ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
, ১৮ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৪ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ২২ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ০৬ কার্তিক, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيْمٌ وَاِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِىْ اِلَى يَوْمِ الدِّينِ
ইবলীস তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত, লা’নতপ্রাপ্ত।
وَاِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِىْ اِلَى يَوْمِ الدِّينِ
নিশ্চয়ই তোমার প্রতি অনন্তকালব্যাপী লা’নত বর্ষিত হবে। তখন ইবলীস বলেছিলো-
قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
ইবলীস বলেছিলো, আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনার ক্বসম! আপনার ইজ্জত মুবারক উনার ক্বসম! আয় মহান আল্লাহ পাক! অবশ্যই ইবলীস সমস্ত মানুষদেরকে গোমরাহ করে ফেলবে। নাউযুবিল্লাহ!
إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ
তবে যারা আপনার খাছ বান্দা তাদেরকে ব্যতীত সবাইকে ইবলীস গোমরাহ করে ফেলবে। নাউযুবিল্লাহ!
এবং সে আরো বললো, কি বললো?
قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِى الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ
ইবলীস বললো, আয় বারী ইলাহী! যেহেতু আদম সন্তানের জন্য, হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে তা’যীম- তাকরীম না করার কারণে ইবলীস লাঞ্ছিত হয়ে গেলো, জাহান্নামী হয়ে গেলো। ইবলীস বললো, ইবলীস ক্বসম করলো, আয় মহান আল্লাহ পাক!
بِمَا أَغْوَيْتَنِي
যেহেতু হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার জন্য সে গোমরাহ হয়ে গেলো তার দৃষ্টিতে। এখন সে বলতেছে কি
لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِى الْأَرْضِ
ইবলীস অবশ্যই আদম সন্তানের সামনে, দুনিয়াটাকে সৌন্দর্যম-িত করে তুলে ধরবে। যে দুনিয়া এতো সুন্দর। তোমার এটা প্রয়োজন রয়েছে, ওটা প্রয়োজন রয়েছে। ধন-দৌলত, টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি প্রয়োজন রয়েছে। গইরুল্লাহ প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান যামানায় থাকতে হলে ছবি তুলতে হয়, বেপর্দা হতে হয়। ইসলামের নামে তন্ত্র-মন্ত্র করতে হবে। হরতাল, লংমার্চ করতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ! এগুলোকে সৌন্দর্যম-িত করে তুলে ধরে ইবলীস বলতেছে, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! সে আদম সন্তানের সামনে দুনিয়াটাকে সৌন্দর্যম-িত করে পেশ করবে।
وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
এবং কি হবে? অধিকাংশ আদম সন্তানকে সে গোমরাহ করে ফেলবে। নাঊযুবিল্লাহ!
إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ
তবে ঐ সমস্ত বান্দা ব্যতীত যারা ইখলাছ অর্জনকারী, মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ বান্দা উনাদেরকে সে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। এছাড়া অন্যান্যদেরকে সে বিভ্রান্ত করে ফেলবে।
এখানে অনেক ফিকির রয়েছে। ইবলীস যে বললো, যারা ইখলাছ অর্জনকারী তাদেরকে ব্যতীত। ইবলীস কিন্তু স্বীকার করলো, মহান আল্লাহ পাক উনার সে ক্বসম করলো, আপনার ইজ্জতের, আপনার সম্মানের ক্বসম, আয় মহান আল্লাহ পাক! সমস্ত আদম সন্তানদেরকে ইবলীস গোমরাহ করে ফেলবে, তবে তদেরকে ব্যতীত যারা একমাত্র মুখলাছ, ইখলাছ অর্জনকারী বান্দা উনাদেরকে সে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ بُرَيْدَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَلِىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَا عَلِىُّ عَلَيْهِ السَّلَامُ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ
অর্থ: হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম! দৃষ্টিকে অনুসরণ করবেননা। প্রথম দৃষ্টি (যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা) ক্ষমা করা হবে; কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না। অর্থাৎ প্রতি দৃষ্টিতে একটি কবীরা গুণাহ্ লেখা হয়ে থাকে। (আহমদ, তিরমিযী শরীফ, আবু দাঊদ শরীফ, দারিমী, মিশকাত শরীফ)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৬)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট মাসায়িল
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












