আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১২)
, ০৯ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
দ্বয়ীফ বর্ণনাসমূহের গ্রহণীয় স্থান; যে সমস্ত স্থানে দ্বয়ীফ বর্ণনাসমূহ গ্রহণীয় তা নিম্নরূপ-
১. মুস্তাহাব পর্যায়ের বিধানাবলী।
২. কোন প্রমাণিত আমলের ফযীলতের বর্ণনা।
৩. তারগীব তথা কোন আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদান।
৪. তারহীব তথা কোন কাজে ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে।
৫. সাওয়াব কোন আমলের নেকী সম্পর্কে।
৬. যুহদ দুনিয়া বিমূখতা সম্পর্কে।
৭. মাকরূহে তানযীহী সংক্রান্ত বিষয়ে।
৮. কিসাস পূর্বের নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের ঘটনাবলী প্রসঙ্গে।
৯. ইকাব বা কোন কাজের শাস্তি সম্পর্কে।
১০. রাকায়েক বা যে সব কারণে অন্তর নরম হয় সে সম্পর্কে।
১১. সীরাত তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা অন্য কারো জীবনী মুবারক সম্পর্কে।
১২. মানাকিব বা কোন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বা অন্য কারো বৈশিষ্ট সম্পর্কে।
১৩. মালাহিম বা যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পর্কে।
১৪. মাগাযী বা বিজয়ীদের কর্মকান্ড ও গুণাবলী সম্পর্কে।
১৫. তারীখ বা ইতিহাস সম্পর্কে।
১৬. তাফসীর বা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ে।
এক কথায় আক্বায়িদ ও আহকামের মধ্যে হালাল-হারাম, মাকরূহে তাহরীমী, ফরজ, ওয়াজিব ছাড়া সমস্ত বিষয়ে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য।
কোন হাদীছ শরীফ ছহীহ দ্বয়ীফ নির্ণয় করা সবার জন্য বৈধ নয়:
হাফিযে হাদীছ হযরত ইবনুস সালাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পরবর্তী যুগের মানুষদের জন্য ছহীহ, দ্বয়ীফ নির্ণয় করা সঠিক মনে করতেন না।
তিনি বর্ণনা করেন-
فَقَدْ تَعَذَّرَ فِي هٰذِهِ الْاَعْصَارِ الْاِسْتِقْلَالُ بِاَدْرَاكِ الصَّحِيْحِ بِـمُجَرَّدِ اِعْتِبَارِ الْاَسَانِيْدِ
অর্থ: “শুধু সনদের উপর নির্ভর করে এই যুগে ছহীহ হাদীছ শরীফ আখ্যা দেয়া অনেক কঠিন কাজ।” (মুকাদ্দিমায়ে ইবনুস সালাহ ফি উলুমিল হাদীছ ১/১৭, শরহুল তাবছিরাহ ওয়া তাযকিরাহ ১/৪৩)
হাফিযে হাদীছ ইমাম হযরত শামসুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত ইবনুস সালাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মান নির্ণয়ের দরজা মুতাআখ্খিরীন (পরবর্তী আগত) উনাদের জন্য এ কারণে বন্ধ করতে চান, যাতে এ রকম স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অযোগ্য শ্রেণীর লোকেরা ঢুকে না পড়ে। যারা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ, ইলাল খুব ভালোভাবে জানে না, যারা অধ্যায়ন ও গবেষণার উপর শতভাগ সচেতন নয়। (ফতহুল মুগিছ ১৬২ পৃষ্ঠা)
এই বিষয়গুলো অনেক জটিল ও স্পর্শকাতর। সবাই যদি এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে তবে নিজের ফিরকার মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য নফসানিয়াতের শিকার হবে। আর অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে বাতিল বলে ঘোষণা করবে। নাঊযুবিল্লাহ! কারণ ক্ষেত্র বিশেষে শুধু সনদ দেখেও রায় দেয়া যায় না। এ বিষয়ে উছূলে হাদীছ শরীফ ও উম্মতের আমলসহ অনেক বিষয় দেখতে হয়। সবাই যদি নিজেদের মত উছূল বর্ণনা করতে যায় তাহলে যে ঘটনা ঘটবে সেটা আমরা প্রমাণসহ উল্লেখ করবো। ইনশাআল্লাহ!
ওহাবী-সালাফীদের নফসানিয়াত রক্ষায় চুরি করার উজ্জল দৃষ্টান্ত:
ওহাবী সালাফীরা চুরি ও প্রতারণা করতে করতে এতই নিচে নেমেছে যেটা বলার ভাষা নেই। তারাবীহর নামাযকে তারা কোনভাবেই ২০ রাকায়াত মানতে পারে না। কিন্তু তারা না চাইলে কি হবে ২০ রাকায়াততো ছহীহ সনদে প্রমাণিত। সালাফীদের যেহেতু একটা মুখস্ত অভ্যাস শিখিয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের মতের খিলাফ হলেই সেটা জাল এবং সেই সনদের সবাই মিথ্যাবাদী হয়ে যায়। নাঊযুবিল্লাহ!
তারাবীহর নামাযকে অস্বীকার করতে গিয়ে এমনই একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে সালাফীরা। কিন্তু ভুল জায়গায় হাত পড়ে গেছে, স্বয়ং বুখারী শরীফ উনার প্রথম হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেই হস্তক্ষেপ।
মুছান্নাফে ইবনে আবি শায়বা উনার একটি হাদীছ শরীফ যেখানে ২০ রাকায়াত তারাবীহর পক্ষে মুরসাল সনদ বর্ণিত আছে।
এই হাদীছ শরীফ উনার একজন রাবী হচ্ছেন-
يَـحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ الْاَنْصَارِيُّ
‘হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহি’।
যাকে সালাফীদের তাওহীদ পাবলিকেশন্স হতে প্রকাশিত বুখারী শরীফ উনার টীকায়- এক সালাফী মতবাদের টীকাকারক ‘মিথ্যাবাদী’ বলেছে এবং বলেছে উনার বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত, অর্থাৎ উনার কোন বর্ণনা গ্রহণ করা যাবে না। (ছহীহ বুখারী, প্রকাশনী: তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ৯০ হাজী আব্দুল্লাহ লেন বংশাল, ঢাকা। নবম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর, ২০১২; ২য় খ- ৩৪৩ পৃষ্ঠা)
-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হালালকে হারাম করা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে র্শিক করার শামিল
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার বরকতময় ইতিহাস
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১১)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পুরুষের জন্য কমপক্ষে একমুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা ফরয
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১৩ পর্ব)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কাফিরদের কপটতা ও দ্বি-চারিতা নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সতর্কবার্তা
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












