ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
, ২৭ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১২ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক পর্ব)
সামুদ্রিক জিহাদে সাইয়্যিদাতুনা হযরহ উম্মে হারাম আলাইহাস সালাম উনার যোগদানের খবর দান:
(২) হযরত উমায়ের ইবনে আসওয়াদ আনাসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন। হযরত উম্মে হারাম আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছেন, আমার উম্মতের একদল সৈনিক সমুদ্র পথে জিহাদ করবেন। উনাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। হযরত উম্মে হারাম আলাইহাস সালাম তিনি আরজু করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি কি সেই গাজীদের অন্তর্ভুক্ত হবো?
তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হ্যাঁ, আপনি উনাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। অতঃপর তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের প্রথম একদল সৈন্যবাহিনী রোম শাসকের শহরে অভিযান চালাবেন। উনাদের জন্যে মাগফেরাত রয়েছে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে হারাম আলাইহাস সালাম তিনি আরজু করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি কি উনাদের মধ্যে থাকবো? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, না। আপনি উনাদের মধ্যে থাকবেন না। (বুখারী শরীফ ৪/ ৪২, ফাতহুল বারী ৬/১২০, উমদাতুল কারী ৬/৭৪,শরহু সহীহ মুসলিম ১৩/৫৮, তারীখু দিমাশক ৬২/২৪, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ১৪/১৩০)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রোমকদের শান্তিচুক্তি সম্পাদনের খবর দান:
(১) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হাওয়ালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একবার আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে বসে আমাদের অভাব-অনটন ও নিঃস্বতার কথা বলছিলাম। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা সুসংবাদ গ্রহণ করুন। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, আমি আপনাদের জন্যে সম্পদের স্বল্পতার চেয়ে আধিক্যের ভয় বেশী করি। পারস্য, রোম ও হিমইয়া এর বিজয় করা পর্যন্ত আপনাদের বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকবে। আপনাদের তিনটি বড় বাহিনী হবে। একটি সিরিয়ায়, একটি ইরাকে ও একটি ইয়ামানে থাকবে। আপনাদের সম্পদের প্রাচুর্যতা এমন হবে যে, এক ব্যক্তিকে একশত দিরহাম কিংবা দীনার দেয়া হলে সে একে কম মনে করে নারাজ হবে।
আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সিরিয়া কিরূপে বিজয় হবে? সিরিয়া তো রোমকদের করতলগত। সেখানে তাদের বড় বড় সরদার রয়েছে! তিনি বললেন, সিরিয়া অবশ্যই বিজয় হবে। সেখানে আপনাদের খলীফা থাকবেন। আপনাদের পায়দল বিচরণকারী কৃষ্ণকায় ব্যক্তির আশেপাশে শে^তাঙ্গদের প্রচ- ভিড় থাকবে এবং উনারা তার আদেশের প্রতীক্ষা করবে।
আবদুর রহমান ইবনে জুবায়র ইবনে ফুযায়ল বলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এই হাদীছ শরীফের প্রতিচ্ছবি জুয ইবনে সুহাইল সলমীর মধ্যে দেখতে পেয়েছেন। তিনি সেই যুগে অনারবদের উপর চেপে বসেছিলেন।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মসজিদে যাওয়ার সময় জুয ইবনে সুহাইল ও উনার আশেপাশে দ-ায়মান শে^তাঙ্গদেরকে দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কথা স্মরণ করে বিস্মিত হতেন। সুবহানাল্লাহ! (শরহু মুশকিলুল আছার ৩/ ১৪৭, আহাদিসুল মাছানী ৪/২২৯৫, দালায়িলুন নুবুওয়াত৬/৫১৫, মুসনাদে আহমদ ৫/৩৩, খাসায়িসুল কুবরা-২/১৩৮)
(২) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সেই মহান সত্তার কসম, যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে আমার প্রাণ। অবশ্যই পারস্য ও রোম একদিন বিজিত হবে। খাদ্যসামগ্রীর প্রাচুর্যতা অনেক হবে। তখন মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করা হবে না। অর্থাৎ মানুষ মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক নিয়ে খাবে না। উনার শুকরিয়াও আদায় করবে না। নাঊযুবিল্লাহ! (সুনান ইবনে মাজাহ শরীফ ২/ ১০৯০,সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী শরীফ ৭/১৪১৯, আল জামিউ লি শুয়াবিল ঈমান শরীফ ৮/ ৩৭, আহাদিসুল মুখতারাহ শরীফ ৯/ ৯১, সিলসিলাতুল আহাদিছিছ ছহীহাহ্ শরীফ-৩৯৩)
(৩) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন আমার উম্মত ‘মুতাইতাআ’ ভঙ্গিতে চলবে, আর পারস্য ও রোমের রাজপুত্রদের সন্তানরা উনাদের খেদমত করবে, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের দুষ্টদেরকে তাদের নেককারদের ওপর কর্তৃত্ব দান করবেন।
উল্লেখ্য যে, “আল-মুতাইতাআ” বলতে এমনভাবে হাঁটাকে বোঝায়, যার মধ্যে দম্ভ, অহংকার, বুক ফুলিয়ে চলা ও নিজেকে বড় মনে করার ভাব থাকে। (সুনানুত তিরমিজী শরীফ) (ইনশাল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিজাতীয় বিধর্মী তথা ইহুদী-নাছারাদেরকে অনুসরণ করা ইসলামী শরীয়তে হারাম-নাজায়িয
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ছলাত বা দরূদ শরীফ পাঠ করার বেমেছাল ফযীলত
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবুত তাকওয়া, ওলীয়ে মাদারযাদ, হাদিয়ে ইলাহী, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাফীউল উমাম আলাইহিস সালাম
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












