এই উপমহাদেশে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ঈমান-আমলের ক্ষতিসাধনে দেওবন্দীদের কার্যক্রম এবং তাদের ভ্রান্ত ফতওয়া (৪)
, ১৫ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৭ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৬ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা

বাংলাদেশী দেওবন্দী-খারেজীদের নারী নিয়ে মাখামাখি:
এদেশের দেওবন্দী গ্রুপ কথিত হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার ৪র্থ দফা হচ্ছে-
বেহায়া-বেপর্দা বন্ধ করতে হবে, এবং প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রকাশ্যেই বিভিন্ন নারী নেতৃত্বের সাথে মিটিং করেছে, বেপর্দা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা নিজেরাই কি নিজেদের নীতি ভাঙ্গছে না?
(১) প্রথমেই আসুন, হেকারতে ইসলামের প্রধান আহমক শফী, যে নারীদের তেতুল বলে আখ্যায়িত করেছে সে কি করেছে: সে নিজেই বলেছে, নারী মানেই তেতুল এবং তেতুল দেখলে মুখে পানি আসবেই। কিন্তু সে কিভাবে একজন নারীর সাথে তার দলবল নিয়ে দেড় ঘণ্টা মিটিং করতে পারে?
বেপর্দা হওয়ার শরীয়ত সে পেলো কোথায়???
(২) এবার আসুন বাংলাদেশে আরেক দেওবন্দী তথা কওমী-খারেজী নেতা শায়খুল হদসের অবস্থা কি?
শায়খুল হদস আজিজুল হক ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ‘আল কোরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা’ শীর্ষক একটি বই লিখেছিলো। সেই বইতে লেখা হয়-
.... রং বেরংয়ের পোশাক, লিপিস্টিক লাগানো, পুরুষের সাথে অবৈধ মেলামেশা, থিয়েটার নাটক করা, সভা সমিতি করা, রাজনৈতিক আসরে নামা, প্রকাশ্যে সভা সমিতিতে বক্তৃতা দেয়া আর বেশ্যাবৃত্তি করা। শুধু পেশাদারী বেশ্যা নয় অপেশাদার বেশ্যাবৃত্তি করা। ..” (আল কুরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা ১৩৪ পৃষ্ঠা, লেখক: শায়খুল হাদীছ আজিজুল হক)
..... ধন ও ঋণ (পজেটিভ ও নেগেটিভ) ব্যতীত কোন বস্তুর কল্পনা করা যায় না, ধন ও ঋণ যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, পদার্থের পরমাণু (এটম) পজিটিভ ইলেকট্রন ও নেগেটিভ প্রোটনের সমষ্টি। এ থেকে ইলেকট্রন বিচ্যুত করলে আর পরমাণুর অস্তিত্বই থাকে না। মানবও তাই। স্বাভাবিকভাবে নর ও নারী (ধন ও ঋণ) পরস্পর দর্শনে যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয় না একথা মানুষ অস্বীকার করলেও যুক্তিবাদী বিজ্ঞান তা মানতে প্রস্তুত নয়। দৈহিক মিলনের ফাঁক থাকুক আর না থাকুক, আর থাকলে তো কথাই নেই, আকর্ষণ এতো প্রবল ও তীব্র হয় যে, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, মুনি মোহন্ত, দরবেশ, কেউ আত্মসংবরণ করতে পারে না। ....” (আল কুরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা ১৩৪ পৃষ্ঠা, লেখক: শায়খুল হাদীছ আজিজুল হক)
অথচ এ শায়খুল হদস নিজেই খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব মেনে চার দলীয় ঐক্যজোটে যোগ দেয় এবং বেপর্দা নারীর সাথে এক সাথে স্টেজে উঠে জনসম্মুখে মিটিং করে। যেই ছবি ডেইলি স্টার পত্রিকায় ২০০৩ সালের ২০ অক্টোবর ছাপা হয়।
নিজের বইয়ে নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বললেও, নারীদের সভাকে পতিতাদের সভা বললেও, নারী-পুরুষের দেখা-সাক্ষাৎকে হারাম বললেও, এ অনুষ্ঠানে গিয়ে সে নিজেকে কি প্রমাণ করলো?? নিজের ফতওয়াতেই নিজে ধরা খেলো না!!
(৩) এবার আসি কওমী-দেওবন্দীদের আরেক তালেবানী (আমার হব তালেবান, বাংলা হবে আফগান” সেøাগানের প্রবক্তা) নেতা মুফতি কমিনি (আমিনী) এর কথায়-
১৯৯৮ সালে সাপ্তাহিক ২০০০ এর সাথে মুফতি ফজলুল হক আমিনীর সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ আগে পড়ুন-
২০০০: সরকার পতনের আন্দোলন কি আপনারা এককভাকে করবেন, না বিএনপি জামাতকেও সঙ্গে নেবেন?
ফজলুল হক: আমরা সরকার পতনের ডাক দিলে বিএনপি জামাত সবাই আমাদের সাথে যোগ দেবে। আমরা একত্রিত হয়েই আন্দোলন করবো।
২০০০: নারী নেতৃত্বের বিষয়টি আপনারা কিভাবে দেখেন?
ফজলুল হক: ......এটা নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না। এ বিষয়ে এখন কথা না বলাই ভালো।
২০০০: ইসলামে নারী নেতৃত্বের বিষয়.......
ফজলুল হক: ইসলামে নারী নেতৃত্ব নাজায়েজ-হারাম। নারী নেতৃত্ব থাকলে দেশের উন্নতি হবে না। আমরা নারী নেতৃত্ব সমর্থন করি না।
২০০০: বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছেন একজন মহিলা। তাহলে বিএনপির সঙ্গে একত্রিত হয়ে আন্দোলন করছেন কেন?
ফজলুল হক: এগুলো নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না। ইসলামে আছে নিজের স্বার্থে কখনো কখনো তাদের সঙ্গে থেকে আন্দোলন করা যায়। সরকারের বিরুদ্ধে এখন আন্দোলনই আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে আমরা এটা সমর্থন করি না।
কি বুঝলেন?? নারী নেতৃত্ব হারাম, কিন্তু নিজের স্বার্থে তা হালাল (!!) করা যায়।
এবার আসুন, প্রথম আলোতে তারিখ: ২৬-০৮-২০১০ প্রকাশিত খবরে কি বলা হলো-
ইফতারের আগে আমিনীর দোয়া-
“হে আল্লাহ! খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় যাওয়ার তৌফিক দান করো। ” ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজুলল হক আমিনী ইফতারের আগে এই দোয়া করলেন।
রাজধানীর পূর্বাণী হোটেলে রাজনীতিবিদদের সম্মানে এ ইফতারের আয়োজন করে ইসলামী ঐক্যজোট।
ইফতারে কোনো বক্তব্য দেননি মুফতি আমিনী। তবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যাওয়ার পর মোনাজাত করেন তিনি।
মোনাজাতে মুফতি আমিনী বলেন, “হে আল্লাহ! খালেদা জিয়াকে দেশকে খেদমত করার ক্ষমতা দান করো। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্ম ও ইসলামের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা থেকে দেশকে হেফাজত করো। ” মোনাজাতে আরো বলা হয়, “হে আল্লাহ! তুমি চারদলীয় জোটকে শক্তিশালী করো। খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় যাওয়ার তৌফিক দান করো। খালেদা জিয়া ওমরাহ করতে যাচ্ছেন, তার ওমরাহ কবুল করো”]
কি বুঝলেন: নেত্রীর মুহব্বতে হারাম-হালাল একাকার হয়ে গেছে................ (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৯)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িয
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২৫)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সারাবিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন সম্ভব কি? একটি দলীলভিত্তিক বিশ্লেষণ.... (৬)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৮)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২৪)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সারাবিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন সম্ভব কি? একটি দলীলভিত্তিক বিশ্লেষণ.... (৫)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৭)
২৬ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২৬ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)