জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৭)
বিলাদত শরীফ: ৬০৮ খৃ: বিছাল শরীফ: ৭৪ হিজরী (৬৯৪ খৃ:) বয়স মুবারক: ৮৭ বছর।
, ২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ফযীলত ও মর্যাদা:
উমর বিন হামযাহ বিন আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেন, আমি আমার পিতার (হামযাহ) সঙ্গে বসা ছিলাম। এ সময় একজন লোক পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিল। লোকটি বললো; আমাকে বলুন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে আপনি কি বলেছিলেন, যখন আমি আপনাকে “জরফ” নামক স্থানে উনার সঙ্গে কথা বলতে দেখেছিলাম? বর্ণনাকারী (উমর) বলেন, আমি বলেছিলাম; হে আবু আবদুর রহমান! আপনার শরীর শক্তিহীন হয়ে পড়েছে, বয়স অনেক বেড়েছে। আপনার সঙ্গীরা আপনার মান মর্যাদা জানে না। আপনি যদি আপনার পরিবারকে নির্দেশ দিতেন, উনারা যেন আপনার জন্য এমন কিছু ব্যবস্থা করেন, যাতে উনাদের নিকট আপনি যখন গমন করেন, উনারা যেন আপনার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করতে পারেন। তিনি বললেন, তুমি কি বলছ? মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি বিগত ১৪ বছর থেকে পেট ভরে আহার করিনি, এমন কি একটিবারও পেট ভরে আহার করিনি। তাহলে আমার কি প্রয়োজন আছে? আর আমার তো সামান্য সময় মাত্র বাকী আছে। (হায়াতুছ ছাহাবা)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আযাদকৃত গোলাম উবায়দুল্লাহ ইবনে আদী ইরাক থেকে এসে উনাকে সালাম করে বললেন, আমি আপনাকে একটি বস্তু হাদিয়া দিতে চাই।
হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, তা কি জিনিষ? উবায়দুল্লাহ বললেন, জাওয়ারিস। তিনি বললেন, জাওয়ারিস কি জিনিষ? উবায়দুল্লাহ বললেন, ইহা খাদ্যকে তাড়াতাড়ি হজম করে। অতঃপর তিনি বললেন, গত ৪০ বছর থেকে আমি আমার পেট ভরে আহার করিনি। সুতরাং আমি উহা দ্বারা কি করবো? (হায়াতুছ ছাহাবা)
হযরত ইবনে সিরীন রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; এক ব্যক্তি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললো, আপনি জাওয়ারিস ব্যবহার করুন। তিনি বললেন, জাওয়ারিস কি জিনিষ? লোকটি বললো, যখন কোন খাদ্য বদ-হজম হয়, তখন ইহা হজমে সহায়ক হয়। অতঃপর হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমি চার মাস থেকে পেট ভরে আহার করিনি। কাজেই বদ-হজম আমার কিভাবে হবে? উপরন্তু আমি এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে অঙ্গীকারাবদ্ধ যারা একবার পেট ভরে খাবার খায়, আর একবার ক্ষুধার্ত থাকে। (ইবনে সা‘দ)
হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়া থেকে পর্দা মুবারক করার পর থেকে আমি ইটের উপর ইট স্থাপন করিনি অর্থাৎ ইমারত তৈরী করিনি এবং কোন খেজুর গাছও রোপন করিনি। (হায়াতুছ ছাহাবা)
মুহম্মদ বিন ফয়েয বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মিসকীনের সাথে ভিন্ন আহার করতেন না, যে পর্যন্ত না তা দ্বারা উনার শারীরিক ক্ষতি সাধিত না হতো। অতঃপর উক্তরূপ আহার করার কারণে যখন উনার মারিদ্বী শান মুবারক দেখা যেত, তখন উনার আহলিয়া (স্ত্রী) উনার জন্য খেজুর দিয়ে এক প্রকার খাদ্য প্রস্তুত করতেন। তিনি যখন ইহা খেতেন, সুস্থ হতেন।
আবু বকর বিন হিফ্ছ্ বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কোন খাদ্য গ্রহণ করতেন না, যে পর্যন্ত উনার দস্তরখানে একজন ইয়াতিম উপস্থিত না থাকত। (হিলইয়া)
হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন খুবই দানশীল। সবসময় পছন্দনীয় জিনিষ মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান করতেন। তিনি ছিলেন এই আয়াত শরীফের মিছদাক-
لَنْ تَنَالُوْا الْبِرَّ حَتّٰى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ
(তোমরা কল্যাণ লাভ করবে না যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু ব্যয় করো)। প্রতিবেলা দুই একজন গরীব-মিসকীন সঙ্গে না নিয়ে তিনি আহার করতেন না। প্রায়ই তিনি উনার ছেলেদের তাকীদ করতেন যখন উনারা খাবারের জন্য ধনীদের দাওয়াত করতেন এবং উনাদের সাথে ফকীর-মিসকীনকে ডাকতেন না। তিনি বলতেন, ‘তোমরা ভরাপেট লোকদের ডেকে আনো এবং ক্ষুধার্তদের ছেড়ে আসো।’ (ইহা কেমন কথা?)
যে গোলাম-বাঁদীটি উনার কাছে ভাল বলে মনে হতো, তাকে আযাদ করে দিতেন। এক বৈঠকে তিনি হাজার হাজার দিরহাম বিলিয়ে দিতেন। তিনি এত বেশী গোলাম-বাঁদী আযাদ করতেন যে, উনার আযাদকৃত গোলাম-বাঁদীর সংখ্যা এক হাজারের উর্ধ্বে। একবার তিনি খুব সুন্দর একটি উট খরিদ করে তার উপর সওয়ার হয়ে হজ্জে রওয়ানা হলেন। উটটির চলন উনার খুব ভাল লাগল। হঠাৎ তিনি নেমে পড়লেন এবং তার পিঠ থেকে জিনিষপত্র নামিয়ে ফেলে তাকে কুরবানীর পশুর সাথে মিলিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলেন। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (২)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সেদিন আমার ক্বইয়ূমিয়াতের হাল এমনভাবে প্রবল হয়েছিল যে, আমি যদি আসমানকে যমীন এবং যমীনকে আসমান হতে বলতাম তাহলে তাই হতো।” সুবহানাল্লাহ!
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারের সঠিক তারিখ প্রসঙ্গে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (১)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদেরকে ঈমান থেকে সরিয়ে দিতে কাফিরগুলো সবসময় চেষ্টা করে থাকে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












