ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (১৮)
, ০৩ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৮ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৭ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০২ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ঠিক আমরা আরো কুরআন শরীফে দেখতে পাই যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথাই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার কথা। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি শক্ত কথা বলেন,
قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ
“হে আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ঐ সমস্ত লোকদের সাথে আপনি জিহাদ ঘোষণা করুন, তাদেরকে ক্বতল করে দিন, তাদেরকে হত্যা করে দিন।” কাদের বিরুদ্ধে?
لَا يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ
এক নাম্বার হচ্ছে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান আনে না। দুই নাম্বার হচ্ছে, যারা পরকাল বিশ^াস করে না। তিন নাম্বার হচ্ছে
وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللهُ وَرَسُولُهُ
তিন নাম্বার হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক যেটা হারাম করেছেন সেটাকে হারাম জানে না। চার নাম্বার হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেটাকে হারাম করেছেন সেটাকে হারাম জানে না। সেই ব্যক্তিকে ক্বতল করুন। পাঁচ নাম্বার বলা হয়েছে,
وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দ্বীন এনেছেন, সেই দ্বীন অনুযায়ী সে নিজেকে গড়ে না নেয়। দ্বীন অনুযায়ী নিজেকে সে ঈমানদার করে না নেয়। এ সমস্ত লোকদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করুন, তাদেরকে ক্বতল করুন।”
এখন এই আয়াত শরীফে দেখা যাচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান আনতে হবে, পরকালের প্রতি ঈমান আনতে হবে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা হারাম করেছেন সেটাকে হারাম জানতে হবে। যে দ্বীন এনেছেন সে দ্বীন অনুযায়ী তাকে গঠন করে নিতে হবে।
এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেটা হারাম করেছেন সেটাকে হারাম জানতে হবে। ঠিক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার বিপরীত যেটা হালাল বলেছেন সেটা হালাল জানতে হবে। যেই আদেশ-নিষেধ করেছেন সেটা হুবহু পালন করতে হবে।
তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযার ঈদ দিয়ে দিলেন, কুরবানীর ঈদ দিয়ে দিলেন, তোমরা সেটা মেনে নিলে।
তাহলে আরো ঈদগুলো দিলেন, জুমুয়ার দিন ঈদের দিন, আরাফার দিন ঈদের দিন, সোমবার দিন ঈদের দিন, তাহলে সেটা তোমরা কেন মানলে না? অর্ধেক মানলে, অর্ধেক মানবে না তাতো হবে না। তাহলে তোমরা অর্ধেক ঈমানদার দাবী করতে চাও, অর্ধেকতো ঈমানদার হতে পারে না। ঈমানের বিষয় হচ্ছে, আক্বাঈদের বিষয় হচ্ছে, একটা বিষয়কে কেউ যদি অস্বীকার করে।
যেমন কেউ যদি বলে, ‘সে জিন মানে না’- তাহলে সে কিন্তু কাট্টা কাফির, চির জাহান্নামী হয়ে যাবে। কেউ যদি বলে, ‘কবরের আযাব মানে না’- সে কাফির হয়ে যাবে। কেউ যদি বলে, ‘ফেরেশ্তা মানে না’- সেও কাফির হয়ে যাবে। ইসলামের যে আক্বাঈদের বিষয় রয়েছে যে কোন একটাকে অস্বীকার করলে সে কাট্টা কাফির, চির জাহান্নামী।
তাহলে শরীয়তে রোযার ঈদ, কুরবানীর ঈদ ছাড়াও আরো অনেক ঈদ রয়েছে। এখন যারা এই দু’ঈদ ব্যতীত অন্য কোন ঈদ মানে না তাহলে তারা কি কাফির হয়ে যাচ্ছে না? তারা কি ঈমানদার থাকতে পারবে? না, তারাতো ঈমানদার থাকতে পারেনা। কারণ, তারা সরাসরি কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফকে অস্বীকার করতেছে। যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ আর হাদীছ শরীফকে অস্বীকার করে, সে ব্যক্তি ঈমানদার থাকতে পারে না কস্মিনকালেও।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












