ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (২২)
, ২৫ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০২ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কয়েকদিন পর হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার! রুটিগুলো কোথায়? উনাকে জবাব দেয়া হলো, রুটিগুলো রেখে দেয়া হয়েছে পাকের ঘরের তাকের মধ্যে। উনি বললেন, সর্বনাশ! রুটিগুলো নষ্ট করেছেন? রুটিগুলো মানুষকে দিয়ে দিন। তবে দেয়ার সময় বলে দিবেন, রুটির আটাগুলো হলো ইমাম ছাহেবের, আর লবণ হলো কাজী ছাহেবের। যখন ফকীর-মিসকীনকে বলা হলো, হে ব্যক্তি তুমি যে এটা নিতে এসেছ, এই রুটির আটাগুলো হলো ইমাম ছাহেবের, আর লবণ হলো কাজী ছাহেবের। ইমাম ছাহেব এটা গ্রহণ করেননি। ফকীর-মিসকীনও গ্রহন করলো না এটা। শেষ পর্যন্ত এটা নষ্ট হয়ে গেল।
হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, এক কাজ করুন, এটা ফেলে দিন। উনার খাদেমের কাছে দেয়া হলো ফেলে দেয়ার জন্যে। খাদেম সেটা নিয়ে গেল, নিয়ে সে চিন্তা করতে লাগল কোথায় ফেলবে। নিয়ে ফেললো নদীর মধ্যে। নদীর মধ্যে ফেলে দেয়ার পর খাদেম ফিরে আসল। আসার পর হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় ফেললে তুমি? খাদেম বললো, হুযূর! নদীতে ফেলেছি।
উনি বললেন, সর্বনাশ করেছ। আজকের থেকে আমার মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!
এখন চিন্তা-ফিকির করেন, তাক্বওয়ার চরম পর্যায়ে গিয়ে উনারা পৌঁছেছেন। কত বড় মুত্তাকী উনারা, কত বড় তাক্বওয়াধারী উনারা। এ লবণ উনি খেলেন না, পানিতে ফেলা হলো, পানির মাছ উনি খেতে রাজী নন। এখন তাক্বওয়া কাকে বলে? তাক্বওয়ার চরম পর্যায় কি? এটা চিন্তা ফিকিরের বিষয়।
এখন এ তাক্বওয়া যে উনারা অর্জন করেছেন, এ তাক্বওয়া অর্জন করেছেন কোত্থেকে? মূলতঃ যারা আতকা অর্থাৎ চরম পরহেযগার।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
“হে ঈমানদারগণ! মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং নেক লোকের ছোহবত ইখতিয়ার করো।”
صحبت صالح تورا صالح كند- صحبت طالح تورا طالح كند
সৎ সঙ্গ তোমাদের ভাল করে দেবে, অসৎ সঙ্গ তোমাদের খারাপ করে দেবে।
এখন তাক্বওয়া কাকে বলে? কিভাবে তাক্বওয়া অর্জন করতে হবে? আমরা তাক্বওয়া দিয়ে আমাদের চরিত্রকে উন্নত করব। তাক্বওয়া পাব কোথায়? কোথায় গেলে তাক্বওয়া পাওয়া যাবে? কার কাছে গেলে তাক্বওয়া পাওয়া যাবে? কি করলে তাক্বওয়া পাওয়া যাবে? তাক্বওয়া আসবে কি করে?
তাক্বওয়া তো সিনার মধ্যে থাকে, এজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, “তোমরা সৎ লোকের ছোহবত ইখতিয়ার করো।”
সৎ লোক কাদেরকে বলা হয়? সত্যবাদী কারা? সত্যবাদী কাদেরকে বলা হয়?
মহান আল্লাহ পাক তিনিই বলেছেন আবার পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
মহান আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামত দিয়েছেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ, ছলেহগণ উনাদেরকে।
নবী এক স্তর। আর ছিদ্দীক, শহীদ, ছলেহ আর এক স্তর উম্মতের মধ্যে।
উনাদের নিকট থেকে আমরা তাক্বওয়া, পরহেযগারী শিক্ষা করব। যেমন বলা হয়ে থাকে, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
قَالَ اللهُ هَذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ক্বিয়ামতের দিন একমাত্র সত্যবাদীরাই তাদের সত্যতার দ্বারা ফায়দা হাছিল করবে। আর কেউ ফায়দা হাছিল করতে পারবে না। এখন সত্যবাদী হতে হবে এবং সত্যবাদী ব্যক্তিদের ছোহবত ইখতিয়ার করতে হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৬)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট মাসায়িল
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












