সম্পাদকীয়
সাড়ে তিন কোটি নগরবাসীর জন্য সরকারী কবরস্থান মাত্র ৯টি লাশ কাফন-দাফনও এখন সাধারণের নাগালের বাইরে। ঢাকা শহরে কবরস্থানের সংখ্যা বাড়ানো এবং গরীবের জন্য সরকারী খরচে কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা অনিবার্য দরকার।
, ২৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
রাজধানী ঢাকায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষের বসবাস। প্রতিদিনই ঢাকায় বাড়ছে মানুষ। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে কবরস্থানের নির্ধারিত জায়গা রয়েছে মাত্র ৯টি। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনটি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ছয়টি। দিনদিন মানুষ বাড়লেও বাড়ছে না কবরস্থানের জায়গা। নির্ধারিত কবরস্থানে নতুন করে আর জায়গা বাড়ানোর সুযোগ নেই।
ঢাকায় কবর সংরক্ষণের জন্য বেশ মোটা অংকের ফি গুনতে হয়। ঢাকায় কবর সংরক্ষণের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২৫ বছর এবং সেজন্য খরচ দেড় কোটি টাকা। সে হিসাবে মাসিক খরচ ৫০ হাজার টাকা।
দেড় কোটি টাকার এই কবর আগে বিক্রি হতো ৪৫ লাখ টাকায়। কিন্তু গত বছর হঠাৎ করেই দাম বাড়িয়ে তিনগুণ করা হয়েছে। তবে শুধু টাকা থাকলেই পাওয়া যাবে না এই কবর। লাগবে উচ্চপর্যায়ের তদবিরও। মাসে ৫০ হাজার টাকা হারে কবর ভাড়া করলেও শেষ পর্যন্ত একই কবরে দাফন করা হবে অন্য কাউকে।
ঢাকায় কবরস্থানের সংকট বেশি তীব্র দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। এ সিটি করপোরেশনের তিনটি কবরস্থানের মধ্যে আছে-আজিমপুর কবরস্থান, খিলগাঁও ও জুরাইন কবরস্থান। ডিএসসিসির আজিমপুর কবরস্থান ৩৭ দশমিক ৫০ একর আয়তনের। এখানে ২৫ হাজার কবরের জায়গা আছে। সংরক্ষিত কবর ২ হাজার ৬০০টি। খিলগাঁও কবরস্থান পাঁচ একর জমিতে অবস্থিত। প্রায় ৪ হাজার কবরের জায়গা রয়েছে। ১৭ দশমিক ২৬ একর জায়গায় জুরাইন কবরস্থান। এখানে ১২ হাজার কবরের জায়গা রয়েছে। এছাড়া মুরাদপুরে ৪২ শতাংশ জমিতে শিশুদের জন্য একটা কবরস্থান রয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, উন্নত শহরে কবরস্থানের জায়গা নির্ধারণের জন্য পরিকল্পনার বিভিন্ন সূত্র রয়েছে। সাধারণত শহরে কবরস্থানের জন্য দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত জমি ব্যবহার করা হয়। কখনো কখনো এটা আরো বেশি হতেও দেখা যায়। কোথাও সবুজ কবরস্থান বা বহুতল কবরস্থান নির্মাণ হচ্ছে।
ঢাকায় কত আয়তনের, কতটি কবরস্থান প্রয়োজন সেটা এখনো পরিকল্পিতভাবে নির্ণয় করা হয়নি বলে স্বীকার করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ।.
‘বেসরকারি ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ৫০ হাজার মানুষের বিপরীতে একটি এক একরের কবরস্থান প্রয়োজন। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঢাকায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের বাস। সে হিসাবে ঢাকায় এক হাজার একরের কবরস্থান প্রয়োজন।’
রাজধানী ঢাকায় প্রিয়জনের দাফন কখনোই সহজ ছিল না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কবরস্থান ব্যবস্থাপনা, কবর সংরক্ষণ এবং খনন-দাফনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।
নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে, কবর সংরক্ষণের নামে অতিরিক্ত ফি সাধারণ মানুষের জন্য অমানবিক চাপ সৃষ্টি করছে। গত বছর বিভিন্ন সংগঠন কবর ও দাফনের ফি কমানোর দাবি তুলেছিল। সরকারি হিসাবে সাধারণ একটি দাফনে রেজিস্ট্রেশনসহ এক থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, সরকারি খরচ ৩ হাজার হলেও ভালো জায়গা পেতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। বাঁশ, খাট ও জায়গা ঠিক করতে গিয়ে ৮/১০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়ে যায়।
মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, লোকবল সংকটের কারণে অনেক কাজ বাইরে থেকে করাতে হয়। এতে অনানুষ্ঠানিক খরচ বেড়ে যায়।
লেখাবাহুল্য আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম নামে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান দাবীদার তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ বিস্তর। এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষ যাবে কৈ?
দরিদ্র পীড়িত মানুষের জন্য মৃত্যুও এখন এক কঠিন বিষয়। টাকা তুলে, ধার কর্জ করে তাদের কাফন-দাফন করতে হয়।
প্রশ্ন হলো যে দেশে হারাম খেলাধুলায় হাজার হাজার কোটি বাজেট হয়। বিভিন্ন খাতে লাখো কোটি টাকা অপচয় হয়; সেখানে নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টিতে সরকারের দায় কেনো নয়? বিষয়টি শুধু মর্মান্তিকই নয় গভীর অমানবিক ও অনৈসলামিক।
সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি পূর্ণ আস্থা বিশ্বাসের সরকার এ বিষয়ে যথাযথ সচেতন ও সক্রিয় হবে- এটাই কাম্য।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সমুদ্র অর্থনীতির সোনালী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শিশুর দেহে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্সের ভয়ানক উপস্থিতি
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












