সম্পাদকীয়-২
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন সামরিক মেরুকরণ- সব মিলিয়ে ভূরাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং ও উত্তপ্ত অবস্থানে বাংলাদেশ। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকার গত ১৬ বছরে ধারাবাহিকভাবে কমিয়েছে সমরাস্ত্র ব্যায় অন্তবর্তী সরকারও কেনো ফ্যাসিস্ট সরকারকেই অনুসরণ করছে?
, ১০ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৪ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৩ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ১৯ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
বিশ্বের সামরিক শক্তির সূচক গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৫-এ বাংলাদেশ ১৪৫টি দেশের মধ্যে ৩৫তম স্থানে উঠে এসেছে।
মিয়ানমারে যুদ্ধ পরিস্থিতি, সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলোয় বাড়ছে বিচ্ছিন্নতাবাদ, ভারত মহাসাগর ঘিরে সামরিক উপস্থিতি, এমনকি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন সামরিক মেরুকরণ-সব মিলিয়ে ভূরাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং ও উত্তপ্ত অবস্থানে বাংলাদেশ। এ বাস্তবতায় প্রায় প্রতিটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রই সমরাস্ত্র তৈরি কিংবা কেনার ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। যদিও বাংলাদেশ চলছে উল্টো পথে। টাকার অংকে নিট প্রতিরক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বাড়লেও কমেছে ডলারের হিসাবে। আবার বাজেটের বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়নে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নতুন ক্যান্টনমেন্ট, আধুনিক প্রশিক্ষণ ভবন, সেনাপ্রাঙ্গণ, অডিটোরিয়াম ও স্বাস্থ্য সুবিধা স্থাপনের মতো অবকাঠামোগত বেশ উন্নয়ন হয়েছে। বিপরীতে ব্যয় কমেছে সমরাস্ত্র কেনায়।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-২২ সময়কালে অস্ত্র আমদানি আগের পাঁচ বছরের তুলনায় কমেছে প্রায় ৪৮ শতাংশ।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিট প্রতিরক্ষা ব্যয় আরো কমে দাঁড়ায় ২৯ হাজার ১৮৮ কোটি টাকায়। ডলারের হিসাবে ২ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন (তৎকালীন বিনিময় মূল্য ১১১ টাকা ৬ পয়সা ধরে)। নিট প্রতিরক্ষা ব্যয় টাকার হিসেবে কিছুটা বাড়ানো হয় সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে, ৩২ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। তবে বাজার অনুযায়ী বিনিময় হার ১২১ টাকা ধরে হিসাব করলে ডলারে প্রায় একই থাকে। অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট প্রতিরক্ষা ব্যয় হয়েছে ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।
সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তেমন প্রয়াস দেখা যায়নি, ‘সামরিক বাহিনীতে মিনিমাম ক্রেডিবল ডেটরেন্স রাখার যে প্রয়োজনীয়তা আছে, তার সঠিক লক্ষ্য ছিল না।
ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকতে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। ‘কূটনীতিতে যতই পারদর্শী হই না কেন মিলিটারি ডেটরেন্স না থাকলে আন্তর্জাতিক ময়দানে সম্মান আসে না। কূটনৈতিকভাবেও শক্তিশালী হওয়া যায় না। আমরা শুধু অবকাঠামোয় ব্যয় করেছি, অস্ত্রায়ণে করিনি। ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে যখন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তখন শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। জেনারেল জিয়ার সময়েও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রতিরক্ষা ডেটরেন্স না থাকায় প্রতিবেশীরা কোনো কথাতেই কর্ণপাত করে না। ’
‘প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এমনকি মিয়ানমারও আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বাংলাদেশ এমনিতেই অনেক পিছিয়ে। তার ওপর সামরিক প্রযুক্তি যেভাবে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশের এখনই নজর দেয়া উচিত। ‘আমাদের বাহিনীগুলোয় যাতে প্রযুক্তিগতভাবে মেধাবীরা যোগ দেয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। আগামী দিনগুলোয় সামরিক বাহিনীর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিংকে প্রাধান্য দিতে হবে। সায়েন্টিফিক টেকনোলজিক্যাল ভ্যালুর দিকে আমরা এতদিন মনোযোগই দিইনি। তুরস্ক ড্রোন বানিয়ে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। অন্য ছোট দেশগুলোও সামরিক প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে গেছে। ’ কিন্তু অপার সম্ভাবনার বিপরীতে বাংলাদেশ উল্টে পথে হাটছে। ফ্যাসিস্ট সরকার যে পথে চলেছে অন্তর্বর্তী সরকারও একই পথ অনুসরণ করছে।
বাংলাদেশ কারও সাথে যুদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু কেউ যেন আমাদের উপর আক্রমণ করার সাহস না পায়, সেজন্য নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ানো উচিত।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার বিরোধিতাকারীরা গুমরাহ ও উলামায়ে ‘সূ’র অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে পরিহার করা ফরয-ওয়াজিব।
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূল আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুধু পরকালীন শাফায়াত ই একমাত্র চাওয়া পাওয়া নয়;
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সংস্পর্শে নাগরিকদের সংশোধনের জন্য পাঠাতে হবে
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“মুসলিম বিশ্ব যদি ডলারের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ‘ইসলামী দিনার’ চালু করে, তবে তা পশ্চিমাদের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












