জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
বিলাদত শরীফ: ৬০৮ খৃ: বিছাল শরীফ: ৭৪ হিজরী (৬৯৪ খৃ:) বয়স মুবারক: ৮৭ বছর।
, ০৬ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ০৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ফযীলত ও মর্যাদা:
আইউব ইবনে ওয়াইল আর-রাসিবী বলেন, একদিন হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাতে চার হাজার দিরহাম ও একটি মখমলের চাদর আসলো। পরদিন বর্ণনাকারী তিনি হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেখলেন, বাজার থেকে উনার সওয়ারী পশুর জন্য বাকিতে (কর্জ করে) খাদ্য কিনছেন। ইবনে ওয়াইল তখনই হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়ীতে গিয়ে উনার পরিবারের লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন, গতকালই কি হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাতে চার হাজার দিরহাম ও একটি মখমলের চাদর আসেনি? উনারা বললেন, হ্যাঁ; ইবনে ওয়াইল বললেন, আজ আমি উনাকে বাজার থেকে বাকিতে পশুর জন্য খাদ্য ক্রয় করতে দেখলাম। উনারা বললেন, সেগুলো তো তিনি রাত পোহানোর আগেই বিলিয়ে দিয়েছেন। তারপর সেই চাদরটি কাঁধে করে বাইরে গেলেন, যখন বাড়ী ফিরলেন; দেখা গেল সেটিও নেই। জিজ্ঞাসা করলে বললেন, ফকীরদের দান করে দিয়েছি। এ কথা শুনে ইবনে ওয়াইল হাতে আওয়াজ দিতে দিতে বাজারের দিকে ছুটলেন এবং একটি উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললেন, ওহে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! তোমরা দুনিয়া দিয়ে কি করবে? এই যে হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাতে চার হাজার দিরহাম আসলো, আর তিনি সেগুলি বিলিয়ে দিলেন। আর সকাল বেলা ধার-কর্জ করে পশুর জন্য খাদ্য কিনলেন।
হযরত নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি প্রত্যেক রাত্রে উনার গৃহবাসী সকলকে খাদ্য গ্রহণের জন্য (একস্থানে) একত্র করতেন। তিনি আরো বলেন, কোন কোন সময় মিসকীনের হাঁক শুনতে পেলে তিনি স্বয়ং দাঁড়িয়ে উঠে গোশত ও রুটি মিসকীনকে দান করতেন। এভাবে খাদ্য শেষ হয়ে যেত। আমি যদি ইহা থেকে আলাদা করে কিছু উনার জন্য রেখে দিতাম, তা তিনি খেয়ে নিতেন। অতঃপর সকালে রোযাদার হিসাবে গাত্রোত্থান করতেন। (ইবনে সা’দ, হায়াতুছ ছাহাবা)
হযরত নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বর্ণনা করেন, একবার হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি অসুস্থ হলেন। উনার জন্য এক দিরহাম দিয়ে এক ঝুড়ি আঙ্গুর ক্রয় করা হলো। এ সময় একজন মিসকীন উপস্থিত হলো। তিনি বললেন, ইহা মিসকীনকে দিয়ে দাও। তার পেছনে একজন লোক এসে এক দিরহাম দিয়ে উক্ত আঙ্গুর তার নিকট থেকে ক্রয় করে নিলো। সেই ব্যক্তি উক্ত আঙ্গুরের ঝুড়ি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে হাদিয়া দিয়ে চলে গেল। তৎপর উনার নিকট অপর এক মিসকীন আসলো। তিনি বললেন, আঙ্গুরের ঝুড়িটি মিসকীনকে দিয়ে দাও। উহা তাকে দিয়ে দেয়া হলে, অপর এক ব্যক্তি এসে উক্ত ঝুড়িটি মিসকীন থেকে এক দিরহাম দিয়ে ক্রয় করে হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে হাদিয়া দিলেন। পুনরায় একজন মিসকীন আসলে তা তিনি পুনরায় সেই মিসকীনকে দিয়ে দিতে বললেন। ইহা দিয়ে দেয়া হলে, পূর্বের ন্যায় অপর এক ব্যক্তি এক দিরহাম দিয়ে তা খরিদ করে উনাকে হাদিয়া দিতে চাইলেন। কিন্তু তিনি এবার ঝুড়িটি গ্রহণ করলেন না। যদি তিনি জানতেন যে, ঝুড়িটি পুনরায় গ্রহণ করা হয়েছে, তা থেকে তিনি কিছুই খেতেন না। (হিলইয়া)
অন্য বর্ণনায় আছে, হযরত নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি অসুস্থ অবস্থায় আঙ্গুর খেতে ইচ্ছা প্রকাশ করলে আমি এক দিরহাম দিয়ে এক ঝুড়ি আঙ্গুর ক্রয় করলাম। আমি তা উনার হাতে দিলাম। অতঃপর উপরের বর্ণনা অনুযায়ী মিসকীন আসতে থাকলে, আমি তৃতীয় বা চতুর্থ বারে বললাম; তোমার সর্বনাশ হোক! তোমার লজ্জা হয় না? আমি তার নিকট থেকে এক দিরহামে তা ক্রয় করে উনাকে দিলাম। অতঃপর তা তিনি খেলেন। (তবারানী, হায়াতুছ ছাহাবা)
হযরত নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, যে সকল স্থানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নামায পড়েছেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেই স্মৃতিচিহ্নসমূহ অনুসরণ করতেন। এমনকি যেখানে কোন গাছের তলায় বিশ্রাম নিয়েছেন, সেখানে হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নেমে সে বৃক্ষের গোড়ায় পানি ঢালতেন, যেন ইহা শুষ্ক হয়ে না যায়। (ইবনে আসাকির)
তিনি আরো বলেন, যদি তুমি হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রতি লক্ষ্য করতে, কিভাবে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মৃতিচিহ্নসমূহ অনুসরণ করেছেন, তুমি বলতে ইনি একজন পাগল। (হিলইয়া)
মুজাহিদ বলেন, আমরা হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে সফর করছিলাম। তিনি একটি স্থানের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ উক্ত স্থানকে পাশ কেটে (ভিন্ন রাস্তায়) গেলেন। উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি এরূপ কেন করলেন? তিনি বললেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুরূপ করতে দেখেছি। সেজন্য আমি অনুরূপ করেছি। (আহমদ)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মনযিলসমূহে উনার স্মৃতিচিহ্নসমূহ অনুসরণের ব্যাপারে হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অপেক্ষা অধিকতর অনুসরণকারী আর কেউ ছিলো না। (হিলইয়া, হায়াতুছ ছাহাবা) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঈমানদীপ্ত আহ্বান মুবারক
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৯ম পর্ব)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইসলামী শরীয়তে মদ ও জুয়া হারাম
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৭)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৫)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












