১০০ টি চমৎকার ঘটনা
একটি রুটি ও তিনটি স্বর্ণের ইট
ঘটনা-২৫
, ১৫ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০২ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ৩১ অক্টোবর, ২০২৩ খ্রি:, ১৫ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
তখন তারা বললো, ‘হুযূর! বেয়াদবি মাফ করবেন। আমরা দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত ছিলাম, যার জন্য মারা গিয়েছি। এখানে আমরা যে চারজন লোক রয়েছি, তার মধ্যে তিনজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আর একজন বাইরের লোক। আমরা যখন এখানে এসে তিনটা স্বর্ণের ইট দেখলাম, তখন মনে মনে চিন্তা করলাম যে, তিনটা ইট নিয়ে কি করা যেতে পারে? কারণ আমরা তো তিনজন বন্ধু, আর একজন অতিরিক্ত। তারপর আমরা সেই অতিরিক্ত একজনকে বাজারে পাঠালাম কিছু খাদ্য নিয়ে আসার জন্য। সে চলে গেলে আমরা পরিকল্পনা করলাম, সে ফিরে আসার সাথে সাথেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করবো, আর তিনজনে তিনটা ইট ভাগ করে নিয়ে যাবো। এদিকে অতিরিক্ত লোকটা বাজারে গিয়ে মনে মনে ফিকির করলো, সে যদি আমাদের মেরে ফেলতে পারে, তাহলে নিজেই তিনটা ইট নিয়ে নিতে পারবে। তাই সে খাদ্যের মধ্যে বিষ মিশিয়ে নিয়ে আসলো। তারপর সে খাবার নিয়ে ফিরে আসার সাথে সাথে আমরা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেললাম। আর তার বিষযুক্ত খাদ্য খেয়ে নিজেরাও মারা গেলাম।’ তারপর তারা বললো, ‘হুযূর আমাদেরকে মাফ করে দিন! আমরা আর দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত থাকবো না। আমরা যেন মহান আল্লাহ পাক উনার মতে-পথে আমাদের বাকী জীবন অতিবাহিত করতে পারি, সেজন্য দোয়া করবেন।’ তারা সেই স্বর্ণের ইটগুলো রেখে চলে গেলো।
তখন হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম বললেন, ‘হে ব্যক্তি! তুমি তো সফরে আমার সঙ্গী। এখন যেহেতু স্বর্ণের ইট তিনটা পাওয়া গিয়েছে, তাহলে বন্টন হবে কি করে? আমার একটা, তোমার একটা। আর অতিরিক্ত একটি রুটি যার কাছে রয়েছে, সে পাবে আরেকটি ইট।’ তখন সেই দুষ্ট লোকটি তার কোমর থেকে একটি রুটি বের করে বললো, ‘হুযূর! আপনি তো দেখেছেন আমাকে একটা খেতে, আর এই হলো আরেকটা। কাজেই আমাকে দুইটা ইট দিয়ে দিন।’ তখন হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম বললেন, “তুমি কতবড় বদনসীব! আমি তোমাকে এতবার মহান আল্লাহ পাক উনার কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি একবারও স্বীকার করলে না। কিন্তু এখন স্বর্ণের ইট পাওয়ার লোভে তুমি স্বীকার করছো। হে বখীল! তুমি তিনটা ইটই নিয়ে যাও, অতিশীঘ্রই তোমার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার গযব নাযিল হবে।” লোকটি এতই নিকৃষ্ট যে হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার কথায় ভীত না হয়ে বরং খুশি মনে তিনটি ইট নিয়ে রওয়ানা হলো। মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, উনার কথা তো ওহীর অন্তর্ভুক্ত। তাই কথা অনুসারে ওই লোকটি কিছুদূর যাওয়ার পর পরই তার উপরে মাটি ধ্বসে সে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো। নাঊযুবিল্লাহি মিন যালিক!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, “দুনিয়ার মুহাব্বত সমস্ত পাপের মূল।” দেখা যায় সাধারণ লোভ লালসাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে মানুষ আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ গুনাহ করে থাকে। যদিও কোনো গুনাহই সাধারণ নয়। এভাবে সাধারণ গুনাহকে গুনাহ মনে না করার কারণে মূলত মানুষ ক্রমেই বড় বড় গুনাহের বিষয়েও বেপরোয়া হতে থাকে, যা মানুষকে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যায়। তাই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হলে আমাদেরকে দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করতে হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৯)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (১)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (১)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নারী সমাজের জন্য একটি জরুরী ফিকির!
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“মৃত্যু দেখে দেখে নসীহত হাছিল করতে হবে”
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত সালমা বিনতে হাফসা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












