পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ১০ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
উল্লেখ্য, এখানে পিতা-মাতা শহীদকারীকে, নবী এবং রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শহীদকারীদের সাথে এক পর্যায়ভুক্ত করে দেয়া হয়েছে। নবী এবং রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যারা শহীদ করেছে, তাদের যেমন কঠিন শাস্তি হবে, ঠিক তদ্রুপ যারা মাতা-পিতাকে শহীদ করবে তাদেরও কঠিন শাস্তি হবে।
আর ছবি আঁকা যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ নিষেধ; মানুষ বা কোন মাখলুকাত তৈরী করা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ কুদরতের অন্তর্ভুক্ত। সেটার মেছদাক হওয়ার জন্য যে কোশেশ করে, তারও কঠিন শাস্তি হওয়া স্বাভাবিক।
আর ইলিম- যা অর্জন করার পরেও যারা সে অনুযায়ী আমল করবে না তাদেরও কঠিন শাস্তি হবে।
কাজেই যে পিতা-মাতা একজন অথবা উভয়কে হত্যা করবে তার কঠিন শাস্তি হবে। কারণ যে পিতা-মাতা তাকে লালন-পালন করেছেন, শিক্ষা-দিক্ষা দিয়েছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। তাকে উপযুক্ত করেছেন সেই পিতা-মাতাকে যে হত্যা করবে অবশ্যই তার কঠিন শাস্তি হবে।
যেখানে পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়াই নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। এমন কি اف (উফ) বলা নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। যেটা আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি, সেখানে কি করে পিতা-মাতাকে শহীদ করা যেতে পারে? যেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সেজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফে বলে দিয়েছেন যে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
“হে ঈমানদারগণ! নিজেরা বাঁচো এবং নিজের পরিবার যারা রয়েছে তাদেরকে বাঁচাও, রক্ষা করো জাহান্নাম থেকে।” (সূরা আত তাহরীম/৬)
এখন সে কি করে রক্ষা করবে? অর্থাৎ সন্তানকে যেমন পিতা হেফাজত করবেন অর্থাৎ পিতা সন্তানের হক্ব আদায় করবেন। ঠিক সন্তানেরও দায়িত্ব হচ্ছে- পিতার হক্ব আদায় করা।
সে আয়াতের তাফসীরে বুখারী শরীফের হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে-
أَلَا كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
সাবধান! তোমরা প্রত্যেকই রক্ষক, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। প্রত্যেকেই রক্ষক। সে তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
فَالْإِمَامُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
আর যে ইমাম অর্থাৎ কোন এলাকার যে প্রধান হবে তার দায়িত্ব হচ্ছে, যারা তার অধীনস্থ রয়েছে সে তাদের রক্ষক। সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
আর কোন ব্যক্তি যে বাড়ীর প্রধান সে তার বাড়ীর অধিবাসীদের রক্ষক অর্থাৎ তার বাড়ীতে যারা রয়েছে সে তাদের দেখাশুনা করে। তাই তাদের সম্পর্কে সে জিজ্ঞাসিত হবে।
وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى أَهْلِ بَيْتِ زَوْجِهَا، وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْهُمْ
আর যে মহিলা রয়েছে, স্ত্রী রয়েছে সে তার স্বামীর ঘরে যারা রয়েছে তাদের রক্ষিকা বা দেখাশুনা করবে। তাদের সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে।
وَعَبْدُ الرَّجُلِ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُ
আর যে খাদেম বা গোলাম, সে তার মনিবের মাল-সামানার রক্ষক। সে সম্পর্কে সে জিজ্ঞাসিত হবে।
أَلَا فَكُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
তোমরা সাবধান হয়ে যাও! তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক আর প্রত্যেকেই তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। মূল বিষয় হচ্ছে- সন্তানের রক্ষক পিতা আর পিতার রক্ষক হচ্ছে সন্তান। সন্তানকে যেমন তা’লীম-তরবিয়ত, র্দস-তাদরীস দেয়া পিতার দায়িত্ব রয়েছে, ঠিক পিতা যখন বৃদ্ধ হয়ে যাবে সন্তানের অধীন হয়ে যাবে, তখন সন্তানের দায়িত্ব হচ্ছে, পিতার দেখাশুনা করা, তার যথাযথ হক্ব যেটা রয়েছে, সেটা আদায় করা তার জন্য ফরজ-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। যেমন, সন্তান যতদিন পর্যন্ত নাবালেগ থাকে, পিতার অধীন থাকে, আর যখন বালেগ হয়ে উপযুক্ত হয়ে যায়, তখন পিতা-মাতা তার অধীন হয়ে যায়। তখন তার দায়িত্ব হচ্ছে, তাদের দেখাশুনা করা, হক্ব আদায় করা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (২)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যিকিরের মাধ্যমে ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ফরয (২য় পর্ব)
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (৮)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ; খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৬)
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ফায়সালা মুবারক তথা উনার সুন্নত মুবারক পালন করা ব্যতীত ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












