জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
বিলাদত শরীফ: (তারিখ উল্লেখ নেই) বিছাল শরীফ: ৪৩ হিজরী (৬৬৩ খৃ:)
, ১৫ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
বিছাল শরীফ:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হিজরী ৪৩ সনে (৬৬৩ খৃ:) হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফত আমলে পবিত্র মদীনা শরীফে বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
উনার আওলাদ:
উনার দুইজন পুত্র ছিলেন। উনাদের নাম হযরত ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনাদের উভয়ের বিলাদত শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক অবস্থায়। হযরত ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন বয়সে বড়। উনার বিলাদত শরীফের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে কোলে নেন, মাথায় হাত রাখেন এবং ইউসুফ নাম রাখেন। (মুসনাদ)
ফযীলত ও মর্যাদা:
যে সমস্ত ইয়াহুদী বিদ্বান ও শিক্ষিত লোক নির্দ্বিধায় দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাদের মধ্যে একজন আদর্শ ব্যক্তি। তিনি তাওরাত শরীফে উল্লেখিত সুসংবাদ অনুসারে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রথম দেখাতেই রসূল হিসাবে স্বীকার করেছিলেন। তিনি স্বগোত্রীয় ইয়াহুদীদের চক্রান্ত হতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রক্ষার চেষ্টা করতেন।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ফযীলত ও মর্যাদা ছিলো অতি উচ্চে। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট আলিম ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অন্যতম।
বিখ্যাত ছাহাবী হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিছাল শরীফের সময় ঘনিয়ে আসলে লোকেরা উনাকে বললেন, আমাদেরকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, “আমি দুনিয়া থেকে চলে যাচ্ছি। তবে আমার সাথে ইলিম উঠে যাচ্ছে না। যে ব্যক্তি তা তালাশ করবে, সে লাভ করবে। তোমরা হযরত আবু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের নিকট ইলিম তালাশ করবে। আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি: তিনি দশম জান্নাতী ব্যক্তি।” (উসুদুল গাবা, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, হায়াতুছ ছাহাবা)
হযরত সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি একমাত্র হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ছাড়া পৃথিবীতে বিচরণকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ কথা বলতে শুনিনি; তিনি একজন জান্নাতের অধিকারী ব্যক্তি। উনারই সম্পর্কে নাযিল হয়েছে সূরা আল-আহক্বাফের ১০নং আয়াত শরীফটি। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
এতদ্ব্যতীত আরো কতিপয় হাদীছ শরীফে উনার সম্পর্কে বেহেশতের সুসংবাদ বিদ্যমান।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। একবার হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, ভাই! আমাদের দুই জনের মধ্যে যে আগে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে তাকে স্বপ্নে দেখার চেষ্টা করবে যে জীবিত থাকবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, এটা কি সম্ভব? হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, হ্যাঁ; সম্ভব। ঈমানদার ব্যক্তির রূহ মুক্ত থাকে। পৃথিবীর যেখানে ইচ্ছা যেতে পারে। আর কাফির ব্যক্তির রূহ থাকে বন্দী।
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বিছাল শরীফ গ্রহণ করলেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, একদিন আমি মধ্যরাতে ঘুমিয়ে পড়েছি। হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এসে আমাকে সালাম দিলেন। আমি সালামের জবাব দিয়ে বললাম, আবু আবদিল্লাহ! আপনি আপনার বাসস্থান কেমন পেয়েছেন? তিনি বললেন, ভালো। আপনি তাওয়াক্কুল (মহান আল্লাহ পাক উপর নির্ভরতা) আঁকড়ে থাকবেন। তাওয়াক্কুল খুব ভালো জিনিষ। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। (তাবাকাত, হায়াতুছ ছাহাবা) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়: যা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার কেন্দ্র।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যে ব্যক্তি ইছলাহ বা সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য ধন-দৌলত খরচ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে তিনটি নিয়ামত দান করবেন-
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ব্যবসা করা হালাল ও সুন্নত আর সুদ হারাম
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন, খলীফায়ে ছানী, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় নছীহতমূলক ঘটনা
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












