ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য ও হুকুম-আহ্কাম (৬৭)
, ০৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ১৬ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
খুব সূক্ষ্ম শয়তানের তা’ছীর অর্থাৎ শয়তানের ওয়াস্ওয়াসা খুব সূক্ষ্ম। সে তাকে বলতে লাগলো, “তুমি যে নিজে পাক-শাক করে খাও, তোমার তো অনেক সময় ব্যয় হয়ে যায়। তুমি এক কাজ করো, একজন লোক রেখে নাও, যে তোমাকে পাক-শাক করে দিবে, তোমার সময় বেঁচে যাবে, তুমি বেশী বেশী ইবাদত-বন্দেগী করতে পারবে।”
আবেদের ইলিমের কিছু অভাব রয়েছে। সে মনে মনে চিন্তা করলো, ব্যাপারটা তো খারাপ নয়, ভাল। তুমি তো আমাকে ভাল বুদ্ধি দিয়েছো, তাহলে লোক পাবো কোথায়?
ইবলিস বললো, ‘ঠিক আছে আমি দেখি লোক পাওয়া যায় কি-না।’
এটা বলে সে আবার সেই দুই ভাইয়ের কাছে গেলো, গিয়ে বললো “দেখো, আমি তো তার সাথে আলাপ করেছিলাম, তাকে যদি কেউ পাক-শাক করে খাওয়ায় তাহলে হয়তো সেখানে থাকার ব্যবস্থা হবে।”
সেই দু’ভাই বললো, ‘সে কি করে থাকবে ওখানে, সে বেগানা পুরুষ।’
ইবলিস বললো, “না, অসুবিধা নেই, আলাদা একটা ঘর করে সে ঘরে থাকবে; আর আবেদ তো তার ঘরেই থাকে, সে তো সেখান থেকে বের হয় না, তাহলে অসুবিধার কোন কারণ নেই।”
তখন সেই দুই ভাই বললো, ‘তাহলে তুমি ব্যাপারটা বিস্তারিত আলোচনা করে আমাদেরকে জানাও।’ ইবলিসতো দরবেশের মনে ছূফীর ছূরতে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা ব্যাপারটা বুঝতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত ইবলিস সেই আবেদের কাছে এসে বললো যে, “আমি একজন লোকের ব্যবস্থা করেছি, তোমাকে পাক-শাক করে খাওয়াবে।”
তখন আবেদ জিজ্ঞাসা করলো যে, ‘পুরুষ না মহিলা?’
তাকে বলা হলো, “মহিলা হলেই দোষটা কি? কারণ পুরুষরা তো ভাল পাক-শাক জানে না, তুমি এত ইবাদত-বন্দেগী করো, তোমার তো খাবারের দরকার রয়েছে, স্বাস্থ্য সুস্থ থাকার দরকার রয়েছে, ভাল ভাল খেলে স্বাস্থ্য ভাল থাকবে, আরো বেশী বেশী ইবাদত-বন্দেগী করতে পারবে, মহিলা হলেই তো ভাল হবে।”
আবেদ বলেছিলো, ‘তাহলে কি করে সম্ভব?’
ইবলিস বললো, “অসুবিধার কোন কারণ নেই। কারণ, তুমি যে ঘরে থাকো সেই ঘরে সে মহিলা প্রবেশ করবে না। আর সে যে ঘরে থাকবে তুমিও সে ঘরে প্রবেশ করবে না। আলাদা তাকে ঘর করে দেয়া হবে, সমস্ত ব্যবস্থা তাকে করে দেয়া হবে। সে পাক-শাক করে তোমাকে খাওয়ার ব্যবস্থা করবে।”
তা কি করে সম্ভব? “সে পাক-শাক করে, তোমার ঘরে যে পর্দা রয়েছে সেই পর্দার নীচ দিয়ে সে সেই খাদ্য তোমার ঘরে পৌঁছে দিবে, তুমি সেখান থেকে সেটা নিয়ে খাবে। এরপর আবার পর্দার বাইরে বের করে দিবে, সে সমস্ত হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন যা কিছু রয়েছে সেটা সে নিয়ে পরিস্কার করে রাখবে।”
আবেদ মোটামুটি এক অবস্থায় কিছুটা সম্মতি প্রকাশ করলো।
এরপর ইবলিস গেলো সেই দুই ভাইয়ের কাছে। গিয়ে তাদের বললো, “তোমাদের জিহাদের সময় চলে যাচ্ছে। আর কত অপেক্ষা করা যাবে? এতবড় ফযীলত তো তোমাদের হাছিল করার দরকার রয়েছে, তাড়াতাড়ি করা উচিত। এক কাজ করো, আমি আলোচনা করেছি, তোমরা আমার সাথে আসো, তোমাদেরকে নিয়ে তার সাথে আলোচনা করবো, অসুবিধার কোন কারণ নেই, কোন অসুবিধা হবে না। তোমরা জিহাদে চলে যাবে, নেক কাজে চলে যাবে।”
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












