হযরত ওয়ায়েস আল ক্বারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দুনিয়া বিরাগী ও দুনিয়ার মুহব্বত দূর করার অমূল্য নছীহত
, ২৫ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১০ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ০৮ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ২৪ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এ প্রসঙ্গে বলা হয়- হযরত হারাম ইবনে হাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন তাবেয়ী ছিলেন, একজন বিশিষ্ট বুযুর্গ, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, হযরত ওয়ায়েস আল ক্বারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম শুনেছেন। উনার মনে একটা আরজী ছিল, হযরত ওয়ায়েস আল ক্বারনী খাইরুত তাবেয়ীন, যিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরে শ্রেষ্ঠ মানুষ। হযরত হারাম ইবনে হাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন যে, আমার মনে ইচ্ছা হলো আমি উনার সাক্ষাৎ লাভ করি। কিন্তু তিনি যেহেতু জঙ্গলে জঙ্গলে ছিলেন, কি করে সাক্ষাৎ হবে? আমি একবার মানুষের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে এক জঙ্গলে গেলাম। উনার সাক্ষাতের আশায় ঘুরতে লাগলাম। হঠাৎ দেখলাম একজন লোক জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসলেন। আমি উনাকে চিনি না, জানিনা। কখনো আমার সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। এসে তিনি সরাসরি আমাকে বললেন, হে হারাম ইবনে হাব্বান! আপনি আমাকে তালাশ করতেছেন কেন? হযরত হারাম ইবনে হাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাজ্জব হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, হুযূর! বেয়াদবী মাফ করবেন, আপনি কি হযরত ওয়ায়েস আল ক্বারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। মানুষ আমাকে সেটা বলে থাকে। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম হুযূর! আপনি আমার নাম ও আমার পিতার নাম কি করে জানলেন? হযরত ওয়ায়েস আল ক্বারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, যে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, সেই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে জানিয়েছেন আপনার নাম, আপনার পিতার নাম। আপনি আমাকে কেন তালাশ করছেন? তিনি বললেন, আমি তালাশ করছি আপনার ছোহবত ইখতিয়ার করার জন্য। আপনার সাথে আমি কিছুদিন থাকতে চাই। আপনি যদি আমাকে অনুমতি দেন, এজাযত দেন, তাহলে আপনার ছোহবতে আমি কিছুদিন থাকতে ইচ্ছুক। হযরত ওয়ায়েস আল ক্বারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমার সাথে আপনি কি করে থাকবেন। আমার তো থাকার কোন স্থায়ী জায়গা নেই। আমি ঝোঁপে, ঝাড়ে, জঙ্গলে, পাহাড়ে, পর্বতে কাটিয়ে থাকি। দিন নেই, রাত্র নেই, একেক সময় একেক জায়গায় থাকি, আপনি কি করে আমার সাথে থাকবেন? তিনি বললেন, হুযূর! আপনি যেখানে থাকেন, যে অবস্থায় থাকেন না কেন, আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। যখন হযরত ওয়ায়েস আল ক্বারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দেখলেন, হযরত হারাম ইবনে হাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কোন মতেই উনাকে ছাড়বেন না অর্থাৎ উনার সাথে তিনি থাকবেনই, তিনি তখন শেষ পর্যন্ত বললেন যে, হে হারাম ইবনে হাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি, আপনি তো আমার সাথে থাকতে চান। কিন্তু আমি বিদায় গ্রহণ করলে আপনি কার সাথে থাকবেন? কার ছোহবত ইখতিয়ার করবেন? তিনি বললেন, হুযূর! আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ছোহবত ইখতিয়ার করবো। তখন হযরত ওয়ায়েস আল ক্বারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, যদি তাই হয়ে থাকে, তবে এখন থেকেই আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার ছোহবত ইখতিয়ার করুন। আমার সাথে কেন থাকবেন? মহান আল্লাহ পাক উনার সাথেই থাকুন। কারণ দুনিয়ার মুহব্বত থেকে মানুষের দূরে থাকা উচিত। দুনিয়ার মুহব্বত ছেড়ে দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে গরক্ব থাকা উচিত। এটা প্রত্যেক মানুষের জন্যই দায়িত্ব এবং কর্তব্য।
কাজেই আপনি প্রথম থেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার ছোহবতে থাকুন। তাহলে আপনার ইহকাল কামিয়াব হবে, পরকালও কামিয়াব হবে। এরপর হযরত হারাম ইবনে হাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন যে, কথা যখন শেষ হয়ে গেল, হযরত ওয়ায়েস আল ক্বারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জঙ্গলের দিকে রওয়ানা হলেন। কিছুদূর গিয়ে তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন, গায়েব হয়ে গেলেন। এরপর আমি উনাকে আর খুঁজে পেলাম না। কিন্তু তিনি আমাকে যে নছীহত করে গেলেন, প্রত্যেক জ্বিন-ইনসান, মানুষের উচিত, সে অমূল্য নছীহত গ্রহণ করে ইবরত হাছিল করা।
কাজেই প্রত্যেক মুসলমানেরই উচিত, সে যেন মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে গরক্ব থাকে। কারণ দুনিয়ার মুহব্বত, দুনিয়ার শান-শওকত, চাকচিক্য অবশ্যই মানুষকে ধোঁকা দিবে। সেই ধোঁকাকে অতিক্রম করে, ডিঙ্গিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে মশগুল থাকতে হবে। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমানদের সৃষ্টি করেছেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী ও সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য। যেটা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে-
اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
দুনিয়া হচ্ছে মু’মিনদের জন্য কারাগার, আর কাফেরদের জন্য হচ্ছে বালাখানা, জান্নাত।
অর্থাৎ কাফিররা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে, তাদের যা মনে হয়, যা ইচ্ছা হয়, সেটাই তারা করতে পারে। তাদের কোন বাঁধা ধরা নিয়ম নেই। কোন আইন-কানুন নেই। কিন্তু মৃত্যুর পরে তারা জাহান্নামে যাবে, আর মুসলমানরা তাদের নিজস্ব মন মত কোন কাজ করতে পারবেনা। প্রত্যেকটা কাজে মহান আল্লাহ পাক উনার মতে মত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পথ হতে হবে, তাহলে তার কামিয়াবী। যেমন কারাগারে যে বন্দী থাকে, তাকে যেমন অন্য ব্যক্তির কথা মোতাবেক চলতে হয়। সেরকম, মুসলমান জমিনের মধ্যে থাকবে- মহান আল্লাহ পাক ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মতের সাথে মত মিলিয়ে দিবে। তার ব্যতিক্রম চলার কোন ক্ষমতা তার নেই। যদি কেউ চলে তাহলে তার জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি এবং আযাব-গযব রয়েছে। আর যে উনাদের আনুগত্যতা প্রকাশ করবে, তার জন্য কামিয়াবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদ করা ফরজে আইন
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে কোন গুনাহর কাজ সংগঠিত হলে উপায় কি?
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বিয়ামতের আলামত তিনটি-
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (১)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফিরদের কপটতা ও দ্বি-চারিতা নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সতর্কবার্তা
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়তে মদ ও জুয়া হারাম
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












