একজন নেককার মায়ের সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ হচ্ছে সন্তানকে নেক ছোহবত মুবারকে পাঠানো
, ২৯ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিতা মাতার নাম হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি একজন বিখ্যাত ছাহাবীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনাদের অর্ন্তভুক্ত। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলতেন, আমার উপর আমার মাতা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সবচাইতে বড় অনুগ্রহ হলো, তিনি আমাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে পাঠিয়ে আমাকে মানুষ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি ছিলেন পবিত্র মদীনা শরীফ উনার অধিবাসী। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত পাওয়ার পর তিনি সানন্দে দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। কিন্তু উনার আহাল (স্বামী) মালেক সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করা হতে বিরত থাকে।
একবার হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি শিশু হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে কালেমা শরীফ শিক্ষা দিচ্ছিলেন। এই দৃশ্য দেখার পর হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পিতা ক্রুদ্ধ হয়ে উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে বললেন, আপনি নিজে তো বাপ-দাদার ধর্ম বর্জন করেছেন বটেই; এখন কি এই শিশুটিকেও বিপথগামী করতে চাচ্ছেন? হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন, আনাস (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) তিনি তো একটি অবোধ শিশুমাত্র, আমি তো বরং চাই আপনিও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করুন।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পিতা শেষ পর্যন্ত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে নাই। একবার সফরের হালতে কে বা কারা তাকে হত্যা করে ফেলে। হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি অত্যধিক বুদ্ধিমতি ছিলেন এবং বিধবা হওয়ার পরও তিনি ছিলেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারিণী। এই কারণে বহু জনের পক্ষ হতে উনার নিকট বিবাহের প্রস্তাব আসে। কিন্তু তিনি এই বলে সকল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন যে, আমার সন্তানটি এখনো বেশ ছোট। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র মক্কা শরীফ হতে হিজরত করে পবিত্র মদীনা শরীফ আসেন, তখন হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সবেমাত্র দশ বৎসরের বালক।
হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার মনে বড় আশা, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে তিনি মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলবেন। বহু চিন্তা-ভাবনার পর তিনি স্থির করলেন, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে যদি পেয়ারা রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমত মুবারকে দেয়া যায়; তবে মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে এর চেয়ে বড় সুযোগ আর কিছু হতে পারে না। পরে একদিন তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সঙ্গে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমত মুবারকে হাজির হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি একজন বিধবা নারী। আনাস আমার ছেলে। আমি বড় কষ্ট করে উনাকে প্রতিপালন করেছি। এখন আমার মনে বড় আশা- তিনি যেন একজন আদর্শ মু’মিন হতে পারেন। এই উদ্দেশ্যে আমি উনাকে আপনার খেদমত মুবারকে রেখে যেতে চাচ্ছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার আবেদন মঞ্জুর করলেন। দশ বৎসরের বালক হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমত মুবারকে নিযুক্ত হলেন।
শিশুরা সাধারণতঃ অনুকরণপ্রিয় হয়ে থাকে। তারা যা দেখে ও শোনে, অবচেতন মনে সেটাই তাদের জীবন ও চরিত্রে প্রতিফলিত হয়। উপরন্তু কোন বিষয়ের প্রতি যদি তাদের অতিরিক্ত কোন আগ্রহ থাকে, তবে তো সেটা তাদের জীবনচরিতে অবিচ্ছেদ্যরূপেই প্রতিফলিত হবে। শিশু হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটে নাই।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সীমাহীন মুহব্বত করতেন এবং অন্তর দিয়ে উনার খেদমত মুবারক করতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা বলতেন ও করতেন, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তা স্মরণ রাখার এবং অনুসরণ করার চেষ্টা করতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে স্নেহ করতেন এবং মুহব্বত করতেন। পরবর্তীতে সেই খাদিম হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে শীর্ষস্থানীয় ছাহাবীদের মধ্যে গণ্য হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বহু হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন।
-আল্লামা আবূ সাফওয়ান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত উম্মে আতিয়্যাহ আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হজ্জে মাবরুর বা মকবুল হজ্জ পালন করতে হলে কি কি থাকা শর্ত (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (২)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একজন উত্তম নারীর গুণাবলী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












