ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৪৮)
, ০৬ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সেজন্য ইজমা হয়েছে, “দুররুল মুখতার” কিতাবে বলা হয়েছে, সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ইজমা করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম (শরীর) মুবারকে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুই পবিত্র থেকে পবিত্রতম। শুধু পবিত্রতম বললে এটা কম হয়ে যায়। এর চাইতে উত্তম কোন ভাষা আমাদের জানা নেই সেজন্য আমরা পবিত্রতম বলে থাকি। কারণ, যে সমস্ত খাদ্য হালাল করা হয়েছে মাছ, গোশত, তরি-তরকারী এসমস্ত হালাল খাদ্য খেলে কেউ যে নাযাত পাবে বা জান্নাত পাবে তার কোন দলীল-আদিল্লাহ নেই।
একটা হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, মজুসী, মুশরিক, জাহান্নামী, কাট্টা কাফির তারাও হালাল খাদ্য খেতে পারে মুসলমানও খেতে পারে সেজন্য সেই খাদ্য খেয়ে কেউ জান্নাতে যাবে তার কোন দলীল নেই। কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারকে যা কিছু রয়েছে সেখান থেকে, অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল হুদা (মাথা) মুবারক থেকে নূরুদ দারাজাত মুবারকের (পায়ের) তলা মুবারক পর্যন্ত সেটা নূরুশ শিফা (প্রস্রাব) মুবারক হোক, ইস্তিঞ্জা মুবারক হোক যেটাই হোক না কেন, নূরুন নাজাত (রক্ত) মুবারক হোকনা কেন যে কোন জিনিস কারো শরীরে প্রবেশ করে যায় ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক ঐ ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। ‘সুবহানাল্লাহ’!
এখন এত বড় মর্যাদা, এত বড় ফযীলত কিসের জন্য? সে সম্পর্কে আমরা বলি তা একমাত্র নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অজুদ মুবারকের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরে মুহম্মদী, নূরে মুজাস্সাম, সেই নূরে মুহম্মদী অজুদ মুবারকের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু রয়েছে এবং সেই নূর মুবারক যে যে ছূরত মুবারকে পরিবর্তীত হয়েছে বা ছূরত মুবারকের আকার ধারণ করেছে প্রত্যেকটার জন্য আলাদাভাবেই ফযীলত রয়েছে, মর্যাদা-মর্তবা রয়েছে।
সেজন্য অসংখ্য হাদীছ শরীফ রয়েছে, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন, ইমাম বাহাউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম তবারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এরকম অসংখ্য মুহাদ্দিছীনে কিরাম ও ইমাম মুজতাহিদ বর্ণনা করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট সকল কিছুই সম্মানিত, ফযীলতপ্রাপ্ত।
সেজন্য যে ওয়াকেয়াটা বলা হয়ে থাকে। মশহুর ওয়াকেয়া। অনেক রয়েছে ওয়াকেয়া। আমাদের মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফের অনেক সংখ্যায় বেশ কিছু বর্ণনা করেছি। যেটা মশহুর। বলা হয়ে থাকে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কারণে গামলা মুবারকে এক রাত্রিতে নূরুশ শিফা (ছোট ইস্তিঞ্জা) মুবারক রেখেছিলেন। সকাল বেলা এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন যে, আপনি এটা নিয়ে এমন এক স্থানে রেখে আসবেন যাতে মানুষ কখনও পা দিয়ে সেটাকে পাড়াতে না পারে বা মাড়াতে না পারে।
সেই ছাহাবী সেটা নিয়ে গেলেন, অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। অনেক্ষণ পর তিনি আসলেন। এসে সেই গামলা মুবারক খালি ফেরত দিলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি সেই নূরুশ শিফা (ছোট ইস্তিঞ্জা) মুবারক কোথায় রেখে আসলেন?
তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এমন এক স্থানে রেখে এসেছি যেখানে ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোন জিন-ইনসানের পক্ষে সম্ভব হবে না পা দিয়ে পাড়ানো অথবা মাড়ানো। এটা বলার সময় সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জবান মুবারক থেকে, নাক মুবারক থেকে আতর গোলাপের চেয়ে বেশী সুঘ্রাণ বের হতে লাগল। সেটা বুঝতে পেরে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি কি সেটা পান করে ফেলেছন?
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












