ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (১১)
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তাহলে যারা বলে থাকে, “শরীয়তে দুই ঈদ ছাড়া কোন ইদ নেই- তাদের এ কথাটা কাট্টা মিথ্যা কথা। হয় তারা এটা জানে না, তাহলে তারা আশাদ্দুদ্ দরজার জাহিল। ফতওয়া দেয়ার উপযুক্ত তারা নয়। অথবা তারা জেনে চুপিয়ে রেখেছে, তাহলে তারা মুনাফিক হবে।
অন্তরে একটা, মুখে আরেকটা। দু’দিক থেকে এদের ফতওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এরা হয় মুনাফিক হবে অথবা তারা জাহিল হবে, আশাদ্দুদ্ দরজার জাহিল। এ দু’টা থেকে তারা খালি নয়। কাজেই এদের কথা গ্রহণযোগ্য নয়। এরা বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত।
এরপরে রয়েছে, ‘বুখারী শরীফে’ হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত। একবার কিছু ইহুদী আসলো। এসে বললো, “হে হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম, হে আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন! আপনাদের কুরআন শরীফে, আপনাদের কালামুল্লাহ শরীফে এমন একখানা আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে তা এত গুরুত্বপূর্ণ যে, সেটা যদি ইহুদীদের তাওরাত শরীফে, তাদের ধর্মে নাযিল হতো, তাহলে সেই দিনটাকে ইহুদী সম্প্রদায় ঈদের দিন, খুশীর দিন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দিত।”
এটা যখন ইহুদী সম্প্রদায় খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে বললো, তখন হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “হে ইহুদী সম্পদ্রায়! তোমরা কোন আয়াত শরীফের কথা বলতেছ?”
ইহুদী সম্প্রদায় বললো, “হে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! সেটা হচ্ছে “সূরা মায়িদার”তিন নম্বর আয়াত শরীফ, সূরা মায়িদার তিন নম্বর আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
“আজকে তোমাদের দ্বীনকে আমি কামিল করে দিলাম।”
وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي
“আমার নিয়ামত তোমাদের জন্য তামাম করে দিলাম, পরিপূর্ণ করে দিলাম।”
وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
“এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম এবং এর মধ্যে আমি সন্তুষ্ট রইলাম।” সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “ইসলামকে পরিপূর্ণ করা হলো, নিয়ামত পরিপূর্ণ করা হলো, এটা মনোনীত করা হলো এবং এতে সন্তুষ্টি দেয়া হলো।” এ আয়াত শরীফ যদি নাযিল হতো ইহুদীদের মধ্যে, তাওরাত শরীফে, তাহলে তারা বললো, তারা ঈদের দিন ঘোষণা করতো।
যখন একথা তারা বললো, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “হে ইহুদী সম্প্রদায়! তোমাদের কি জানা রয়েছে, এ আয়াত শরীফ কবে নাযিল হয়েছে?”
ইহুদী সম্প্রদায় বললো, “হে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আসলে সেটা আমাদের জানা নেই।”
ইহুদীদের সেটা জানা ছিল না। কোন্ দিন, কবে, কোথায় আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে।
তিনি তখন বললেন, “দেখ, এ আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হজ্জের সময়। তিনি তো হজ্জ করেছেন একবার যা বিদায় হজ্জ নামে মশহুর। সেই বিদায় হজ্জের সময় আরাফার ময়দানে বা’দ আছর। আরাফার দিন ছিল জুমুয়াবার। সেই জুমুয়াবার দিন বা’দ আছর আরাফার ময়দানে সেই আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে।”
হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম বললেন যে, “দেখ, মুসলমানদের জন্য এই দু’টা দিনই হচ্ছে খুশীর দিন। কাজেই, মুসলমানদেরকে এ আয়াত শরীফ যেদিন নাযিল হয়েছে সেই দিনটাকে আলাদাভাবে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে না।” সুবহানাল্লাহ!
যখন এটা বলা হলো তখন ইহুদীরা বুঝলো। অতঃপর তারা চলে গেল। এটা হচ্ছে একটা হাদীছ শরীফ, হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত। এটা বুখারী শরীফে বর্ণিত রয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৫তম পর্ব)
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (৭)
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালালকে হারাম করা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে র্শিক করার শামিল
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার বরকতময় ইতিহাস
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১১)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












