ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (৩৬)
, ১০ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৪ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ০২ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৭ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনিতো হাযির-নাযির সব জায়গায় সর্বাবস্থায় বিরাজমান। কিন্তু বান্দার দিলে সে ইয়াক্বীন, সে আকী¡দা পৌঁছেনি। সেজন্য মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সহজে বুঝার জন্য বললেন, তুমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে ঐভাবে ভয় করো যেমন তুমি তোমার প্রতিবেশীকে ভয় করো। কাজেই মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে তাকওয়া অর্থাৎ প্রত্যেক অবস্থায় এটা ধারণা রাখতে হবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি হাযির-নাযির। মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে প্রত্যেক কাজ করতে হবে। এরপর মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে যেটা বলা হয়েছে-
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ. يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন কাজে অগ্রগামী হয়োনা। এটার শানে নুযূল হলো- বনী তামিম গোত্রের কিছু লোক এসেছিল মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে। তাদের একজন নেতা বা একজন আমীর নির্বাচন করার জন্য।
তখন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনারা পরস্পর আলোচনা করেছিলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফায়সালা করার পূর্বে উনারা আলোচনা করেছিলেন যে, কাকে আমীর বানানো যায়।
আওয়াজটা একটু উচ্চ হয়ে যায় সাথে সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি আয়াত শরীফ নাযিল করেন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কাজে বা আমলে কোন দিক দিয়ে অগ্রগামী হয়ো না। প্রত্যেক কাজে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা যেটা করবেন তারপরে তোমরা সেটার পিছনে থেকো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মুখে উচ্চস্বরে কথা বলো না। তোমরা যেমন উচ্চস্বরে কথা বলে থাক তেমনিভাবে যদি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মুখে তোমরা (উচ্চস্বরে) কথা বলো, তবে তোমাদের আমলগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। তোমাদের ঈমান বরবাদ হয়ে যাবে। তোমরা ঈমানহারা হয়ে যাবে এবং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মুখে নিম্নস্বরে কথা বলে, মহান আল্লাহ পাক তার অন্তরকে তাকওয়ার দ্বারা পরিশুদ্ধ করে দেবেন। তার জন্য মাগফেরাত রয়ে গেছে।
সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আচার-ব্যবহারের মধ্যেও তাকওয়া রয়েছে। ওয়াজ করার তাকওয়া কি? ওয়াজ করা এবং শুনা সম্পর্কে আমি বলেছিলাম কিছু কথা, আবারো বলছি, ওয়াজ করার তাকওয়া সম্পর্কে কি বলা হয়, যেটা কিতাবে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াজ কিভাবে করতে হবে? মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন যে, তোমরা ওয়াজ কিভাবে করবে?
اَلْحَيَاءُ وَالْعِيُّ شُعْبَتَانِ مِنَ الإِيمَانِ
অর্থ: “লজ্জা এবং ধীরে ধীরে বলা উভয়ই ঈমানের অঙ্গ। ”
وَالْبَذَاءُ وَالْبَيَانُ شُعْبَتَانِ مِنَ النِّفَاقِ
আর অনর্গল বলে যাওয়া এবং মাঝে মাঝে অশ্লীল কথাবার্তা বলা মুনাফেকীর লক্ষণ। কাজেই ওয়াজ যখন করতে হবে অশ্লীল কথা থেকে বিরত থাকতে হবে। শালীনতাবোধ বজায় রাখতে হবে এবং সুন্দরভাবে কথা বলতে হবে যেটা হেদায়েতের নিকটবর্তীতে নিয়ে যায়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












