ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৮৪)
, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
যখন আখিরী নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ কথা বললেন, যাঁরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এ কথা আলোচনা করছিলেন উনাদের উদ্দেশ্য খারাপ নয়। উনাদের অন্তরে কোন চূ-চেরা কীল-কাল ছিল না উনারা নিয়ামতের জন্যই সেটা বলেছিলেন।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “দেখুন, উনারাতো আমাকে পাবেন না, আপনারা তো আমাকে পাবেন। আমার কাছ থেকে কিছু নিতে পারবেন আপনারা। তাহলে উনারা মাল নিবেন, আপনারা আমাকে নিবেন এতে কি আপনারা সন্তুষ্ট নন?”
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আখিরী নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন এ কথাগুলো বললেন, সেটা শুনে যে সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মদীনা শরীফ থেকে এসেছিলেন উনারা সকলেই ইস্তিগ্ফার-তওবাহ করলেন, কান্না-কাটি করলেন, রোনাজারি করলেন, এবং উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! প্রকৃতপক্ষে তো আমরা মাল তলব করিনি। আমরাও বরকতের জন্য, নিয়ামতের জন্যই চেয়েছিলাম। আপনি যেহেতু আমাদের সঙ্গে থাকবেন সেহেতু এগুলো আমাদের প্রয়োজন নেই, আপনি সব দিয়ে দেন। কারণ আমরা পরবর্তী সময়ও আপনার কাছ থেকে কিছু নিয়ামত লাভ করতে পারব। আপনার স্পর্শকৃত দ্রব্যসামগ্রী অথবা আপনার ছোহবত ইখতিয়ার করা, আমাদের পক্ষে সেটা সম্ভব হবে। কাজেই আপনি সমস্ত গনীমতের মাল বণ্টন করে দিতে পারেন এতে আমাদের কোন প্রকার চূ-চেরা কীল-কাল নেই। উনারা ইস্তিগফার করলেন, কান্নাকাটি করলেন।
এই যে ব্যাপারটা, এখানে ফিকিরের বিষয়। নিয়ামত আর ছাহিবে নিয়ামত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি সমস্ত নিয়ামত, গনীমতের মাল দিয়ে দিলেন। উনি স্বয়ং রয়ে গেলেন। এখন গনীমতের মালের এতো মর্যাদা রয়েছে সেটা স্পর্শের কারণে সেটা লাভ করার জন্য সকলেই ব্যাকুল। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে অজুদ মুবারক রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে রয়েছেন স্বয়ং উনার মহব্বত, উনার মা’রিফাত, উনার তাওয়াজ্জুহ, যিয়ারত উনার ছোহবত, তায়াল্লুক সেটা কত মর্যাদাসম্পন্ন? উনাকে তা’যীম-তাকরীম করলে তাহলে কতটুকু ফযীলত লাভ করা যাবে? এটাতো ফিকিরের বিষয়।
ঈদে মিলাদুন নবী আগে বলা হতো, এখন আমরা বলি ঈদে নুরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এ উপলক্ষে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক উপলক্ষে যে খুিশ প্রকাশ করা হয় সেটা হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অজুদ মুবারকের জন্য, উনার অজুদ মুবারক, অস্তিত্ব মুবারকের জন্য খুশি প্রকাশ করা হয় উনার আগমনের কারণে।
উনাকে তো মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির শুরুতেই।
أَوَّلُ مَا خَلَقَ اللهُ نُورِي، وَكُلُّ شَيْءٍ مِنْ نُورِي
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার মহাপবিত্র নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ ইজহার মুবারক করেছেন।”
কাজেই তিনিতো ইজহার (প্রকাশ) মুবারক হয়েছেন সৃষ্টির শুরুতেই। কোথায় ছিলেন তিনি?
يَدُورُ بِالْقُدْرَةِ حَيْثُ شَاءَ اللهُ تَعَالٰى
মহান আল্লাহ পাক উনার হবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আয় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনাকে যখন ইজহার মুবারক করা হলো তখনতো কিছুই সৃষ্টি করা হয়নি, আপনি তাহলে কোথায় ছিলেন?
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












