ইজতিহাদ সংক্রান্ত মওযূ হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব (৬)
, ১৪ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত কোনো কথা মুবারক বলেননি, কোনো কাজ মুবারক করেননি এবং কোনো কিছু সমর্থন মুবারকও করেননি। উনার হাটা-চলা মুবারক, নড়া-চড়া মুবারক, খাওয়া-দাওয়া মুবারক, শ্বাস-প্রশ্বাস মুবারক, চোখ মুবারক উনার পলক মুবারক, দৃষ্টি মুবারক, ঘুম মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্বপ্ন মুবারকও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
মূলত, ইজতিহাদ সংক্রান্ত উল্লেখিত হাদীছ দুইটি সনদ ও মতন উভয় দিক থেকেই ক্রটিপূর্ণ, বানোয়াট, মওযূ ও ভিত্তিহীন। নি¤েœ এই বিষয়ে আলোচনা করা হলো-
১নং মওযূ হাদীছের খ-নমূলক জবাব
হযরত ইকরিমাহ্ ইবনে আম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে হযরত ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বক্তব্য:
১. হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ اِخْتَلَطَ فِىْ اٰخِرِ عُمْرِهٖ وَسَاءَ حِفْظُهٗ فَرَوٰى مَا لَمْ يُتَابَعْ عَلَيْهِ
অর্থ: “হযরত ইকরিমাহ্ ইবনে আম্মার ইয়ামামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শেষ বয়সে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিলো এবং স্বরণশক্তি লোপ পেয়েছিলো। ফলে তিনি যা বর্ণনা করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।” (আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৮/৫২৬, আল ইগতিবাতু বি মান রমা মিনার রুওয়াতি বিল ইখতিলাত্ব ১/২৫৬)
২. হযরত ইমাম আবূ হাতিম রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন,
كَانَ صَدُوْقًا وَرُبَمَا وَهِمَ فِىْ حَدِيْثِهٖ وَرُبَمَا دَلَّسَ
অর্থ: “হযরত ইকরিমাহ্ ইবনে আম্মার ইয়ামামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সত্যবাদী ছিলেন। তবে কখনো কখনো হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল করতেন এবং কখনো কখনো تدليس (তাদলীস) করতেন।” (আল জারহু ওয়াত তা’দীল ৭/১১)
৩. হযরত ইমাম ইসহাক্ব ইবনে আহমদ ইবনে খল্ফ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
ثِقَةٌ وَكَانَ كَثِيْرُ الْغَلَطِ يَنْفَرِدُ بِاَحَادِيْثَ
অর্থ: “তিনি বিশ্বস্ত। তবে তিনি মুনফারিদ বা একক হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রচুর ভুল করতেন।” (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৭/১৩৭)
৪. হাফিযুল হাদীছ হযরত ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে ইঊসুফ ইবনে খিরাশ মারূযী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ২৮৩ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
كَانَ صَدُوْقًا وَفِىْ حَدِيْثِهٖ نَكِرَةٌ
অর্থ: “হযরত ইকরিমাহ্ ইবনে আম্মার ইয়ামামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সত্যবাদী। তবে উনার বর্ণিত হাদীছে মুনকার হাদীছ রয়েছে।” (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৭/১৩৭)
৫. হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وَضَعَّفَهُ الْبُخَارِىُّ جِدًّا
অর্থ: “হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইকরিমাহ্ ইবনে আম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে অত্যন্ত যয়ীফ বলেছেন।” (আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ১/২১২)
৬. হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইকরিমাহ্ ইবনে আম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে কোনো বর্ণনা গ্রহণ করেননি এবং তিনি বলেছেন,
لَمْ يَكُنْ عِنْدَهٗ كِتَابٌ فَاضْطَرَبَ حَدِيْثُهٗ
অর্থ: “উনার নিকট কোনো কিতাব ছিলো না। তিনি বর্ণনায় ইদ্বতিরাব করেছেন।” (আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৭/২২৬)
৭. আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وَقَدْ ضَعَّفَ اَحَادِيْثَهٗ يَحْيٰى اِبْنُ سَعِيْدٍ وَقَالَ لَيْسَتْ بِصَحَاحٍ وَكَذٰلِكَ قَالَ حَضْرَتْ اَحْمَدُ بْنُ حَنْۢبَلٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ هِىَ اَحَادِيْثٌ ضِعَافٌ وَلِذٰلِكَ لَمْ يُخَرِّجْ عَنْهُ الْبُخَارِىُّ
অর্থ: “হযরত ইয়াহ্ইয়া ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘হযরত ইকরিমাহ্ ইবনে আম্মার ইয়ামামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত হাদীছকে দুর্বল মনে করতেন।’ আর তিনি বলতেন, ‘হাদীছগুলি ছহীহ্ নয়।’ অনুরূপভাবে হযরত আহমাদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘সেগুলি দুর্বল হাদীছ।’ এ কারণেই হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার থেকে কোনো হাদীছ বর্ণনা করেননি।” (কাশফুল মুশকিল মিন হাদীছিছ ছহীহাইন ২/৪৬৩, আওনুল মা’বূদ ৬/৭৫)
৮. হযরত ইমাম মুহম্মদ ইবনে হাযাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
كَذَبَهٗ عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ
অর্থ: “হযরত ইকরিমাহ্ ইবনে আম্মার ইয়ামামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মিথ্যা হাদীছ বর্ণনা করেছেন।” (যাদুল মাআদ ১/১০৬)
তাহলে (১) যেই রাবী হাদীছ শরীফ বর্ণনার ক্ষেত্রে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত, (২) যেই রাবী মওযূ হাদীছ বর্ণনাকারী, (৩) যেই রাবী মুদাল্লিস, (৪) মুদতারিব, (৫) অত্যন্ত যঈফ, (৬) অধিক ভুলকারী এবং (৭) মস্তিষ্ক বিকৃত হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত, সেই রাবী কর্তৃক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার খিলাফ মুনফারিদ বা একক বর্ণিত হাদীছ কিভাবে ছহীহ হতে পারে? আর সেই রাবীর উপর বিশ্বাস রেখে কিভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে দোষারোপ করা উম্মতের জন্য জায়িয হতে পারে? না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাত মুবারক প্রচার করবেন, উনাদেরকে সবসময় গায়িবী মদদ করা হবে
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৪
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৩
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি সুন্নতী লাঠি মুবারক উনার র্বণনা মুবারক
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আন্তর্জাতিক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ দিক-নির্দেশনা মুবারক
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ১
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৫)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী না’লাইন শরীফ উনার বর্ণনা মুবারক
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
এক নযরে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মালিকুল কায়িনাত, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












