ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৯৫)
, ২৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ সাদিস, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এ থেকে বলা হয়ে থাকে, পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের যে তারতীব-নিয়ম এটা অনেকেই বলে থাকে, ৬০০ হিজরীতে হয়েছে। ক্বিয়াম হয়েছে ৭০০ হিজরীতে। আসলে তাদের এ কথাটা শুদ্ধ নয়। আসলে মীলাদ শরীফ তো নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানাতেই ছিল। তবে তারতীব হয়েছে- এখন যে তারতীব অনুযায়ী মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয়ে থাকে। তা ৬০০ হিজরীতে হয়েছে। যেমন মাদরাসা ছিলো না। ইলিম তো ছিল শুরুতে। মাদরাসা ছিলোনা। ৪০০ হিজরীতে মাদরাসা হয়েছে। তার তারতীব, নিয়ম-কানুন, কিতাব, ঘণ্টা, পিরিয়ড ইত্যাদি হয়েছে ৪০০ হিজরী থেকে। ইলিম তো ছিলো। ঠিক মীলাদ শরীফ ছিলো কিন্তু তার তারতীবটা দেয়া হয়েছে ৬০০ হিজরী থেকে। আর ক্বিয়ামের তারতীব দেয়া হয়েছে ৭০০ হিজরীতে।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পবিত্র মীলাদ শরীফ এবং তার ক্বিয়াম আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানাতেই ছিলো। সেটাই হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়িতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে একত্রিত করে নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুরুত তাশরীফ মুবারক উপলক্ষে যে ওয়াকিয়াগুলো সেগুলো তিনি আলোচনা করছিলেন। সকলেই সাথে সাথে খুশি প্রকাশ করছিলেন এবং ফাঁকে ফাঁকে আল্লাহ পাক উনার হামদ, না’ত অর্থাৎ প্রশংসা করছিলেন এবং তার সাথে সাথে নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ছলাত এবং সালাম পাঠ করছিলেন। এমতাবস্থায় নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আসলেন। আসার কারণে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সকলেই দাঁড়িয়ে নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তা’যীম-তাকরীম করলেন, ইজ্জত-সম্মান করলেন।
নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটা দেখে বললেন-
حَلَّتْ لَكُمْ شَفَاعَتِي
আপনাদের জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব করে দেয়া হলো। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, সেটাতো নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানাতেই ছিলো। এটা নতুন কোন বিষয় নয়। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম মীলাদ শরীফ পাঠ করেছেন। ক্বিয়াম করেছেন এবং উনারা নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য মীলাদ শরীফ, তায়াল্লুদ বা তানা’উত শরীফ অর্থাৎ যা বিলাদত শরীফ বা নূরুত তাশরীফ উপলক্ষে আলোচনা করা হয় সেই তাওয়ালুøদ শরীফ বা তানা’উত শরীফ উনারা আলোচনা করেছেন। ছলাত-সালামও উনারা পাঠ করেছেন।
এজন্য অন্য এক হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، أَنَّهٗ مَرَّ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلٰى بَيْتِ عَامِرٍ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، وَكَانَ يُعَلِّمُ وَقَائِعَ وِلَادَتِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبْنَائِهٖ وَعَشِيرَتِهٖ، وَيَقُولُ: هٰذَا الْيَوْمَ، هٰذَا الْيَوْمَ. فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللهَ فَتَحَ لَكَ أَبْوَابَ الرَّحْمَةِ، وَالْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ لَكَ، وَمَنْ فَعَلَ فِعْلَكَ نَجَا نَجَاتَكَ.
হযরত আবু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন-
أَنَّهٗ مَرَّ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلٰى بَيْتِ عَامِرٍ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ
একদিন নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কি করলেন? তিনি হযরত আবু আমির আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়িতে গেলেন। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন-
وَكَانَ يُعَلِّمُ وَقَائِعَ وِلَادَتِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হযরত আবু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমি হযরত আবু আমির আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়িতে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম, তিনি তা’লীম দিচ্ছেন, শিক্ষা দিচ্ছেন আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক উপলক্ষে যে ওয়াকিয়াগুলো ঘটেছিল, যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল সে বিষয়গুলো তিনি তা’লীম দিচ্ছেন, আলোচনা করছিলেন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের বিশেষ মাধ্যম
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শীত নিবারনে কোন কোন পোশাক সম্মানিত সুন্নত মুবারক? এ বিষয়ে জানা ও ইত্তেবা (অনুসরণ) করা সকলের জন্য ফরয। (পর্ব-১)
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালালকে হারাম করা নিষেধ
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হুকুম আহকাম ও আদেশ নির্দেশ মুবারক পালনেই রয়েছে কামিয়াবী
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আলাইহিস সালাম ব্যবহার নিয়ে বাতিল ফিরকাদের আপত্তি খন্ডন (২)
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












