উত্তর মেরুতে চীনের নজর: নতুন শীতল যুদ্ধের ছায়ায় আর্কটিক
, ২৫ মে, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিদেশের খবর
উত্তর মেরু তথা আর্কটিক অঞ্চলকে বলা হয় পৃথিবীর ফ্রিজ। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে প্রতিনিয়তই অঞ্চলটির বরফ গলছে। এতে শক্তিধর দেশগুলোর সামনে খুলে গিয়েছে বিপুল সম্পদ ও কৌশলগত দখলের সম্ভাবনা।
গলে যাওয়া বরফের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের তেল, গ্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সহজ প্রবেশাধিকার তৈরি হচ্ছে। ধারণা করা হয়, বিশ্বে অবশিষ্ট প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এখানেই মজুত। পাশাপাশি, এ অঞ্চল দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে নতুন সামুদ্রিক পথ গড়ে উঠতে পারে। যা পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় উভয়ই কমাবে।
চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে, কানাডা -সকলেই চায় বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা সম্পদের ওপর দখল। এই দৌড়ে কেউ কেউ বন্দর বানাতে চায়, কেউ স্থায়ী ঘাঁটি বসাতে চায়, কেউ আবার গবেষণার নামে চালায় গুপ্তচরবৃত্তি।
এরইমধ্যে আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জোরদারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে চীন। নিজেকে ‘আর্কটিকের নিকটবর্তী রাষ্ট্র’ বলে পরিচয় দিচ্ছে।
গত এক দশকে অঞ্চলটিতে নানা ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগ করার চেষ্টা করেছে বেইজিং। নরওয়ে ও সুইডেনের সমুদ্রবন্দর, গ্রিনল্যান্ডের বিমানবন্দর, আইসল্যান্ডে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র-সবকিছুই তাদের আগ্রহের আওতায় ছিলো। যদিও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এসব প্রকল্পে অনুমোদন দেয়নি ইউরোপের অনেক দেশ।
ফলে বিকল্প হিসেবে চীন এখন রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকছে। মস্কোর সঙ্গে বেইজিংয়ের আর্কটিক-ভিত্তিক যৌথ সামরিক টহল, মহড়া ও বিনিয়োগ বাড়ছে। রাশিয়া এই অঞ্চলের প্রায় অর্ধেক উপকূল নিয়ন্ত্রণ করে, বিশেষ করে এলএনজি প্রকল্প, খনিজ সম্পদ ও উত্তর সামুদ্রিক রুট গড়ে তুলতে বিদেশি বিনিয়োগ চায় মস্কো।
চীনও সেই বাজার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছে, দুই দেশের মধ্যে এখনও পারস্পরিক সন্দেহ রয়ে গেছে- পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার আশংকায় চীন রাশিয়ার খুব বেশি ঘনিষ্ঠ হতে চায় না। আর রাশিয়াও চীনের প্রভাব বাড়তে দিতে সতর্ক।
এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কিরকেনেসসহ নরওয়ের উত্তরাঞ্চল। এখান থেকে রাশিয়ার সীমান্ত মাত্র ১০ মিনিট দূরত্বে। স্নায়ু যুদ্ধের সময় শহরটি ছিলো একপ্রকার ‘গোয়েন্দা দুনিয়ার অঘোষিত ফ্রন্টলাইন’। সেই উত্তেজনা এখন আবার ফিরে আসছে।
চীন এখনো সরাসরি সামরিক উপস্থিতি স্থাপন করেনি, বরং ‘শান্তিপূর্ণ গবেষণা ও সহযোগিতা’র নাম করে অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই ‘নরম কূটনীতি’কে দীর্ঘমেয়াদে একটি কৌশলগত হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করছে।
এক সময় যেই আর্টিক অঞ্চলকে ‘শান্তির ব্যতিক্রম’ হিসেবে দেখা হতো, এখন সেটিই পরিণত হচ্ছে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে। যেখানে বরফের নিচে জমে উঠছে উত্তপ্ত কৌশলগত সংঘাতের আশঙ্কা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইরান যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে ৬ মাসের মধ্যে ‘সম্পূর্ণ পতন’ ঘটবে যুক্তরাষ্ট্রের -মার্কিন বিশেষজ্ঞ
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যেভাবে ইরানি হামলায় ধ্বংস হয় ৫০ কোটি ডলারের মার্কিন নজরদারি বিমান
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দোকান-রেস্তোরাঁর বিল না দিতে ইরানের হামলার জন্য অপেক্ষা করে ইসরায়েলিরা!
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করলো স্পেন
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় জ্বলছে ইসরাইলের হাইফা
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৮০ লাখ মানুষের বিক্ষোভ
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সৌদি যুবরাজকে নিয়ে ট্রাম্পের কটাক্ষ!
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সৌদিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিমান ধ্বংস করে দিলো ইরান
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘যুক্তরাষ্ট্র স্থল হামলা চালালে আমিরাতকে তছনছ করা হবে’
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসরায়েলি স্বার্থে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, সাবেক মার্কিন সেনাদের দাবি -হাসপাতালগুলো যুদ্ধাহত মার্কিন সেনাদের ভিড়ে পূর্ণ
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ওয়েলকাম টু হেল: ইরানে পা রাখা মার্কিন সেনারা ফিরে যাবে ‘কফিনে’
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যোদ্ধাদের হামলার পর পুড়ে অঙার হওয়া দখলদারদের সামরিক যান
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












