‘গরুর গোস্তে রোগ আছে’ এই সংক্রান্ত বাতিল হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব
(ধারাবাহিক পর্ব- ০৮)
, ০৭ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
গরুর গোশত খাওয়া সুন্নত কি-না?
তাছাড়া হযরত মুহম্মদ ইবনে ইউসুফ ছালেহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্ববিখ্যাত সীরাতগ্রন্থ ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ’ উনার মধ্যে উপরোক্ত হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করেছেন। আর সেই বাবের নাম দিয়েছেন-
فيما أكله صلى الله عليه وسلم من لحوم الحيوانات
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে সমস্ত প্রাণীর গোশত খেয়েছেন। (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ৭/১৮৬)
এখান থেকেও প্রমাণিত হয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গরুর গোশত খেয়েছেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন-
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِخَمْسٍ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ لاَ نُرَى إِلاَّ الْحَجَّ فَلَمَّا دَنَوْنَا مِنْ مَكَّةَ أَمَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ إِذَا طَافَ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ أَنْ يَحِلَّ قَالَتْ فَدُخِلَ عَلَيْنَا يَوْمَ النَّحْرِ بِلَحْمِ بَقَرٍ فَقُلْتُ مَا هَذَا قَالَ نَحَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَزْوَاجِهِ قَالَ يَحْيَى فَذَكَرْتُهُ لِلْقَاسِمِ فَقَالَ أَتَتْكَ بِالْحَدِيثِ عَلَى وَجْهِهِ
অর্থ: পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস উনার পাঁচ দিন বাকি থাকতে আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে পবিত্র হজ্জ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। যখন আমরা পবিত্র মক্কা শরীফ উনার কাছাকাছি পৌঁছলাম, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আদেশ মুবারক করলেন, যার সাথে পবিত্র কুরবানীর পশু নেই তিনি যেন পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করেন এবং ছাফা-মারওয়ায় সাঈ করে হালাল হয়ে যান। উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র কুরবানীর দিন আমাদের কাছে ‘গরুর গোশত’ আনা হলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি? উনারা বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পক্ষ হতে পবিত্র কুরবানী করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ: হাদীছ শরীফ নং ১৭০৯)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحَرَ عَنْ آلِ سيدنا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بَقَرَةً وَاحِدَةً
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিদায় হজ্জ মুবারকে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ: হাদীছ শরীফ নং ১৭৫০, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৪/২০৫)
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও গরু জবাই করেছেন, গরুর গোশত খেয়েছেন। এমন অনেক বর্ণনা রয়েছে।
এ সকল বর্ণনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো, গরুর গোশত খাওয়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সুন্নত, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুন্নত এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সুন্নত। সুবহানাল্লাহ!
আর একারণেই যুগ যুগ ধরে মুসলমানগণ গরু কুরবানী করে আসছেন, গরুর গোশত খেয়ে আসছেন। এটা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার একটি শিয়ার বা নিদর্শন মুবারকে পরিণত হয়েছে। সেটাই হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, গরুর গোশত খাওয়া এই অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য ইসলামের শিয়ার বা বৈশিষ্ট্যের প্রতীক। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে মুসলমানদের জন্য দায়িত্ব হচ্ছে, কিয়ামত পর্যন্ত গরুর গোশত খাওয়া চালু রাখা।
তাহলে এটা কি করে চিন্তা করা যায়, যে বস্তুর মধ্যে রোগ থাকবে সেই বস্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দাদের জন্য হালাল করবেন, এটাকে কুরবানীর পশুর অর্ন্তভুক্ত করবেন, এই পশুর যাকাতও ফরয করবেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই পশু কুরবানী করবেন এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে খেতে দিবেন। প্রকৃতপক্ষে এটা কখনোই সম্ভব নয়। তাই মুসলমানগণ যুগ যুগ ধরেই গরুর গোশত খেয়ে আসছেন। শুধু তাই নয় গরুর গোশতের জন্য অসংখ্য মুসলমানদেরকে শহীদও করা হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!
কাজেই ‘গরুর গোশতে রোগ আছে’ এ সংক্রান্ত সমস্ত বর্ণনাগুলো বাতিল, মওযু, মিথ্যা এবং ইজরায়েলী রেওয়ায়েত। যারা এসব মিথ্যা হাদীছ বিশ্বাস করবে তাদের ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে, তারা কাট্টা কাফির হয়ে যাবে। নাঊযুবিল্লাহ!
যে সমস্ত নামধারী আলিম এসব মিথ্যা হাদীছ প্রচার করে সাধারণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করছে, তারা মূলত পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত উলামায়ে সূ এবং দাজ্জালে কায্যাব তথা মিথ্যাবাদী দাজ্জাল। এদের থেকে দূরে থাকা সমস্ত মুসলমানদের জন্য ফরয। (সমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সীমালঙ্ঘনকারী কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِّنْ مَّالٍ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উট, গরু এবং মহিষ কুরবানীর ক্ষেত্রে শরীকানা বা একাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত (২)
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দশনসমূহের তিনটি বিষয় উনাদেরকে খাছ করে সম্মান করা ফরয
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












