পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
, ১৯ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক)
হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। একটি দীর্ঘ হাদীছ শরীফ উনার এক অংশে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ، وَأَبُو مَالِكٍ عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ حَضْرَتْ حُذَيْفَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ، قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم " يَجْمَعُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى النَّاسَ فَيَقُومُ الْمُؤْمِنُونَ حَتَّى تُزْلَفَ لَهُمُ الْجَنَّة......... فَيَأْتُونَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَيَقُومُ فَيُؤْذَنُ لَهُ وَتُرْسَلُ الأَمَانَةُ وَالرَّحِمُ فَتَقُومَانِ جَنَبَتَىِ الصِّرَاطِ يَمِينًا وَشِمَالاً فَيَمُرُّ أَوَّلُكُمْ كَالْبَرْقِ قَالَ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَىُّ شَىْءٍ كَمَرِّ الْبَرْقِ قَالَ " أَلَمْ تَرَوْا إِلَى الْبَرْقِ كَيْفَ يَمُرُّ وَيَرْجِعُ فِي طَرْفَةِ عَيْـن
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আখিরাত সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন- “মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা মানুষদের জমা করবেন এবং মু’মিন ব্যক্তিগণ দাঁড়িয়ে থাকবেন যতক্ষণ না জান্নাতকে উনাদের নিকটবর্তী করা হয়।.............. এক পর্যায়ে সবাই আসবেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে যিনি জান্নাত উনার দরজা মুবারক খোলার জন্যে অনুমতিপ্রাপ্ত। বিশ্বাসী ও আত্মীয়-স্বজনদেরকে বের করা হবে এবং উনারা পথের ডান ও বামদিকে অবস্থান করবেন। (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,) “প্রথমেই আপনারা (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) বিদ্যুৎ গতিতে পার হয়ে যাবেন।” বর্ণনাকারী বলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্যে কুরবান! কোন জিনিসটা বিদ্যুতের গতিতে পার হতে পারে?”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “আপনারা কি বিদ্যুৎ চমকানো দেখেননি? কেমন করে তা প্রবাহিত হয় এবং ফিরে যায় চোখের পলকের মধ্যে।” (ছহীহ মুসলিম শরীফ ১ম খ-, হাদীছ শরীফ নং ৩৮০ ও ৩৯০)
এই হাদীছ শরীফখানায় বর্ণিত বিদ্যুৎ চমকানোর বিষয়টি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে একটি অলৌকিক বর্ণনা। কেননা, এখানে বিদ্যুৎ চমকানোর যে বর্ণনা রয়েছে তা অতি সম্প্রতি তথাকথিত বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পেরেছে।
সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, বিদ্যুৎ চমকানোর সময় মেঘ থেকে বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গ যমীনে নেমে আসে কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে যে, বিদ্যুৎ চমকানোর সময় বিদ্যুৎ মেঘ থেকে যমীনের দিকে যেমন প্রবাহিত হয় তেমনি যমীন থেকে মেঘের দিকেও প্রত্যাবর্তন করে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার থেকে তিনটি তথ্য পাওয়া যায়-
১. বিদ্যুৎ চমকানোর প্রথম পর্যায়: মেঘ থেকে বিদ্যুৎ যমীনের দিকে প্রবাহিত হওয়া।
২. বিদ্যুৎ চমকানোর শেষ পর্যায়: যমীন থেকে মেঘের দিকে বিদ্যুৎ প্রত্যাবর্তন করা বা ফিরে যাওয়া।
৩. বিদ্যুৎ চমকানোর সময়কাল: চোখের পলকের মধ্যে
طرق غين অর্থাৎ অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে পুরো ঘটনাটি সংঘটিত হওয়া।
বিদ্যুৎ চমকানোর ব্যাখ্যা:
বিদ্যুৎ চমকানো একটি প্রাকৃতিক বিষয়। যেখানে আকাশের মেঘ এবং যমীনের মাঝে উচ্চ ভোল্টেজের কারণে মেঘ ও যমীনের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে মেঘের চার্জগুলি ডিসচার্জ (প্রশমন) হয়।
বিদ্যুৎ চমকানোর মধ্যে ৩টি বিষয় জড়িত-
১. উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ চার্জ জমা হওয়া।
২. দৃশ্যমান আলোক স্ফুলিঙ্গ বা বিদ্যুৎ চমকানো।
৩. শব্দ বা বজ্রধ্বনি।
ঝড় বৃষ্টিকালীন মেঘ: সাধারণত ঝড়-বৃষ্টির সময় মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ চমকায়। যে মেঘে বিদ্যুৎ চমকায় তার নাম কিমিউলোনিমবাস (পঁসঁষড়হরসনঁং)। তিনটি পর্যায়ে এ মেঘ থাকে।
(১) গঠন পর্যায়: সূর্যের তাপে যমীনের পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে যায় এবং উপরে ঠা-া হয়ে পানি ও বরফ কণায় পরিণত হয়। আর্দ্র ও গরম বাতাসের উর্ধ্বমুখী প্রবাহের ফলে উপরের দিকে এই মেঘ গঠন চলতে থাকে।
(২) পূর্ণাঙ্গ পর্যায়: পানি ও বরফ কণা আরও উপরে উঠে ক্ষুদ্র শিলা খন্ড বা তুষার কণায় পরিণত হয়। এই ঠা-া ও ভারী শিলা খন্ড নীচে নামতে থাকলে নিম্নমুখী প্রবাহ তৈরী হয়। এভাবে পরম উর্ধ্বমুখী ও ঠা-া নিম্নমুখী দমকা বাতাস ক্রমাগত বইতে থাকলে এই মেঘে ঝড় বৃষ্টি হয় ও বিদ্যুৎ চমকায়।
(অসমাপ্ত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (২)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সেদিন আমার ক্বইয়ূমিয়াতের হাল এমনভাবে প্রবল হয়েছিল যে, আমি যদি আসমানকে যমীন এবং যমীনকে আসমান হতে বলতাম তাহলে তাই হতো।” সুবহানাল্লাহ!
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারের সঠিক তারিখ প্রসঙ্গে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (১)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদেরকে ঈমান থেকে সরিয়ে দিতে কাফিরগুলো সবসময় চেষ্টা করে থাকে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












