ইতিহাস
সুগন্ধি সাবান উদ্ভাবনে মুসলমানদের অবদান
, ১৫ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ২৭ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ইতিহাস
‘সাবান’, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় সোপ (Soap)। এই শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ স্যাপো (ঝধঢ়ড়) থেকে। এই স্যাপো শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয় খ্রিস্টীয় ৭৭ সালে। আবার পর্তুগিজ ভাষায় স্যাব অথবা স্যাবোনেট নামে একটি শব্দ রয়েছে, যেটির অর্থ তেল বা চর্বি এবং অন্যান্য উপাদানের একটি মিশ্রণ; মূলত ছোট আকারের টুকরা, যা ধোয়া-ধোয়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ মনে করেন যে, স্যাবো থেকে ব্রিটিশ ইংরেজিতে শব্দটি হয়ে যায় সোপ আর তা থেকে বাংলায় সাবান।
রোগ জীবাণু থেকে বাঁচতে সাবান বা সাবানজাতীয় জিনিসের ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরনো। পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবানজাতীয় বস্তু ব্যবহারের প্রথম প্রমাণ মেলে খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০ সালে, প্রাচীন ব্যাবিলনে। শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই নয়, একসময় সাবান ব্যবহার করা হতো বিভিন্ন চর্মরোগের চিকিৎসায়ও, এ তথ্য জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালে প্রকাশিত চিকিৎসা বিজ্ঞানবিষয়ক প্রকাশনা ইবার্স প্যাপিরাস থেকে। সে সময় মিশরে পশুর চর্বি, সবজির তেল এবং অ্যালকাইন লবণ মিশিয়ে সাবানের মতো দ্রব্য প্রস্তুত করা হতো। মেসোপটেমিয়া, মিশর, মধ্যপ্রাচ্য সাবান তৈরি, ব্যবহার ও ব্যবসার ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। প্রাচীন চীনেও সাবান ব্যবহারের কথা জানা যায়।
তবে সর্বপ্রথম শক্ত সাবান তৈরি করেছিলো আরবরা। পরবর্তীকালে তা ইউরোপে পরিচিতি পায়। আর আমাদের এ অঞ্চলে সাবানের ইতিহাস ২০০ বছরেরও কম। ইতিহাসবিদদের মতে, সুগন্ধি সাবানের উদ্ভব হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ান সভ্যতায় সাবান তৈরি ও ব্যবহারের ব্যাপক প্রচলন ছিলো। সেই ধারাবাহিকতায় প্রাচীন সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের অধিবাসীদের ছিলো উৎকৃষ্ট মানের সাবান তৈরির দক্ষতা।
তৎকালে সিরিয়াসহ অনেক মুসলমান দেশে সাবান উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠে। রঙিন সুগন্ধি সাবান, ডাক্তারি সাবান তৈরি ও রপ্তানি হতো সিরিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে। নাবলুস, দামাস্কাস, আলেপ্পো ও সারমিন ছিলো সাবান তৈরিতে বিখ্যাত। তারা সাবান তৈরিতে ব্যবহার করতো জলপাইয়ের তেল ও আলকালি। কখনো কখনো এতে যোগ করা হতো ন্যাট্রন।
এমনই তথ্য পাওয়া যায়, মধ্যযুগের মুসলমান বিজ্ঞানী লেখক দাউদ আল আন্তাকির বর্ণনায়। এ ছাড়া আধুনিক সাবান তৈরির প্রস্তুত প্রণালী আবিষ্কার করেন মুসলমান বিজ্ঞানী আবু বকর মুহম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল রাজি। (প্রযুক্তির জনকেরা, পৃষ্ঠা ১৫৫)
চিকিৎসা বিজ্ঞানে আল রাজির অবদান অবিস্মরণীয়। চিকিৎসাশাস্ত্রে মুসলমান বিজ্ঞানীদের অবদানের কথা বলতে গেলে প্রথমেই উনার কথাই বলতে হয়। তবে তিনি শুধু চিকিৎসকই ছিলেন না, ছিলেন একাধারে গণিতবিদ, রসায়নবিদ ও দার্শনিকও।
-মুহম্মদ শাহ জালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুঘল আমলের নিরাপত্তা নিদর্শন হাজীগঞ্জ দুর্গ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৪র্থ পর্ব)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত শরীয়ত প্রতিপালনে খিলজী সালতানাতের কাজী মুগিসউদ্দিনের সাহসিকতা
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফ্রান্সের অব্যাহত লুটপাট! একটি সমৃদ্ধ জনপদের ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার না জানা ইতিহাস (২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আক শামসুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি: কসতুনতুনিয়া (ইস্তানবুল) বিজয়ে যার অবদান অনস্বীকার্য
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৯)
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জঙ্গে জামাল ও সিফফিনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও সঠিক ইতিহাস
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ফ্রান্সের অব্যাহত লুটপাট! একটি সমৃদ্ধ জনপদের ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার না জানা ইতিহাস (১)
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সোনার বাংলাকে যেভাবে লুটপাট করেছিলো ফিরিঙ্গি বেনিয়ারা (৩)
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আব্বাসীয় সালতানাতের মুসলিম নৌশক্তি
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে থাকা বাগদাদ যেভাবে পিছিয়ে পড়লো
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৭)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












