মহিলা ছাহাবী উনাদের জীবনী মুবারক:
হযরত উম্মে সুলাইম বিনতু মিলহান বিন খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা (৩)
, ২২ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৩ হাদী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ০২ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রি:, ১৯ চৈত্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
বিদুষী হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা কয়েকখানা হাদীছ শরীফ রেওয়ায়েত করেছেন। তিনি ফিকাহের মাসয়ালা মাসায়েলেরও ভাল জ্ঞান রাখতেন।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমার মা হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সম্মানিত আহাল হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পক্ষের আবু উমাইর নামে একজন ছোট ছেলে ছিলেন। যিনি আমার বৈপিত্রীয় ভাই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের বাড়ীতে তাশরীফ মুবারক নিয়ে উনার সাথে মাঝে মধ্যে খুশি প্রকাশ করতেন। একদিন উনার আদরের “নুগাইর” নামে পাখিটি মারা যাওয়ায় তিনি মুখ ভার করে বসেছিলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে খুশি করার জন্য বলেছিলেন-
يَا اَبَا عُمَيْرٍ + مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ
(ইয়া আবা উমাইর, মা ফাআলান নুগাইর)- হে আবু উমাইর, আপনার নুগাইরটি কি করছে? উল্লেখ্য যে, নুগাইর লাল ঠোঁট বিশিষ্ট চড়ূই পাখির মত এক প্রকার ছোট পাখি। আবু উমাইর রোগগ্রস্ত থাকা অবস্থায় একদিন হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদে নববীতে গমন করেন। এদিকে উনার এই পুত্র তিনি ইন্তিকাল করেন। উনাকে দাফন-কাফন সম্পন্ন করা হয়, এদিকে রাত্রে কিছু ছাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাড়ী ফিরলেন। হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি সকলের জন্য খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। অতঃপর মেহমানগণ বিদায় হলে হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়া (স্ত্রী) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে পুত্রের কথা জিজ্ঞাসা করলেন। হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, আগের তুলনায় ভাল। অতঃপর উনারা একত্রে শয়ন করলেন। শেষ রাত্রের দিকে হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে পুত্রের ইন্তেকালের সংবাদ দিয়ে প্রবোধ দিলেন যে, পুত্র ছিল আমাদের নিকট গচ্ছিত মহান আল্লাহ পাক উনার আমানত। যাঁর আমানত তিনি উহা উঠিয়ে নিয়েছেন। উহাতে আমাদের দুঃখ করা ঠিক নয়। হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়লেন এবং ছবর করলেন। সকালে হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ঘটনাটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট বর্ণনা করলে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এই রাত্রিটি তোমাদের উভয়ের জন্য বরকতময় রাত্রি ছিল। সেই রাত্রেই তিনি সন্তান সম্ভাবা হন এবং পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে উনার নাম রাখা হয় “আবদুল্লাহ”। পরবর্তীকালে তিনি একজন বিশিষ্ট হাদীছ শরীফ বিশারদ হয়েছিলেন।
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনভী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত তামাযির খুনসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৩)
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দান-ছদকাহ বালা-মুসিবত দূর করে
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ব্যতীত ইবাদত মূল্যহীন
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (১)
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












