ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (১৫)
, ২৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৪ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কারণ, হাদীছ শরীফ এটাও মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম। কুরআন শরীফও মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম। তবে হাদীছ শরীফ আর কুরআন শরীফের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে, وَحْيٌ مَتْلُوٌّ এবং وَحْيٌ غَيْرُ مَتْلُوٍّ কুরআন শরীফ যা নাযিল হয়েছে, হুবহু সেটা তিলাওয়াত করতে হবে। আর হাদীছ শরীফ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভাষায় বলেছেন।
হাদীছ শরীফ লিপিবদ্ধ করেছেন, লিখেছেন, সংকলন করেছেন যে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুম, পবিত্র কুরআন শরীফকেও ঠিক সেই ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম লিপিবদ্ধ করেছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজ হাতে কুরআন শরীফ যমীনে লিখে দিয়ে যাননি। তাহলে কুরআন শরীফে সন্দেহ নেই, হাদীছ শরীফে কেন থাকবে?
আর যদি হাদীছ শরীফে সন্দেহ থেকে থাকে তাহলে কুরআন শরীফে সন্দেহ থাকতে পারে। নাউযুবিল্লাহ!
কারণ, হাদীছ শরীফ যেই ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ লিপিবদ্ধ করেছেন কুরআন শরীফও সেই ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ লিপিবদ্ধ করেছেন। তাহলে একটাতে সন্দেহ হলে আরেকটাতেও সন্দেহ হবে। মহান আল্লাহ পাক তো বলেছেন-
أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ
“কিতাবের কিছু মানবে, কিছু মানবেনা তা তো হবেনা, পুরোটা মানতে হবে।”
তুমি কুরআন শরীফ মানবে; হাদীছ শরীফ মানবেনা, হাদীছ শরীফ মানবে; কুরআন শরীফ মানবেনা তাহলে তুমি মুনাফিক, তুমি কাফির।
হাদীছ শরীফের গুরুত্ব রয়েছে। আজকাল কিছু লোক রয়েছে ওহাবী, খারিজী, রাফিজী, মু’তাজিলা, বদ মাযহাব, বদ আক্বীদার লোক যারা আসলেই ছূরতান মুসলমান, হাক্বীক্বতান এরা কাফির এবং মুনাফিক।
কারণ, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফের প্রতি যাদের ঈমান নেই, বিশ^াস নেই, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যাদের মহব্বত নেই তারা কস্মিনকালেও ঈমানদার হিসেবে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে সাব্যস্ত হবেনা।
এরা ছূরতান যতই মুসলমান দাবি করুক না কেন হাক্বীক্বতান এরা মুসলমান থেকে খারিজ।
যার জন্য হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي رَافِعٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا أَلْفَيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ، يَأْتِيهِ الْأَمْرُ مِنْ أَمْرِي مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ، فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللهِ اتَّبَعْنَاهُ
হযরত আবু রফে রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَا أَلْفَيَنَّ أَحَدَكُمْ
আমি যেন তেমাদের কাউকে এ অবস্থায় না পাই! তোমরা খুব সাবধান হয়ে যাও, হে আসমানবাসী, যমীনবাসী! তোমরা সকলেই সতর্ক হয়ে যাও, সাবধান হয়ে যাও, জিন-ইনসান যারা রয়েছ, যারা উম্মত রয়েছ তোমরা সকলেই সতর্ক হয়ে যাও।”
لَا أَلْفَيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ،
তোমাদেরকে যেন আমি এই অবস্থায় না পাই, কোন অবস্থায়? তোমরা গদিতে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তোমরা বিরাট আমীর উমরাহ সেজে, বিরাট বড় মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাস্সির সেজে, জ্ঞানী ব্যক্তির রূপ ধারণ করে, ইসলামের ধারক বাহক সেজে তোমরা কি বলবে? যখন তোমাদের কাছে কোন হাদীছ শরীফ আসবে ,
يَأْتِيهِ الْأَمْرُ مِنْ أَمْرِي مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ،
তোমাদের কাছে যখন আমার নির্দেশসমূহের কোন নির্দেশ আসবে, যাতে আমি আদেশ অথবা নিষেধ করেছি অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেটা আদেশ করেছেন
অথবা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেটা নিষেধ করেছেন এমন কোন আদেশ-নিষেধ যখন তোমাদের কাছে আসবে তোমরা মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসির সেজে শায়খুল হাদীছ, শায়খুত তাফসীর, মুফাসসিরে কুরআন ইত্যাদি অনেক কিছু সেজে, খতীব সেজে, ইসলামী চিন্তাবিদ সেজে গদিতে হেলান দিয়ে বসে থাকবে তখন তোমরা বলবে,
কুরআন শরীফে যেটা পেয়েছি, শুধু সেটাই পালন করব অন্যটা আমরা মানব না। لَا أَدْرِي আমরা সেটা সম্মন্ধে জানি না, আমরা সেটা মানব না আমরা শুধু কুরআন শরীফে যা পেয়েছি সেটাই মানব। নাউযুবিল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (২)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সেদিন আমার ক্বইয়ূমিয়াতের হাল এমনভাবে প্রবল হয়েছিল যে, আমি যদি আসমানকে যমীন এবং যমীনকে আসমান হতে বলতাম তাহলে তাই হতো।” সুবহানাল্লাহ!
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারের সঠিক তারিখ প্রসঙ্গে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (১)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদেরকে ঈমান থেকে সরিয়ে দিতে কাফিরগুলো সবসময় চেষ্টা করে থাকে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












