কথিত ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে শরঈ ফতওয়া (৬)
, ১৩ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সুওয়াল:
বর্তমানে তথাকথিত ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে দেশ-বিদেশের মানুষ কঠিন ভয়াবহ ফিতনার সম্মুখীন হয়েছে। এ ব্যাপারে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক ফায়ছালা কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
জওয়াব (ধারাবাহিক):
২. তৃতীয় কোনো লিঙ্গের অস্তিত্ব নেই:
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
আল্লামা হযরত ইমাম আলাউদ্দীন আবূ বকর ইবনে মাসঊদ ইবনে আহমদ কাসানী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
فَالْخُنْثٰى مَنْ لَّهٗ اٰلَةُ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالشَّخْصُ الْوَاحِدُ لَا يَكُوْنُ ذَكَرًا وَاُنْثٰى حَقِيْقَةً فَاِمَّا اَنْ يَّكُوْنَ ذَكَرًا وَاِمَّا اَنْ يَّكُوْنَ اُنْثٰى
অর্থ : হিজড়া বলা হয়- যার পুরুষ ও মহিলা উভয়ের লিঙ্গই আছে। প্রকৃতপক্ষে একজন মানুষ একই সাথে পুরুষ ও মহিলা হতে পারে না। হয়তো সে পুরুষ হবে অথবা সে মহিলা হবে। (বাদাইউছ ছানায়ি’ ৭/৩২৭)
কাজেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের লিঙ্গ কেবল পুরুষ ও মহিলার মাঝেই সীমাবদ্ধ। এর বাইরে তৃতীয় লিঙ্গের অস্তিত্ব নেই। এই শরঈ ফায়ছালা বর্তমানে অধুনিক বিজ্ঞানও মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। বিজ্ঞান যেটা ব্যাখ্যা দাড় করিয়েছে তা হচ্ছে- সন্তান উৎপাদনের সময় একজন ব্যক্তিকে লিঙ্গ নির্ধারণী ঢঢ ক্রোমোসোম দেয়া হবে, নাকি ঢণ ক্রোমোসোম দেয়া হবে, তাই হচ্ছে ঐ ব্যক্তির লিঙ্গ। যদি কোনো ব্যক্তিকে ঢণ ক্রোমোসম দেয়া হয় তবে সে পুরুষ, আর যদি ঢঢ ক্রোমোসম দেয়া হয় তবে সে মহিলা। যেহেতু একজন মানুষ প্রজননের সময় ঢঢ ও ঢণ ব্যতীত অন্য কোনো লিঙ্গ নির্ধারনি ক্রোমোসম দেয়া হয় না, তাই বৈজ্ঞানিকভাবে পুরুষ ও মহিলার বাইরে লিঙ্গ বলতে কিছু নেই। তাই বর্তমানে পাঠ্যবইয়ে মনের লিঙ্গ বা সামাজিক লিঙ্গ বলে যা পড়ানো হচ্ছে, তার সাথে বিজ্ঞান বা বাস্তবতার বিন্দুমাত্র মিল বা সংযোগ নেই।
উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তি যদি প্রজননে অসমর্থ হয়, তবে সে প্রজনন প্রতিবন্ধী হিসেবে গণ্য হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রতিবন্ধীরা হিজড়া নামে পরিচিত। তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিবন্ধীরা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। এ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শিশু সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “সৃষ্টিকর্তা ছেলে এবং মেয়ের বাইরে অন্য কোনো লিঙ্গের কাউকে সৃষ্টি করেননি। হয়তো তাকে ছেলে হতে হবে অথবা মেয়ে। এর বাইরে কোথাও তৃতীয় লিঙ্গ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। বিজ্ঞান বা মেডিকেল সায়েন্সেও তৃতীয় লিঙ্গ বলতে কিছু নেই। তবে ডিফেকটিভ ডিজ অর্ডার অথবা ‘ডিজ অর্ডার অব সেক্সুয়াল ডেভেলপমেন্ট’ আছে। ফলে তাদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেওয়া হলে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব। (তথ্যসূত্র: দৈনিক সময়ের আলো, ৫ আগস্ট, ২০২২)
কাজেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিকোণ থেকে তৃতীয় লিঙ্গ বলে কিছু নেই। ট্রান্সজেন্ডার বা তৃতীয় লিঙ্গ দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে কাফির-মুশরিকদের বানানো, মনগড়া, ভিত্তিহীন এবং সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ ও সুস্পষ্ট কুফরী।
-আল্লামা মুহাদ্দিস মুহম্মদ আমিন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












