আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (৬)
, ২০ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ইমামদের ব্যবহৃত পারিভাষিক ভাষাসমূহের পার্থক্য:
হাফিয ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বিশেষ বিশেষ ইমাম উনাদের বিশেষ বিশেষ পরিভাষা রয়েছে, সেগুলো জেনে রাখা আবশ্যক। (ইখতেছারু উলুমিল হাদীছ ১০৫ পৃষ্ঠা)
সকল ইমাম উনাদের ব্যবহৃত পরিভাষা একই রকম হয় না। একজনের পারিভাষিক ভাষায় যেই বর্ণনা গ্রহণই করা যায় না, আবার অন্য কোন মুহাদ্দিছ উনার সেই ভাষায় তা গ্রহণ করতে কোন সমস্যা থাকে না। কতিপয় উদাহরণ পেশ করা হলো-
(১) আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন কোন রাবী সম্পর্কে বলেন, منكر الحديث (মুনকিরুল হাদীছ) সেই রাবী থেকে হাদীছ শরীফ গ্রহণ করা জায়িয নেই। (মিযানুল ইতিদাল ১/৪১২)
উছূলে হাদীছ সম্পর্কে যারা জ্ঞান রাখেন তারা জানেন ‘মুনকার’ শব্দটা একজন রাবীর জন্য বড় একটা জারাহ। অপরদিকে বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন কাউকে ‘মুনকিরুল হাদীছ’ বলেন তখন কিন্তু অবস্থা এক রকম থাকে না। এক রকম থাকলে পবিত্র বুখারী শরীফ উনার প্রথম হাদীছ শরীফই বাদ হয়ে যেতো। হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের অনেক নির্ভরযোগ্য রাবীকেও মুনকার বলেছেন। এমনকি বুখারী শরীফের প্রথম হাদীছ শরীফ উনার রাবী মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেও মুনকার বলেছেন। (হাদীউস সারী ৬১৬)
বিখ্যাত তাবিয়ী হযরত ইয়াযীদ বিন খুসাইফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “মুনকিরুল হাদীছ” বা পরিত্যাজ্য ও আপত্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন। এখানে জানার বিষয় হচ্ছে হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কোন রাবীকে মুনকার বললে সেটা মন্দ অর্থ বুঝানোর জন্য বলেন না, বরং কোন বর্ণনার ক্ষেত্রে একক বর্ণনাকারী হওয়ার জন্য বলেন।
মূলত এক একজন ইমামের উছূলের পরিভাষা একেক রকম। এ বিষয়ে হাফিযে হাদীছ হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
قلت هذه اللفظة يطلقها أحمد على من يغرب على أقرانه بالحديث عرف ذلك بالاستقراء من حاله
হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরিভাষায় “মুনকার” অর্থ হচ্ছে, যে রাবী বর্ণনার ক্ষেত্রে সমসাময়িক রাবীদের তুলনায় নিঃসঙ্গ অর্থাৎ এমন বর্ণনা করেন যা সমসাময়িক অন্য বর্ণনাকারীগণ করেননি। হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশেষ পরিভাষা রীতি ও অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বোঝা গেছে। (মুকাদ্দিমায়ে ফতহুল বারী ১/৪৫৩, লিসানুল মুহাদ্দিছিন ৫/১৯৪)
এক কথায় حديث غريب (গরীব হাদীছ: কোন হাদীছ শরীফ উনার একজন রাবী ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। যেমন বুখারী শরীফ উনার প্রথম হাদীছ শরীফ খানা) এখানে মুনকার দ্বারা পরিত্যাজ্য নয়। আর উনার এই পরিভাষার কারনে উক্ত রাবীর উপর কোন প্রভাবও পরবে না। যার স্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে- হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বুখারী শরীফ মুসলিম শরীফের অনেক রাবীর ব্যাপারে মুনকার বলেছেন। এখানে মুনকার শব্দকে জারাহ ধরে আমল করলে ছহীহ বুখারী শরীফ উনার প্রায় ৩০টি হাদীছ বাদ দিয়ে দিতে হবে। এখন ওহাবী-সালাফীরা কি বুখারী শরীফের প্রথম হাদীছ শরীফসহ বাকি মুনকার শব্দে ভূষিত অন্যান্যদের বর্ণনাকে বাদ দিবে?
(২) আবার ইমাম আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কাউকে যদি “মাজহুল” (অপরিচিত) বলেন সেটা অন্য ইমাম উনাদের মাজহুল বলার মত নয়। ইমাম আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজহুল বলতে মাজহুলে হাল বুঝায়, কিন্তু অন্যান্য মুহাদ্দিছীনে কিরাম কাউকে মাজহুল বললে সেটা মজহুলে আইন বুঝায়। ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত হাকাম ইবনে আব্দুল্লাহ বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ইমাম আবু হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাজহুল বলেছেন। অথচ তিনি মাজহুল নন। বরং উনার থেকে চার জন ছিক্বাহ রাবী বর্ণনা করেছেন। ইমাম যুহলী রহমতুল্লাহি আলাইহিও উনাকে ছিক্বাহ আখ্যায়িত করেছেন। (মুকাদ্দিমায়ে ফতহুল বারী ২/১২৪)
(৩) পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদ হযরত ইবনুল কাত্তান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কোন রাবী সম্পর্কে যদি বলেন-
من لم يعرف له حال لم تثبت عدالته
‘যার হালত জানা নেই তার আদালতও প্রমাণিত নয়।’ বাহ্যিকভাবে এই শব্দে অনেক বড় জারাহ বা আপত্তি মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। কারণ হযরত ইবনুল কাত্তান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এ উক্তির দ্বারা অর্থ হচ্ছে, উক্ত রাবী সম্পর্কে উনার সমকালীন কোন ইমাম বা উনার ছাত্র থেকে গ্রহনযোগ্যতা প্রমাণকারী কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যদিও উক্ত রাবী ছিক্বাহ। (মিযানুল এতেদাল ১/১৬০)
(৪) হাফিয হযরত যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মিযানুল ইতেদাল’ কিতাবে অসংখ্য ছিক্বাহ রাবীকে জারাহ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজেই কিতাবের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন, “হযরত ইবনে আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (আল কামিল কিতাবে) কিছু ছিক্বাহ রাবীর উপর জারাহ করেছেন। তাদেরকে আমিও আমার কিতাবে বর্ণনা করেছি। কিন্তু এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো সমস্ত রাবীদের আলোচনা নিয়ে আসা। পরবর্তীতে আমার কিতাবে যাতে কাউকে সংযুক্ত করতে না হয়। যদিও বাস্তবে তারা আমার দৃষ্টিতে দ্বয়ীফ নন। (মিযানুল ইতেদাল এর ভূমিকা দ্রষ্টব্য)
সুতরাং বিনা ইলমে কেউ উক্ত কিতাব থেকে কোন রাবীর ব্যাপারে জারাহ-এর দলীল পেশ করলে কি পরিণতি হবে ভেবে দেখুন। ইনশাআল্লাহ! (চলবে)
-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












