দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (২১তম পর্ব)
, ০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
ইহুদীসংঘ কথিত শান্তিরক্ষা বাহিনী (UN Peacekeeping Force) আসলে কী?
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে এবং ইহুদীদের নিয়ম-নীতি জারী করার লক্ষ্যে। উদ্দেশ্য হলো যাতে পবিত্র দ্বীন ইসলাম জারী হতে না পারে। নাউযুবিল্লাহ!
“পিসকিপিং ফোর্স (UN Peacekeeping Force)- অর্থাৎ ইহুদীসংঘ কথিত শান্তিরক্ষা বাহিনী- এটি ইহুদীসংঘের (কথিত জাতিসংঘের) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে পরিচিত কার্যক্রম। এটি ইহুদীসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council ) কর্তৃক অনুমোদিত ও পরিচালিত একটি কথিত আন্তর্জাতিক বাহিনী।
এর মূল উদ্দেশ্য- কথিত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, কথিত নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া, কথিত মানবাধিকার রক্ষা ও কথিত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
ইহুদীসংঘ কথিত শান্তিরক্ষা বাহিনী বা পিস কিপিং ফোর্স কারা পাঠায়?
পিসকিপিং ফোর্স পাঠানোর মূল সিদ্ধান্ত নেয় ইহুদীসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council)
এটাই হলো একমাত্র সংস্থা যার বৈধ ক্ষমতা আছে ইহুদীসংঘ কথিত শান্তিরক্ষা বাহিনীর পিসকিপিং মিশন অনুমোদন করার।
অর্থাৎ:
· কোনো দেশে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, বা কথিত মানবাধিকার অর্থাৎ ইহুদীর অধিকারে বিপর্যয় ঘটলে
· নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হয়
· একটি প্রস্তাব (Resolution) পাশ হয়।
সেই প্রস্তাবে বলা থাকে- “ইহুদীসংঘ কথিত শান্তিরক্ষা মিশন পাঠানো হবে”। ওই রেজোলিউশন অনুমোদন দিলে ইহুদীসংঘ মহাসচিব (UN Secretary-General) পুরো মিশন সংগঠিত করে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায় জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘ কর্তৃক পরিচালিত রুয়ান্ডার (UNAMIR), কঙ্গোর (MONUSCO), দক্ষিণ সুদানের (UNMISS). হাইতির (MINUSTAH) অভিযান (মিশন)।
২। সেনা বা পুলিশ কে পাঠায়?/সৈন্য আসে কোথা থেকে?
ইহুদীসংঘের নিজের কোনো সেনাবাহিনী নেই। বরং, সদস্য দেশগুলো স্বেচ্ছায় (ইহুদী স্বার্থে) তাদের সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্য পাঠায়। এদের বলা হয়-
Troop Contributing Countries (TCCs)
Police Contributing Countries (PCCs)
· সৈন্য বা পুলিশ সদস্য আসে ইহুদীসংঘের সদস্য দেশগুলো থেকে,
যেমন: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, রুয়ান্ডা, ইথিওপিয়া, ঘানা, ইত্যাদি।
প্রতিটি দেশ স্বেচ্ছায় কথিত শান্তিরক্ষী পাঠায়- ইহুদীসংঘ জোর করে পাঠাতে পারে না। তবে গোপনে চাপ সৃষ্টি করে।
৩। বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে অন্যতম বড় অবদানকারী দেশ। বাংলাদেশের ভূমিকা:
বাংলাদেশ বহু বছর ধরে বিশ্বের শীর্ষ ৩ কথিত শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের মধ্যে রয়েছে।
১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ৫০টির বেশি মিশনে অংশ নিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধান অংশগ্রহণ:
· কঙ্গো (MONUSCO)
· দক্ষিণ সুদান (UNMISS)
· মালি (MINUSMA)
· হাইতি (MINUSTAH)
· লেবানন (UNIFIL)
· লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ- সবাই অংশ নেয়। বাংলাদেশ এ খাতে প্রতিবছর কয়েকশো মিলিয়ন ডলার আয় করে।
· কথিত শান্তিরক্ষীরা ইহুদীসংঘের পতাকা ও নিজ দেশের পতাকা- দুইটিই ধারণ করে।
৪। মাঠে নেতৃত্ব কারা দেয়?
· মাঠে মিশনের নেতৃত্ব দেয় Force Commander (টঘ নিযুক্ত একজন জেনারেল)
· তার অধীনে বিভিন্ন দেশের সেনারা কাজ করে।
· ইহুদীসংঘ কথিত শান্তিরক্ষা দপ্তর (Department of Peace Operations-DPO) পুরো বিষয়টি পরিচালনা করে।
· নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ:
ভূমিকা দায়িত্ব
UN Security Council মিশনের অনুমোদন দেয়, মেয়াদ ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে।
UN Secretary-General মিশনের প্রধান নিয়োগ করে ও পরিচালনা তদারকি করে।
Troop Contributing Countries (TCCs) সৈন্য, পুলিশ, চিকিৎসক ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
Department of Peace Operations (DPO) মাঠ পর্যায়ের সমন্বয়, লজিস্টিক ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে।
(সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইহুদীদের সাথে গোপন চ্ূিক্তর মাধ্যমে মুসলমানদের ভূমি বিক্রিকারী, সউদী ওহাবী মুনাফিকদের হাকীকত ফাঁস (১ম পর্ব)
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হিজরী দশম শতকের মহান মুজাদ্দিদ, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী বা জীবনী মুবারক (১)
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঘরে ঘরে ক্যান্সার, হৃদরোগ আর অকাল বার্ধক্য। সুস্থ্য থাকতে হলে খাদ্য নিয়ে কাফিরদের চক্রান্ত ও প্রতিকার জানতে হবে (৩)
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
অসংখ্য মুসলমানদের রক্তে যখন ভিজেছিলো বসনিয়ার মাটি (২য় পর্ব)
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
* ঘরে ঘরে ক্যান্সার, হৃদরোগ আর অকাল বার্ধক্য। সুস্থ্য থাকতে হলে খাদ্য নিয়ে কাফিরদের চক্রান্ত ও প্রতিকার জানতে হবে (২)
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা: অসংখ্য মুসলমানদের রক্তে যখন ভিজেছিলো বসনিয়ার মাটি
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইসলামী শক্তির বিপরীতে কুফরী শক্তি! ঈমানী শক্তির বিপরীতে শয়তানী শক্তি! কখনো কি এক হতে পারে?
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ শিল্পের গোড়াপত্তন করেছিলেন আরব মুসলমানগণই
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (২০তম পর্ব)
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (৫)
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হাজিব আল মানসুর: যে সেনাপতি পরাজিত হননি কোনো যুদ্ধে
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র আযানের জন্য ২২ জন মুসলমানের শহীদ হওয়ার ঈমানদীপ্ত ঘটনা
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












