ইহুদীবাদী এবং তাদের সমর্থকদের তৈরি পণ্য বর্জন করা মুসলিম উম্মাহর জন্য আবশ্যক (১)
, ১৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
অনেকেই অনেক কিছু মনে করেন তবে দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে করণীয় কার্যক্রমের মধ্যে প্রথম কাজ ছিলো তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা অথবা জিহাদে সার্বিক সহযোগিতা করা তা অস্ত্র দিয়ে হোক অথবা আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে হোক। দ্বিতীয় কাজ হলো কাফেরদের অর্থাৎ ইহুদীদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করা; আর হামাস ও মুসলমানদের পক্ষে দোয়া করা। যা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ মুতাবেক মুসলমানদের সাধারণভাবে সুন্নত আর খাছভাবে ফরজ।
এছাড়া ইহুদীদের সমস্ত পণ্যদ্রব্য পরিহার করা। তাই অনেকে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের আহ্বান করেছেন। এরকম সকল সিদ্ধান্তই সঠিক। কিন্তু কথা হচ্ছে আমরা কি কেবল ইসরায়েলি পণ্য বর্জন করবো? নাকি সকল দেশের ইহুদীদের পণ্য বর্জন করবো?? আবার ইহুদীদের মালিকানাধীন কোম্পানীর কোন পণ্য জনগণের বর্জনে কি হবে যেখানে অনেক মুসলিম দেশ নিজেই দখলদার ইসরায়েল থেকে পণ্য আমদানি করছে এবং ইসরায়েলে রফতানি করছে? সেখানে আপনার-আমার পণ্য বর্জনে আসলে কি হবে? এই সব মিলিয়েই আজকের আলোচনা।
পণ্য বর্জনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইহুদীদেরকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা যাতে তারা তাদের উপার্জিত অর্থ দ্বারা মুসলমানদের কোন ক্ষতি করতে না পারে। তবে এক্ষেত্রে পরিকল্পনার শুরু আসলে হতে হবে সম্মানিত হাদীছ শরীফ অনুসরণের লক্ষ্যে। আর তা হচ্ছে যদি কোথাও কোন অন্যায় সংঘটিত হয় তবে কমপক্ষে হাতে বাঁধা দিতে হবে, নতুবা মুখে প্রতিবাদ করতে হবে আর না হয় ঘৃণা করে সেখান থেকে সরে যেতে হবে। পণ্য বর্জন মানে হচ্ছে ঘৃনাভরে দখলদার ইসরায়েলের নৃশংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং মুসলমানদের পক্ষে থাকা।
একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, অনেক কোম্পানী আছে যাদের পণ্য আমরা ব্যবহার করছি তাদের প্রতিষ্ঠা ইহুদী ছিলো না কিন্তু বর্তমান মালিকানা ইহুদীদের হাতে আবার অনেক কোম্পানীর মালিক এককভাবে কোন ইহুদী মালিকের হাতে না থাকলেও তাদের শেয়ারের পরিমাণ বেশী। আবার অনেক পণ্য আমরা ব্যবহার করছি যেগুলো ইসরায়েলি কোম্পানীর নয় কিন্তু তৈরি হচ্ছে অন্য কোন দেশে যার মালিক ইহুদী। আমাদের দেখতে হবে কোন প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি ইসরায়েলকে আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে। আমাদের সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য পরিহার করা আবশ্যক।
প্রথমে দেখা যাক আসলে কিভাবে ইহুদীরা সহযোগিতা পাচ্ছে।
১। ইসরায়েলে বানানো পণ্য মুসলিম দেশে সরকারী-বেসরকারীভাবে আমদানি করে আর মুসলিম দেশের বানানো পণ্য তাদের দেশে রপ্তানি করে।
যেমন বাংলাদেশ কেবল ২০২২ সালে ইসরায়েল থেকে ১ লাখ ৪৯ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে আর ইসরায়েলে রপ্তানি করেছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩১৭ মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। অন্যান্য অনেক মুসলিম দেশের ইসরায়েল থেকে অস্ত্রসহ অন্যান্য পণ্য কেনার কথা না হয় বাদ। আমদানি-রপ্তানি উভয় দিক থেকেই সন্ত্রাসী ইসরায়েল উপকৃত হয়।
২। ইসরায়েল ছাড়া অন্যান্য দেশে ইহুদী মালিকানাধীন কোম্পানীর পণ্য ব্যবহার করে।
যেমন পেপসির জন্ম ১৮৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাই অনেকেই এটাকে ইহুদীদের পণ্য বলতে দ্বিধান্বিত হয়, কিন্তু একটা বিষয় আমরা ভুলেই যাই, এই ইসরায়েলের জন্ম ফিলিস্তিনে হওয়ার অনেক আগেই আমেরিকায় একটা মিনি ইসরায়েলের জন্ম হয়েছিলো, যার জনগণরাই আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করতো। সুতরাং, আমেরিকায় জন্ম হওয়া কোন কোম্পানি ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করলে তাতে এতো অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরং এটাই স্বাভাবিক।
কিছু ইহুদী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আর কয়েকটি ইসরায়েল সমর্থক আন্তর্জাতিক কোম্পানি রয়েছে যাদের পণ্য বাংলাদেশেও পাওয়া যায়। এদের সকল পণ্য আমাদের বর্জন করা আবশ্যক। যেমন-
১। খড়ৎবধষ: ফরাসী এই প্রতিষ্ঠানটি জন্মলগ্ন থেকেই জায়োনিজমের কট্টর সমর্থক। এরা সন্ত্রাসী ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমকে সরাসরি সমর্থন করে এবং সন্ত্রাসী ইসরায়েল এর সামরিক বিশেষজ্ঞদের নানা সময় পুরস্কৃত করে আসছে।
২। ঠরপঃড়ৎরধং ংবপৎবঃ: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই খরহমবৎরব রিটেইলারটি সেই শুরু থেকেই ইসরায়েলের সমস্ত কার্যক্রমকে সমর্থন করে আসছে এবং নানা ধরণের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনকে তারা তাদের মৌলিক অধিকার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে!
৩। ঈঊগঊঢ: এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশেও তাদের কার্যক্রম চালায়-নারায়ণগঞ্জের কদম রসূলে এদের সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। নীতিগত কারণে মেক্সিকান এই প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলিদের সমস্ত কাজকে সমর্থন করে! ঈড়ধষরঃরড়হ ড়ভ ড়িসবহ ভড়ৎ চবধপব -এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী পশ্চিম তীরে উচু উচু দেয়ালগুলো বানাতে সবধরণের ভর্তুকি দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি সন্ত্রাসী ইসরায়েলকে সহায়তা করে আসছে! নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের সময়েও তারা নানাভাবে সহায়তা করে আসছে! এদের উৎপাদিত সিমেন্ট বর্জন করুন!!!
(অসমাপ্ত)
-আল হিলাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












