ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
, ০৫ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৭ আশির, ১৩৯১ শামসী সন , ১৬ মার্চ, ২০২৪ খ্রি:, ০২ চৈত্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
عَنْ حَضْرَتْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ صَائِمًا فَلْيُفْطِرْ عَلَى التَّمْرِ فَإِنْ لَمْ يَجِدِ التَّمْرَ فَعَلَى الْمَاءِ فَإِنَّ الْمَاءَ طَهُوْرٌ.(سنن أبي داود)
অর্থ: “হযরত সালমান ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন তোমাদের মধ্যে কোন রোযাদার ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। আর যদি খেজুর না পাওয়া যায়, তবে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কেননা তা পবিত্রকারী। (আবূ দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
সুতরাং ইফতারের সময় শুরুতেই খেজুর দ্বারা ইফতার করা খাছ সুন্নত মুবারক। কারো আর্থিক অসচ্ছলতা বা অন্য কোন কারণে ইফতারীতে সর্বপ্রথম খাবার হিসেবে পরিবারের সবাই মিলে ১টি খেজুরও যদি খায়, তাহলে উক্ত পবিত্র সুন্নত মুবারক আদায় হয়ে যাবে। আর যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে পানি দ্বারা ইফতার করলেও মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক আদায় হয়ে যাবে এবং পবিত্রতাও লাভ হবে।
ইফতার করার সময় একটি বিষয় খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরী। তাহলো ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথেই ইফতার করে নেয়া। এটা খাছ সুন্নত মুবারক। বিপরীতে ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানরা দেরীতে ইফতার করে। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, ইয়াহূদীরা ইফতারকে পবিত্র মাগরিবের নামাযকে ঘন হয়ে তারকারাজি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করে।
ইমাম আবূ দাঊদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত অন্য বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَزَالُ النَّاسُ بِـخَيْرٍ مَا عَجِّلُوا الْفِطْرَ عَجِّلُوا الْفِطْرَ فَإِنَّ الْيَهُوْدَ يُؤَخِّرُوْنَ.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, লোকজন ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণ লাভ করবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা দ্রুত ইফতার করবে। কারণ, ইয়াহূদীরা ইফতারকে বিলম্বিত করে থাকে।” (আবূ দাঊদ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২৩৫৩; ইবনে মাজাহ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৬৯৮; মুসতাদরিক ১/৪৩১)
সুতরাং মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে ইয়াহূদী-নাছারাদের সমস্ত অনুকরণ-অনুসরণ থেকে বেঁচে থেকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুকরণ-অনুসরণ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












