ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য ও হুকুম-আহ্কাম (১১৯)
, ২৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৮ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
বিষয়টা হচ্ছে, খন্দকের যুদ্ধ যখন হয়ে গেলো, পরবর্তীতে মুসলমানদের আস্তে আস্তে পর্যায়ক্রমে স্বচ্ছলতা ফিরে আসলো। যখন স্বচ্ছলতা ফিরে আসলো, প্রত্যেককে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের চাহিদা মুতাবিক যার যে চাওয়ার ছিল তাকে সেটা দিয়েছেন। কারো চাহিদাকে উনি অপূর্ণ রাখেননি। অর্থাৎ যার যে আরজু ছিল তার সে আরজু পূরা করে দিয়েছেন।
হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পরবর্তীতে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম অর্থাৎ আমরা সেই পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলাম যে, যেহেতু অবস্থা এখন মুসলমানদের ভালো হয়েছে, অনেকের যা আরজু বা চাহিদা যা ছিল তা পূরা হয়েছে, আর আমাদের যা চাহিদা ছিলো সেটা হলো, আমাদের একটা মাত্র সেলোয়ার, একটা মাত্র কামিছ এবং একটা মাত্র ওড়না ছিলো। সেই সেলোয়ার, কামিছ এবং ওড়না পরে আমরা গোছল করতাম এবং সেটা আমাদের শরীরে শুকাত। যার জন্য আমাদের পক্ষে সংসারের অনেক কাজ করতে অসুবিধা হতো। কারণ, ভিজা কাপড় নিয়ে কাজ করা কঠিন। ঘর-সংসারের কাজ রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত রয়েছে। এর সাথে সাথে অন্যান্য আরো অনেক কিছু দেখাশুনা ও খোঁজখবর নেয়ার দরকার রয়েছে। কাজেই আমাদের একটা মাত্র কাপড় পরে কাজগুলো করা খুব কঠিন।
যার জন্য আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে আরজু করেছিলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদেরকে এক জোড়া কাপড়ের পরিবর্তে দু’জোড়া কাপড় দিলে হয়তো ভালো হতো। তাহলে আমরা গোছল করলে কাপড়টা পাল্টাতে সহজ হতো। সংসারের কাজ-কাম ও আপনার খিদমত মুবারক যা রয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি করা আমাদের জন্য সহজ হতো।
শুধু এতটুকু আমরা আরজু করেছিলাম। এর চাইতে বেশী আমরা কিছুই আরজু করিনি। দুনিয়ার সম্পদ আমরা তলব করিনি। আমরা অন্য কিছু চাইনি। শুধু এতটুকু বলেছিলাম। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ পাক তিনি আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন-
إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا
‘আপনারা যদি দুনিয়া ও তার সৌন্দর্য চেয়ে থাকেন তাহলে আপনারা আসুন, আপনাদেরকে মাল-সম্পদ যা দেয়ার তা দিয়ে উত্তমভাবে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিব। ’
إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ فَإِنَّ اللهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا
আর যদি মহান আল্লাহ পাক উনাকে চান, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চান, পরকাল চান তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিশ্চয়ই যারা মুহসিনাত রয়েছেন, নেক্কার পরহেযগার রয়েছেন উনাদের জন্য অনেক নিয়ামত তৈরী করে রেখেছেন সেটা আপনারা পরকালে পাবেন। ’
অতঃপর তিনি বলেন, আপনারা মনে করতে পারেন, আমরা হয়ত দুনিয়ার সম্পদ চেয়েছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমরা কোন দুনিয়াবী সম্পদই তলব করিনি। প্রকৃতপক্ষে আমাদের এক সেট কাপড় ছিল। অর্থাৎ সেলোয়ার, কামিছ, ওড়না ছিলো। আমরা দ্বিতীয় আর এক সেট তলব করেছিলাম। দেখুন, ক্বিয়ামত পর্যন্ত মানুষ আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করবে, আর মনে করবে যে, যারা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হয়ত দুনিয়া তালাশী ছিলেন। কিন্তু হাক্বীক্বত তা নয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












