‘গরুর গোস্তে রোগ আছে’ এই সংক্রান্ত বাতিল হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব
, ০১ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক পর্ব- ০৬)
উল্লেখিত চারটি হাদীছের প্রথম তিনটি সনদের দিক থেকেই বাতিল প্রমাণিত হলো। আর শেষের হাদীছটির সনদ সর্বোচ্চ দুর্বল বলা যেতে পারে। কিন্তু ইবনে কাইয়্যুমের বক্তব্য অনুযায়ী এটার সনদও প্রমাণিত নয়।
তবে সনদের দিক থেকে এটা দুর্বল হলেও মতনের দিক থেকে পুরাই বানোয়াট, মিথ্যা, জাল হাদীছের অন্তর্ভুক্ত। কারণ উল্লেখিত হাদীছগুলো পবিত্র কুরআন শরীফ ও ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের সম্পূর্ণ খিলাফ। নাঊযুবিল্লাহ!
আরেকটা বিষয় হচ্ছে- গরুর দুধ সম্পর্কে মূল যে বর্ণনা রয়েছে সেখানে ‘গরুর গোশতে রোগ আছে’ এই অংশটা নেই। আর সেই বর্ণনাটাকে সকলেই ছহীহ বলেছেন। যা ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, ইমাম ত্বহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারাসহ অনেকেই বর্ণনা করেছেন। যা হযরত ইমাম সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উপরোক্ত বর্ণনাগুলোর আলোচনা করার পর বলেন-
وأصل هذا الحديث قد أخرجه النسائي والطحاوي وصححه ابن حبان والحاكم من رواية طارق عن ابن مسعود رضى الله تعالى عنه مرفوعًا: مَا أَنْزَلَ اللهُ دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً , فَعَلَيْكُمْ بِأَلْبَانِ الْبَقَرِ , فَإِنَّهَا تَرُمُّ مِنْ كُلِّ الشَّجَرِ "، ورجاله ثقات، وهكذا أخرجه أبو نعيم في "الطب" وفي بعض طرقه عنده أيضًا: "تداووا بألبان البقر فإني أرجو أن يجعل الله فيه شفاء، أو بركة، فإنها تأكل من كل الشجر". انتهى.
অর্থ: এই হাদীছ শরীফের মূল বর্ণনা হলো। যা হযরত ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ইমাম ত্বহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা বর্ণনা করেছেন। হযরত ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত হাকিম নিশাপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা এই বর্ণনাকে ছহীহ বলেছেন। যা হযরত তারিক ইবনে শিহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন কোনো রোগ নাযিল করেননি। যার ঔষধ নাযিল করেননি। তোমরা গরুর দুধ পান করো। কেননা গরু গাছ-গাছালী খেয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ! (আল আজউইবাতুল মারদ্বিয়াহ ১/২৫)
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার রাবীগণ ছিক্বাহ বা বিশ্বস্ত। গরুর দুধে শেফা রয়েছে এমন আরো বর্ণনা রয়েছে যা প্রমাণিত। কিন্তু সেখানে ‘গরুর গোশতে রোগ আছে’ এই অংশটা নেই। তাহলে এখান থেকেও প্রমাণিত যে, গরুর গোশতে রোগ আছে এই বর্ণনাটা বাতিল, ইজরাইলী রেওয়ায়েত।
সাম্প্রতিক কালের বিশিষ্ট হাদীছ শরীফ বিশারদ শায়েখ মুহম্মদ বিন ছালিহ আল উছাইমিন উনাকে ‘গরুর গোশতে রোগ আছে’ এই হাদীছের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো। জবাবে তিনি বলেন-
هذا الحديث الذي فيه أن لحم البقر داء هذا حديث باطل مكذوب على الرسول صلى الله عليه وسلم، ولا يمكن أن يصح إطلاقاً؛ لأن الله سبحانه وتعالى يقول فيما أحل لنا: { وَمِنَ الإِبِلِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْبَقَرِ اثْنَيْنِ قُلْ آلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنْثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنْثَيَيْنِ} [الأنعام:১৪৪] فأباح الله عز وجل لحم البقر، وهل الله تعالى يبيح لعباده ما هو داء؟ لا. لا يمكن أن يبيح ما هو داء، إذاً: فهذا الحديث نعلم أنه مكذوب، وقد خرجه بعض الأخوة من طلبتنا وبين أنه كذب لا يصح عن النبي عليه الصلاة والسلام.
অর্থ: এই হাদীছ যার মধ্যে বলা হয়েছে, ‘গরুর গোশতে রোগ আছে’। এটা একটি বাতিল হাদীছ। এর দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মিথ্যারোপ করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই বিশুদ্ধ হতে পারে না। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যাতে আমাদের জন্য গরুর গোশত হালাল করা হয়েছে। {আর উট থেকে দুটো ও গরু থেকে দুটো (হালাল করেছেন)। আমার মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি বলে দিন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি কি হারাম করেছেন নর দুটি অথবা মাদী দুটি, না মাদী-দুটির গর্ভে যা ধারণ করেছে তা?} [পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৪]
মহান আল্লাহ পাক তিনি গরুর গোশত হালাল করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি কি উনার বান্দাদের জন্য এমন বস্তু হালাল করবেন যার মধ্যে রোগ রয়েছে? কখনোই না। এমন কোন বস্তু জায়িয হতে পারে না যার মধ্যে রোগ রয়েছে। তাই, আমরা এই হাদীছকে মিথ্যা ও বানোয়াট হিসেবেই জানি। আমাদের ছাত্রদের মধ্যে কিছু ভাই এটি বর্ণনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে এটি মিথ্যা এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে ছহীহ হিসেবে বর্ণিত নয়। (লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ৬৩/২৩) (চলবে)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন-
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৫)
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপদেশ মুবারক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তিতির পাখির উপদেশ: একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












