সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল,
সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১৮)
, ২৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৩ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ২২ মে, ২০২৫ খ্রি:, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফ-এ মাস ও বছরের উপস্থিতি:
সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাহিবজাদা শায়েখ হযরত সাইফুদ্দীন আব্দুল ওহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন, “এমন কোন মাস ছিলো না, যেটা আমার আব্বাজান উনার খিদমতে হাজির হয়নি। নতুন চাঁদ উদিত হওয়ার আগেই প্রতিটি মাস হাজির হতো এবং মহান আল্লাহ পাক কর্তৃক নির্ধারিত নিয়তিতে সে মাসে কোন দুর্ঘটনা হওয়ার থাকলে, কোন ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে বা কোন রহমত বা কল্যাণ হওয়ার থাকলে, উনাকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হতো। ”
একবার সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতে কয়েকজন মাশায়িখে ইযাম বসা ছিলেন। তারিখটা ছিলো জুমাদাল ঊখরা শরীফ উনার শেষ দিন, ৫৬০ হিজরী সন।
হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এমন সময় এক সুন্দর চেহারাধারী নওজোয়ান দরবার শরীফ-এ প্রবেশ করলো। সালাম দিয়ে বললো- আমি মাহে রজব। আপনাকে মুবারকবাদ জানাতে এসেছি। আমার এ মাসে সাধারণ লোকের অনেক উপকার, তথা সুখ-শান্তি হবে।
বর্ণিত আছে, সে বছর সম্পূর্ণ রজব মাস প্রত্যেকের জন্য খুবই সুখ ও শান্তির হয়েছিলো। সেই পবিত্র রজব মাসের শেষ ইয়াওমুল আহাদ বা রোববারও উনারা উনার খিদমতে বসা ছিলেন। উনারা দেখলেন বিকৃত চেহারাধারী একলোক দরবার শরীফ-এ প্রবেশ করে বললো- আসসালামু আলাইকুম, হে ওলীআল্লাহ! আমি শা’বান মাস। আমার এ মাসে বাগদাদ শরীফ-এ বড় ফিতনা-ফাসাদ বা ধ্বংসযজ্ঞ হবে। হিজাযে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে এবং খোরাসানে তরবারির জিহাদ বা যুদ্ধ সংঘটিত হবে। ঠিকই তাই হয়েছিলো।
একবার সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা উনার মজলিসে বসা ছিলাম। সেই মজলিসে শায়েখ আলী বিন হায়তী বিন আবু ইউসুফ আব্দুল কাদের সরওয়ার্দী তিনিও উনার কাছে বসা ছিলেন। আরও কয়েকজন মাশায়িখে ইযাম সেই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। আমরা দেখতে পেলাম যে, একজন উজ্জ্বল আকৃতি ও গম্ভীর প্রকৃতির নওজোয়ান এসে বললো-
হে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী! আসসালামু আলাইকুম। আমি মাহে রমাদ্বান শরীফ। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য হাজির হয়েছি। এ মাসে আমি আপনাকে বিদায় জানাচ্ছি। আর ঠিকই ওই বছরই পরবর্তী রমাদ্বান শরীফ মাস আসার আগেই তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার দীদারে গমন করেন।
হযরত শায়েখ আবুল কাসেম ওমর বিন মাসউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত শায়েখ আবু হাফস ওমর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বর্ণনা করেন, একবার সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সমবেত লোকদের মাথার উপর মেঘমালায় পরিভ্রমণরত ছিলেন। তিনি বললেন, সূর্য যতক্ষণ আমাকে সালাম না দেয়, ততক্ষণ উদিত হয় না। প্রতিটি নতুন বছর শুরুর আগে আমার কাছে আসে এবং ঘটমান গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করে। অনুরূপ মাস ও সপ্তাহ আমার কাছে এসে সালাম করে এবং স্বীয় কালে ঘটমান ঘটনাবলী সম্পর্কে আমাকে অবহিত করে। (যুবদাতুল আছার)
সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদানগণের মর্যাদা:
শায়েখ আবু মুহম্মদ আব্দুল লতিফ বিন শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন। আমার আব্বাজান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, হযরত শায়েখ হাম্মাদ দাব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে প্রতি রাত্রে মধু মক্ষিকার শব্দের মত এক প্রকার গুঞ্জন শুনা যেত। সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই সময় উনার কাছে ছোহবতে আসা-যাওয়া করতেন। লোকেরা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে আরজু করলেন, তিনি যেন হযরত শায়েখ হাম্মাদ দাব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে সেই শব্দ মুবারক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি সে সম্পর্কে হযরত হাম্মাদ দাব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে জিজ্ঞেস করলেন।
তিনি বলেন, আমার ১২ হাজার মুরীদ আছে। আমি খুবই দ্রুততার সাথে তাদের নাম ধরে ডাকি এবং তাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু আছে কিনা জিজ্ঞেস করি, যেন আমি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকে মনজুর করিয়ে নিতে পারি। আমার কোন মুরীদ ততক্ষণ মৃত্যুবরণ করে না, যতক্ষণ তার তওবা কবুল না হয় বা এক মাসের মধ্যে তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয় না। এভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত এসব মুরীদদের উপর পড়ে থাকে, যারা হযরত শায়েখ হাম্মাদ দাব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাতে বাইয়াত হন। এ কথা শুনে গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত শায়েখ হাম্মাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন, যদি মহান আল্লাহ পাক আমাকে এ মর্তবা দান করেন, তাহলে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এ প্রতিশ্রুতি নিয়ে নেবো, যেন কিয়ামত পর্যন্ত আমার কোন মুরীদ ততক্ষণ ইন্তেকাল না করে যতক্ষণ তার তওবা কবুল করা না হবে। আমি এ প্রতিশ্রুতির জিম্মাদার হবো। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১৩)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানকে কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ থেকে দূরে থাকতে হবে
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (৪)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
একমাত্র মহান আল্লাহ পাক ব্যতিত অন্য কারও অনুসরণ করার বিষয়ে বাতিলপন্থীদের বিভ্রান্তির জাওয়াব
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৭)
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












