সীমান্ত-সড়ক নির্মাণ :
৬ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে সেনাবাহিনী
, ০৮ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৫ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ৪ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ২০ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) তাজা খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
একদিকে দুর্গম, অন্যদিকে অনেক উঁচু উঁচু পাহাড়। কোনোটির মাটি নরম, আবার কোনোটির মাটি জমাট সিমেন্টের মতো শক্ত। আগে থেকে কিছু বোঝার উপায় নেই। সমতলের মতো সড়কের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত -দেখে কাজ শুরু করা যায় না। কখনো কখনো পাহাড় কেটে কাজ করে কিছুটা এগোলে দেখা যায় অনেক কষ্টে বানানো কয়েকশ মিটার সড়ক চোখের পলকে ধসে পড়েছে! কোথাও কোথাও পাহাড়ের মাটি একেবারে পাথরের মতো শক্ত। তখন মাটি কাটতে হয় ড্রিল মেশিন দিয়ে। কেবল ২০০ মিটার পাহাড় কেটে সড়কের উপযোগী করতে সময় লাগে এক মাসের বেশি।
মাটির প্রকৃতি বোঝার এই সমস্যার পাশাপাশি আরও অন্তত পাঁচ ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে দুর্গম ও উঁচু পাহাড়ে সড়ক নির্মাণে। এর মধ্যে কোন এলাকা দিয়ে সড়কটি যাবে সেটির পরিকল্পনা করা, নির্মাণ সামগ্রী আনা-নেওয়া, পরিবার-পরিজন ছেড়ে মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে কাজ করতে রাজি থাকা শ্রমিক ম্যানেজ করা, পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তৎপরতা এড়িয়ে চলা বা মোকাবিলা করা এবং যেটুকু সড়ক নির্মাণ করা হয় তা রক্ষণাবেক্ষণ করা- সবগুলোই চ্যালেঞ্জিং।
সেনা কর্মকর্তাদের ভাষায়, সড়ক নির্মাণের শুরুতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় কোন এলাকা দিয়ে সড়ক যাবে সেটি নির্ধারণ। কারণ, কোনো এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ছোট-বড় খাল। আবার কোনো পাহাড়ের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণ বেশ জটিল।
এসব চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করেন -জানতে চাইলে এক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি পাহাড়ের কোন অংশ দিয়ে সড়ক যাবে। তারপরও আমরা অনেক সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার হেডম্যান (নির্দিষ্ট পাহাড়ি এলাকার প্রতিনিধি) এবং বাসিন্দাদের সহযোগিতা নিই। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রথমে পায়ে হেঁটে কিছুদূর গিয়ে দেখি। তারপর পাহাড়ি জঙ্গল পরিষ্কার করে কাজ শুরু করি।
সীমান্ত -সড়ক প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল দেলোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, একেক জায়গার চ্যালেঞ্জ একেক রকম। কোনো কোনো এলাকায় খাল বেশি। সেখানে অপেক্ষাকৃত ব্রিজ কম করে ভিন্ন পথ বের করে কাজ করা হয়। কোথাও মাটি একেবারে নরম, আবার কোথাও বালি আবার কোথাও মাটি একেবারে শক্ত। কোথাও নির্মাণ সামগ্রী নিতে সমস্যা এবং কোথাও একেবারে খাড়া পাহাড়, যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করা কঠিন। এসব এলাকায় নির্মাণ খরচ বেড়ে যায়।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি ইট সমতলে ১০ টাকা, সেটি সীমাš -পর্যš -পৌঁছাতে অনেক সময় ১০০ টাকা পর্যন্ত -খরচ পড়ে যায়। সবমিলিয়ে বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়াটা বেশ জটিল।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং সেনা কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর নানা তৎপরতা সড়ক নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাদের উৎপাতে সন্ধ্যা হলেই কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে দিনের বেলা সেনাবাহিনীর টিম সঙ্গে থেকে শ্রমিকদের কাজ করাতে হয়। চাঁদার টাকা না পেলে কোনো কোনো সময় তারা শ্রমিকদের অপহরণ করে। নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করতে হয়।
এসব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে সড়ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সেনাবাহিনী। সীমান্ত -সড়ক নামে প্রকল্পটির আওতাধীন মোট এক হাজার ৩৬ কিলোমিটার সড়কের প্রায় পুরোটাই পাহাড়ি। কোথাও কোথাও দেশের সবচেয়ে উঁচু উঁচু পাহাড়গুলো ছুঁয়ে সড়ক নির্মাণের কাজ করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৩১৭ কিলোমিটার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
স্যার না বলায় পথে দেয়াল তুলে ৪ পরিবারকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হরমুজে ফি আরোপকে ‘অনিবার্য’ মনে করছে ইউরোপের দেশগুলো
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
জুনে পয়েন্ট কাটা গেল কত চালকের?
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে যান স্বজনরা, দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুই দেশ সফর শেষে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খামেনির লাশ এতদিন কোথায় ছিল
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দখলদার সেনা ক্যারিয়ার'কে বিস্ফোরক ডিভাইস দ্বারা ধ্বংস করেন যোদ্ধারা
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
এবার গুজরাটে ভাঙা হলো ৩টি মসজিদ ও একাধিক মাজার
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যমুনা নদীতে ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি-ফসলি জমি
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রপ্তানি আয় কমেছে ০.৫৮ শতাংশ
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












