সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সুন্নত মুবারক অনুসরণে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বেমেছাল দৃষ্টান্ত
, ০৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
সুন্নত পালনে খাদেমে রাসূল হযরত আনাস বিন মালেক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি একাধারে দশ বৎসর সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমত মুবারক করেছেন। অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোয়ার বরকতে একশত বৎসর হায়াত লাভ করেছেন। সুবহানাল্লাহ্!
সেই হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন- ‘একদিন এক দর্জি ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার বাড়ীতে দাওয়াত করলেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে গেলেন, আমিও সাথে গেলাম। দর্জি ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গোশ্তের সাথে কদু তরকারী পাক করেছিলেন। আমি দেখলাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত তরকারীর পাত্র থেকে কদু বা কদুগুলো বেছে বেছে খাচ্ছেন। অর্থাৎ কদু খাওয়াকে আখেরী রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুব পছন্দ করলেন।
হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, যখন আমি দেখলাম- আখেরী রাসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কদু খাওয়া পছন্দ করেন, তখন থেকে আমি যত দিন হায়াত পেয়েছি, আমার সাধ্যমত আমি সর্বদা কদু খাওয়ার চেষ্টা করেছি শুধুমাত্র “সুন্নত মুবারক” পালন করার উদ্দেশ্যে। সুব্হানাল্লাহ্!
সুতরাং চিন্তা এবং ফিকিরের বিষয় যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক তথা সুন্নত মুবারকের কতটুকু অনুসরণ-অনুকরণ করতেন। মূলতঃ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ তথা সুন্নত মুবারক পালন করার ক্ষেত্রে পাগলের ন্যায় হয়ে যেতেন।
এ প্রসঙ্গে ইমামুশ্ শরীয়ত ওয়াত্ব তরীক্বত, হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রশ্ন করা হলো- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ কিরূপ ছিলেন? জবাবে ইমামুশ্ শরীয়ত ওয়াত্ব তরীক্বত, হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দেখ- যদি আপনারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে দেখতেন, তবে উনাদেরকে পাগল মনে করতেন। আর যদি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আপনাদেরকে দেখতেন, তবে আপনাদের ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতেন। কারণ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ জীবনের বিনিময়ে হলেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ পালনের জন্য সদা প্রস্তুত থাকতেন। আর আপনারা মুখে বলেন- রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহব্বত করি কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তার সম্পূর্ণ বিপরীত। নাঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যে পাগলের ন্যায় সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ তথা সুন্নত মুবারকের অনুসরণ-অনুকরণ করতেন, উপরোল্লেখিত ঘটনা সমূহের সাথে সাথে নি¤েœাক্ত ঘটনাটিও তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একদিন সব্জা নামক স্থানে নিজ যমীতে পানি সেচ করছিলেন, এমতাবস্থায় হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে কিছু এলোমেলো কথা বললো। সে ব্যক্তির এলোমেলো কথা শুনে হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কিছুটা গোস্সা হন। পরক্ষণেই তিনি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও নতুন কাপড় পরিহিত অবস্থায় প্রথমে সেই কাদাযুক্ত যমীতে বসে যান, অতঃপর সেই কাদাযুক্ত যমীতে শুয়ে পড়েন। সে ব্যক্তি বললো- হে আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি একি করলেন? আপনার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও নতুন কাপড়গুলো নিয়ে কাদাযুক্ত যমীতে শুয়ে পড়লেন? জবাবে হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হে ব্যক্তি! আখেরী রাসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বলেছেন, “হে আবু যর! আপনার মধ্যে যখন গোস্সা পয়দা হবে, তখন আপনি বসে যাবেন, তথাপিও যদি গোস্সা দূর না হয়, তবে শুয়ে যাবেন, আপনার গোস্সা দূর হয়ে যাবে। ” কাজেই তুমি যখন আমাকে এলোমেলো কথা বললে, তখন আমার ভিতর গোস্সা পয়দা হল, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক পালন করার জন্যই প্রথমে বসে গেলাম, তাতেও আমার গোস্সা দমন হলোনা, অতঃপর আমি মাটিতে শুয়ে পড়লাম, আমার গোস্সা দূর হয়ে গেল। সুব্হানাল্লাহ্!
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হলো যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ তথা সুন্নত মুবারকের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও পরিপূর্ণ অনুসরণ-অনুকরণ করতেন। বরং নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রাধান্য দিতেন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারককে।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












