সুন্নত মুবারক তা’লীম
ইস্তিঞ্জার আদব ও ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করা সম্পর্কে (২)
, ১২ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
ইস্তিঞ্জার পর ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা
ইস্তিঞ্জার পর ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক। কারণ এ ব্যাপারে উদাসীনতার ফলে শরীর ও কাপড় নাপাক থেকে যায় এবং ওজু ও নামাযও বাতিল হয়ে যায়।
শুকনা মাটির টুকরা, পাথর, নতুন বা পুরাতন কাপড়ের টুকরা, তুলা ইত্যাদি দ্বারা কুলুখ নেয়া জায়িয আছে। হাড়, শুকনা চামড়া, কয়লা ইত্যাদি কুলুখরূপে ব্যবহার করা মাকরূহ। কোন খাদ্যদ্রব্য দ্বারা কুলুখ নেয়া নিষিদ্ধ, হারাম।
পুরুষের ছোট ইস্তিঞ্জা একেবারেই সম্পূর্ণ নির্গত হয় না। খানিকটা সময়ের প্রয়োজন হয়। এই অবস্থায় ইস্তিঞ্জা বন্ধ হওয়া মাত্রই অপেক্ষা না করে পানি ব্যবহার করে উঠে গেলে পরে এক-দুই ফোঁটা ইস্তিঞ্জা বের হয়ে শরীরে ও কাপড়ে লেগে যেতে পারে।
এজন্য ইস্তিঞ্জা বন্ধ হয়ে গেলে ঢিলা-কুলুখ নিয়ে উঠা-বসা করলে, দুই-এক বার কাশি অথবা গলা খাঁকার দিলে এবং তলপেটে একটু ঝাঁকানী দিলে ইস্তিঞ্জার ফোঁটা নিঃশেষে বের হয়ে আসে। তারপর পানি ব্যবহার বা খরচ করলে কোন আশংকা থাকে না।
আর বড় ইস্তিঞ্জা করার পর যে কয়টি কুলুখ ব্যবহার করলে ইস্তিঞ্জা পরিস্কার হয়ে যায় সেই কয়টি ব্যবহার করতে হবে।
সাধারণতঃ তিনটি কুলুখ ঠিকমত ব্যবহার করলে ইস্তিঞ্জা অবশিষ্ট থাকতে পারে না। তিনটি কুলুখ ব্যবহার করা সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
পুরুষের ক্ষেত্রে ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করার তরীক্বাহ:
উল্লেখ্য, পুরুষেরা শীতের মৌসুমে প্রথম কুলুখ পিছন দিক হতে সামনের দিকে, দ্বিতীয় কুলুখ সামনের দিক হতে পিছনের দিকে এবং তৃতীয় কুলুখ পুনরায় পিছন দিক হতে সামনের দিকে টানবে।
গরমের মৌসুমে এই নিয়মের বিপরীত করবে অর্থাৎ প্রথমটি সামনের দিক হতে পিছনের দিকে, দ্বিতীয়টি পিছন দিক হতে সামনের দিকে এবং তৃতীয়টি প্রথমটির মতো সামনের দিক হতে পিছনের দিকে টানবে।
মহিলাদের ক্ষেত্রে ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করার তরীক্বাহ:
আর মহিলারা সকল মৌসুমেই প্রথম ও তৃতীয় কুলুখ সামনের দিক হতে পিছনের দিকে এবং দ্বিতীয়টি পিছন দিক হতে সামনের দিকে টানবে। কুলুখ ব্যবহারের ফলে ইস্তিঞ্জা পরিস্কার হওয়ার পরই পানি ব্যবহার করা উত্তম।
আরো উল্লেখ্য, ইস্তিঞ্জাখানায় বসার নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দাঁড়ানো থেকে বসার কাছাকাছি হয়ে তারপর সতর অনাবৃত করবে এবং বাম পায়ের উপর খানিকটা বেশি ভর দিয়ে বসলে তাড়াতাড়ি এবং ভালভাবে কোষ্ঠ পরিস্কার হয়।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












