হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি অকৃত্রিম মুহব্বতই উসমানীয়দের বিজয় রহস্য
, ২৬ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, সাবধান! আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতির ন্যায়। যে তাতে আরোহন করবে, সে রক্ষা পাবে। আর যে তা হতে পশ্চাতে থাকবে সে ধ্বংস হবে।”
এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারক উনার মূলনীতি আকড়ে ধরাই মুসলিম মননে একটি লালিত স্বপ্ন। আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইতিহাসে যারাই কোশেশ করেছেন, উনারাই হয়েছেন কামিয়াব এবং চিরস্বরণীয়। বিশেষ করে মুসলিম ইতিহাসে যতগুলো সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেগুলো সবই এই মহানিয়ামতপূর্ণ নীতি মুবারক উনার উপর ইস্তেকামত থাকার কারণেই বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
ইতিহাসে মুসলমানদের সর্বশেষ শক্তিশালী সালতানাত ছিলো উসমানীয় সালতানাত। এই সালতানাতের উত্থানের পেছনে বিভিন্ন কারণ ব্যাখ্যা করা হলেও বাস্তবিকপক্ষে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি উসমানীয়দের অকৃত্রিম মুহব্বত মুবারকই উসমানীয়দের হাক্বীক্বী বিজয় রহস্য।
উসমানীয় সালতানাতের সব সুলতানই তাদের জীবনকর্মে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি মুহব্বত মুবারকের প্রতিফলন ঘটানোর কোশেশ করেছেন। উসমানীয় সুলতান প্রথম আহমদের দিকে দৃষ্টি দিলেই বোঝা যায়, উসমানীয়রা কতটা নববী ইশকে দিওয়ানা ছিলেন।
উসমানীয় সুলতান প্রথম আহমদ মাত্র ১৪ বছর বয়সে উসমানীয় সালতানাতের হাল ধরেছিলেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি উসমানীয় সালতানাতে তৈরী হওয়া বিধর্মীদের নানা রীতি- রেওয়াজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। উসমানীয়দের ভোগ বিলাসের নীতিগুলোর মূলোৎপাটন করেন।
তবে এসব কাজ সহজ ছিলো না তৎকালীন প্রেক্ষাপটে। কারণ তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন তখন উসমানীয় সালতানাত ভঙ্গুর অবস্থায়। সর্বত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিলো। পাশ্ববর্তী সাফাভী শিয়ারা এ সুযোগে উসমানীয় অঞ্চলগুলোতে হামলা চালাচ্ছিলো। তবে এতকিছুর পরও সুলতান প্রথম আহমদ ঘাবড়ে যাননি। দুঃসাহসিক নানা পদক্ষেপে তিনি এসব বিদ্রোহের মোকাবেলা করেছিলেন।
আর এই সৎসাহস এবং নির্ভূল পদক্ষেপের মূলেই ছিলো উনার একটি আমল। যা তুর্কি সাহিত্যিকরাও তাদের কবিতায় উল্লেখ করেছেন। আমলটি হলো-
“যখনই সুলতান বিপদে পড়তেন তিনি গভীর রাতের অপেক্ষায় নির্ঘুম থাকতেন। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়তো তখন তিনি চুপিচুপি হাজির হতেন তোপকাপি প্রাসাদের আমানতখানায়। এই আমানতখানায় হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংশ্লিষ্ট নিদর্শন মুবারকসমূহ সংরক্ষিত ছিলো। তিনি সেই মুবারক নিদর্শনসমূহ বুকে আকড়ে ধরে কিছুক্ষন নীরব থাকতেন এবং কাঁদতেন। এরপর রোনাজারী করে বলতেন, “ইয়া হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার তরে জানমাল কুরবান। আপনি এবং আপনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা দয়ার সাগর। আমি পাপিষ্ঠ। আমি অন্যান্য সুলতানদের মতো শক্তিশালী নই। কিন্তু আপনারা সব শক্তির মূল। আপনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উছীলায় আমাকে বিধর্মী এবং মুনাফিকদের উপর বিজয় অর্জন করার তাওফিক মুবারক দিন। আমিন!”
এভাবে সকাল হয়ে যেত এবং তিনি খবর পেতেন, যে বিপদ কিংবা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিলো তার সমাধান হয়ে গেছে কিংবা সমাধানের উপায় পাওয়া গেছে। সুবহানাল্লাহ! এরপর তিনি উসমানীয় সালতানাতে থাকা সম্মানিত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য হাদিয়া পাঠাতেন এবং জশনে জুলুসের আয়োজন করতেন। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদী ও মূর্তিপূজারী মুশরিকরা
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও গ্রহণযোগ্য (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ভোট, নির্বাচন, পদপ্রার্থী হওয়া ইত্যাদি কোনটিই জায়িয নেই
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












