সন্ত্রাসবাদ নয়; জিহাদী যোগ্যতা অর্জন করা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী ফরয।
৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সব নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
, ১১ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিশেষ প্রতিবেদন
‘আবূ দাউদ শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, “মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রোকনা পাহলোয়ানকে কুস্তি মুবারকে ধরাশায়ী করেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
(তবে তা অবশ্যই খেলা হিসেবে নয়; বরং রিসালাতের প্রমাণ ও মু’জিযা মুবারক হিসেবে তিনি রোকনা পাহলোয়ানের সাথে কুস্তি মুবারকে লড়েছেন এবং তাকে পরাস্ত করেছেন।)
উল্লেখ্য, পবিত্র হাদীছ শরীফ বা সম্মানিত শরীয়তে যেসব বিষয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সে বিষয়গুলো কোনো প্রকার খেলার অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে তীর-ধনুক চালনা করা, অশ্বকে প্রশিক্ষণ দেয়া, স্ত্রীর সাথে শরীয়তসম্মত হাসিখুশি করা, সাঁতার কাটা, সুতাকাটা, দৌঁড় অনুশীলন করা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে শিখার জন্য তা‘কীদ দেয়া হয়েছে জিহাদের অংশ হিসেবে; খেলার জন্য নয়। সুবহানাল্লাহ!
কারণ উল্লেখিত বিষয়ের মধ্যে যেমন দ্বীনী ফায়দা রয়েছে, তেমনি দুনিয়াবী ফায়দাও নিহিত রয়েছে। যেমন- তীর চালনা করা, অশ্বকে প্রশিক্ষণ দেয়া, সাঁতার কাটা, দৌঁড় অনুশীলন ইত্যাদি জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণের অন্তর্ভুক্ত এবং স্বাস্থ্যকে সুঠাম ও বলিষ্ঠ রাখার মাধ্যম।
কিন্তু মুসলমান সে আদর্শ ও চেতনা এবং ঐতিহ্য ভুলে গেছে। কেবলমাত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের দেশের নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রায় বাধ্যতামূলক করেছে। তারা আইন করেছে, ১৮ বছরের বেশি সকল পুরুষ কিংবা যারা হাই স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেছে এবং ৩০ বছরের নিচে যাদের বয়স, তাদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। সময়সীমা হবে হাই স্কুল সম্পাদনকারীদের জন্য ৯ মাস এবং যারা সম্পন্ন করেনি তাদের জন্য ২ বছর। মহিলাদের জন্য এ সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ ঐচ্ছিক। অথচ অন্যান্য অনেক অমুসলিম দেশে অনেক আগ থেকেই সাধারণ নাগরিকের জন্যও সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলকভাবে অব্যাহত আছে।
জার্মানির তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে উত্তেজনা মোকাবিলায় তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করে ডিক্রি জারি করেছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।
সিঙ্গাপুরে ১৮ বছর বয়স কাছাকাছি সময়ে, ১৬ বৎসর বয়স থেকে সব পুরুষ ঝরহমধঢ়ড়ৎবধহং ন্যাশনাল সার্ভিস নামক সামরিক প্রশিক্ষণ-এর আওতায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। প্রশিক্ষণ না নিলে ৩ বছরের জেল অথবা ৫০০০ সিঙ্গাপুরী ডলার জরিমানা অথবা উভয় দ- হবে।
ফিলিপাইনে সামরিক প্রশিক্ষণ শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ। এর একটি নাম ঈঅঞ (ঈরঃরুবহ অৎসু ঞৎধরহরহম): বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষা প্রথম ধাপ ৮-১৫ বছর বয়সের মধ্যে। পুরো স্কুলের জন্য চার ঘণ্টা প্রতি সপ্তাহে পুরোপুরি সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সব পুরুষ-মহিলার। পরীক্ষা হবে অন্যান্য বিষয়ের মতো। পাস করা বাধ্যতামূলক।
আর কলেজ, ইউনিভার্সিটির ট্রেনিংকে বলা হয় ঈগঞ (ঈরঃরুবহ গরষরঃধৎু ঞৎধরহরহম): এই কোর্স শুধু পুরুষদের। সপ্তাহে একদিন হিসেবে ২ বছর। এই প্রশিক্ষণ না নিলে ডিগ্রি (স্নাতক) পাস সার্টিফিকেট দেয়া হয় না।
ইউরোপের সুইস যুক্তরাষ্ট্র (ঝরিংং ঋবফবৎধঃরড়হ) ১৮৪৮ এবং ১৮৭৪ সালের আইনের মাধ্যমে সুইস নাগরিকদের জন্য সামগ্রিকভাবে প্রতিরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করে সুইজারল্যান্ডে নাগরিক-সৈনিক সমন্বয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনী সংগঠিত করেছে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরে জার্মানিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে নির্দিষ্ট বয়সের তরুণ-তরুণীদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে, যা ঈরারষরধহং-রহ-ঁহরভড়ৎস নামে চিহ্নিত। যুক্তরাষ্ট্রেও নির্দিষ্ট বয়সের তরুণ-তরুণীদের সাময়িকভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করে (ঈড়হংপৎরঢ়ঃরড়হ) প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক বাহিনীর আকার বৃদ্ধি করে চলেছে। এসব রাষ্ট্রের প্রয়োজন কিন্তু ভিন্ন। সামরিক বাহিনীর উপর সিভিলিয়ান কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এসব ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য নয়। নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে এসব দেশে সামরিক বাহিনীকে এমনভাবে প্রস্তুত রাখা হয়, যেন সঙ্কটকালে বৃহৎকলেবরের বাহিনী জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।
আমাদের দেশেও দেশের প্রথম প্রতিরক্ষা নীতি বাস্তবায়নে যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগী হিসেবে গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বেশি ক্যাডেট কলেজ স্থাপন করে সামরিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী এবং কখনো যুদ্ধ বা অন্য কোনো জরুরী প্রয়োজনে এসব ক্যাডেট ও সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়া লোকজনকে কাজে লাগানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
মূলত, দেশের সাধারণ মানুষকে সামরিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারলে দেশের উপকারের চেয়ে একজন সাধারণ নাগরিকের উপকারই আগে হবে। কারণ প্রশিক্ষিত লোকটি আগের মতো অলস বসে থাকবে না। তার অন্তরে সৃষ্টি হবে এক ধরনের দেশপ্রেম। দেশের এবং পরিবারের যেকোনো বিপদে সবার আগে হাত বাড়িয়ে দেবে প্রশিক্ষিত লোকটি। যত কঠিন কাজই তাকে দেয়া হোক না কেন, কখনো বিরক্তিবোধ করবে না।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নতুন সেনানিবাস ও গ্যারিসন পরিকল্পনার অপরিহার্য রূপরেখা (পর্ব-১৮)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার কথা বলা দ্বীনি এবং সাংবিধানিক অধিকার।
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোল্ডেন রাইস বহুজাতিক কোম্পানির এগ্রিবিজনেসের নতুন হাতিয়ার
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাসদস্যের প্রস্তাবিত স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ এবং ক্লোজ কোয়ার্টার কমব্যাট প্রশিক্ষণ (পর্ব১৫)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যার সাথে মহব্বত, পরকালে তার হাশর-নশর তার সাথেই হবে।” (সহীহ বুখারী, হাদীছ নং- ৬১৬৯)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চিকিৎসা সক্ষমতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সমীকরণ (পর্ব ১৪)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর পার্সোনাল ট্যাকটিক্যাল ও সারভাইভাল লজিস্টিকসের কৌশলগত হিসাব (পর্ব ১৩ : ২য় অংশ)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর পার্সোনাল ট্যাকটিক্যাল ও সারভাইভাল লজিস্টিকসের কৌশলগত হিসাব (পর্ব ১৩ : ১ম অংশ)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে “যুদ্ধের ট্রফি” হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশবাসীকে কর মুক্ত এবং মূল্যস্ফীতি মুক্ত বাজেট তথা শায়েস্তাখাঁর আমলের মত সস্তা দ্রব্য মূল্যের বাজেট এমনিতেই উপহার দেয়া যাবে ইনশাআল্লাহ
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বেশি কাদের?
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রয়োজন শরয়ী সর্বোচ্চ শাস্তি
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












