেলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার উদ্দেশ্যে বের হলেন। সেই সময় উনার নূরুল মুজাসসাম (পবিত্র জিসিম) মুবারকে কালো পশমের তৈরী নকশাদার কম্বল মুবারক ছিলেন। (শরহে রিয়াদুছ ছলেহীন, আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةً وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعْرٍ أَسْوَدَ فَجَاءَ سَيِّدنَا حَضْرَتِ الْحَسَنُ بْنِ حَضْرَتْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ جَاءَ سَيِّدنَا حَضْرَتِ الْحُسَيْنِ بْنِ حَضْرَتْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَدَخَلَ مَعَهُ ثُمَّ جَاءَتْ النُّوْرُ الرَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ زَهْرَاءُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَأَدْخَلَهَا ثُمَّ جَاءَ حَضْرَتْ عَليٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَأَدْخَلَهُ.
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, একদিন সকাল বেলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হুজরা শরীফ থেকে বের হলেন। সেই সময় উনার নূরুল মুজাসসাম (সম্মানিত জিসিম) মুবারকে কালো পশমের তৈরী নকশাদার কম্বল মুবারক ছিল। অতপর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক আনলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে পবিত্র কালো কম্বল মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করালেন অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকেও উনার মহাসম্মানিত কম্বল মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করালেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়া যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকেও মহাসম্মানিত কম্বল মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকেও মহাসম্মানিত কম্বল মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ; শরহে নববী আলাল মুসলিম)
কম্বল ব্যবহারের উপকারিতাঃ
কম্বল ব্যবহারের উপকারিতা হলো শরীর উষ্ণ রাখা, যা ঠান্ডা থেকে বাঁচায় এবং আরাম দেয়, পাশাপাশি এটি মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তা বোধ তৈরি করে, বিশেষত চাপ বা উদ্বেগের সময়, এবং ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক হয়, যা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি করে। এটি শুধু শীতকালে নয়, হালকা গরম বা চাপপূর্ণ মুহূর্তেও আরামদায়ক অনুভূতি দেয়, যা আমাদের স্বস্তি দেয়।
উষ্ণতা প্রদান: কম্বল শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে, বিশেষ করে শীতকালে বা অসুস্থ বোধ করলে।
ভালো ঘুম: উষ্ণতা ও আরামের অনুভূতি ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক আরাম: কম্বলের নিচে থাকাটা নিরাপদ এবং আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।
উদ্বেগ হ্রাস: মানসিক চাপ বা উদ্বেগের মুহূর্তে কম্বল মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে।
নিরাপত্তা: এটি এক ধরনের নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি দেয়, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক: শীতকালে বা সফরে কান ঢেকে রাখা (কানটুপি পরিধান করা) খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
ফযীলত মুবারক: এই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করার মাধ্যমে কমপক্ষে একশত শহীদ উনাদের ছওয়াব লাভ করা যায়।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












