সুন্নত মুবারক তা’লীম
ওযূ করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
কান মাসেহ করার নিয়ম: কান মাসেহ করা সম্মানিত সুন্নত মুবারক। কান মাসেহ করার প্রথম নিয়ম হচ্ছে, প্রথমে দুই হাতের শাহাদাত আঙ্গুলের মাথা দুই কানের লতি থেকে শুরু করে উপরের দিক হয়ে কানের প্যাঁচ ঘুরিয়ে কানের ছিদ্র বরাবর এসে থামবে। তারপর দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের পেট দিয়ে দুই কানের পিঠের দিকের লতি থেকে শুরু করে উপর দিকে শেষ পর্যন্ত মাসেহ করবে। অতঃপর দুই হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের মাথা দুই কানের ছিদ্রে প্রবেশ করাতে হবে।
কান মাসেহ করার দ্বিতীয় নিয়ম হচ্ছে, প্রথমে দুই হাতের শাহাদাত আঙ্গুলের মাথা দুই কানের লতি থেকে শুরু করে উপরের দিক হয়ে কানের প্যাচ ঘুরিয়ে কানের ছিদ্র বরাবর এসে থামবে। অতঃপর দুই হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের মাথা দুই কানের ছিদ্রে প্রবেশ করাতে হবে। তারপর দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের পেট দিয়ে দুই কানের পিঠের দিকের লতি থেকে শুরু করে উপর দিকে শেষ পর্যন্ত মাসেহ করবে। অতঃপর ঘাড় মাসেহ করতে হবে। গলার বিপরীত দিককে ঘাড় বলা হয়। ঘাড় মাসেহ করতে ডান হাতের আঙ্গুলের মাথা বাম হাতের আঙ্গুলের মাথার সাথে মিলিয়ে দুই হাতের আঙ্গুলের পীঠের অংশ ঘাড়ের মাঝামাঝি রাখতে হবে। অতঃপর বরাবর সোজাভাবে ডান হাত ডান দিকে এবং বাম হাত বাম দিকে টেনে নিতে হবে। হাতদ্বয় সোজাসুজি টানা না হলে বরং বাঁকা করে নিচের দিকে টেনে নিলে গলা মাসেহ হয়ে যাবে, তা বিদয়াত হবে। মাথা, কান এবং ঘাড় মাসেহ করা হলে দুই পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করতে হবে।
পা ধৌত করার নিয়ম: দুই পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করা ওযূর মধ্যে ফরয। প্রথমে ডান পা তিনবার ধৌত করতে হবে। প্রতিবারই ডান হাত দিয়ে পানি ঢেলে বাম হাত দিয়ে ডান পা টাখনু পর্যন্ত ভালোভাবে ধৌত করতে হবে।
অতঃপর বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুল দ্বারা ডান পায়ের কনিষ্ঠা আঙ্গুল হতে শুরু করে বৃদ্ধাঙ্গুল পর্যন্ত খিলাল করতে হবে। খিলাল করার সময় প্রতিবারই বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুল ডান পায়ের নীচ দিয়ে আঙ্গুলের ফাঁকসমূহে প্রবেশ করিয়ে খিলাল করতে হবে। আঙ্গুল খিলাল করা হলে ডান পায়ের কনিষ্ঠা আঙ্গুল হতে বৃদ্ধাঙ্গুল পর্যন্ত আঙ্গুলের গোড়ায় বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুল দ্বারা টান দিতে হবে। অতঃপর এ নিয়মেই বাম পা তিনবার ধৌত করতে হবে। তবে খিলাল ও সংশ্লিষ্ট কাজগুলো বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল হতে কনিষ্ঠা আঙ্গুল পর্যন্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ওযূর পাত্রে থাকা ওযূর অবশিষ্ট পানি পান করতে চাইলে তা দাঁড়িয়ে পান করতে হবে। এর মধ্যে রোগের শিফা রয়েছে।
ওযূর দোয়া মুবারক:
بِسْمِ اللهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْمِ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَلٰى دِيْنِ الْإِسْلاَمِ. اَلْإِسْلَامُ حَقٌّ وَّالْكُفْرُ بَاطِلٌ. اَلْاِسْلَامُ نُوْرٌ وَّالْكُفْرُ ظُلْمَةٌ.
অর্থ: “মহামহিম আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক স্মরণ করে শুরু করছি। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনারই জন্য, যিনি আমাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উপর দায়িম-ক্বায়িম রেখেছেন। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম হলো সত্য এবং কুফর হলো মিথ্যা। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম হলো আলো বা হিদায়াত এবং কুফর হলো অন্ধকার বা গোমরাহী।”
ওযূর পর পবিত্র কালিমায়ে শাহাদাত শরীফ পড়া মুস্তাহাব। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ.
অর্থ: যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযূ করার পর। (নি¤েœর দোয়া মুবারকটি পাঠ করবেন)
اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا الله وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ.
তার জন্য সম্মানিত জান্নাত উনার আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)
অন্য এক বর্ণনায় পবিত্র কালিমায়ে শাহাদাত শরীফ পড়ার সময় আকাশের দিকে তাকানোর কথাও আছে। তাই সম্ভব হলে এর উপর আমল করাও উত্তম। তাছাড়া আকাশের দিক মানে উপরের দিক। সুতরাং উপরের দিকে তাকিয়ে পড়লেই হবে। এক্ষেত্রে আকাশ দেখা যাওয়া জরুরী নয়। (আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
ওযূতে দাড়ি ও আঙ্গুল খিলাল করা সম্মানিত সুন্নত মুবারক:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَوَضَّأَ خَلَّلَ لِحْيَتَهُ وَفَرَّجَ أَصَابِعَهُ مَرَّتَيْنِ.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন ওযূ করতেন, তখন উনার মহাসম্মানিত নূরুন নিয়ামাহ (দাড়ি) মুবারক খিলাল করতেন এবং উনার সম্মানিত আঙ্গুল মুবারকসমূহ উনাদের ফাঁকসমূহও দু’বার খিলাল করতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, পবিত্র হাদীছ শরীফ: ৪৩১)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কিয়ামত পর্যন্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন হবে না
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী জয়তুনের তেল
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (৪)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী খাবার ‘পনির’
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (৩)
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (১)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৪)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












