ইমামুল মুত্তাকীন, সুলত্বানুল আউলিয়া, পেশওয়ায়ে দ্বীন, যীনাতুল আরিফীন, আওলাদে রসূল,
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত গুরুত্বপূর্ণ নছীহত মুবারক
, ১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) বিশেষ আইয়্যামুল্লাহ শরীফ
মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই পবিত্র রিযামন্দি-সন্তুষ্টি, মুহব্বত-মা’রিফাত মুবারক হাছিলের একমাত্র উছীলা। উনাদের মুবারক উছীলা বা মধ্যস্থতা ব্যতীত কস্মিনকালেও কোন নিয়ামত মুবারক হাছিল করা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَةْ جَعْفَرَ الصَّادِقِ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّهُ قَالَ نَـحْنُ اٰلُ بَيْتِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَـحْنُ الْوَسِيلَةُ اِلَى اللهِ وَلَا وَسِيلَةَ اِلَى اللهِ اِلَّا عَنْ غَيْرِ طَرِيقِنَا اَوْ مِنْ سِوَانَا
অর্থ: ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা হচ্ছি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম ‘বংশধর’ অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। আমরাই হচ্ছি- মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত, মা’রিফাত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি ও নিয়ামত মুবারক পাওয়ার একমাত্র সর্বোত্তম উছীলা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! কাজেই আমাদের পবিত্রতম তরীকা অথবা আমাদের পবিত্রতম উছীলা বা পবিত্রতম মাধ্যম ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে পৌঁছার- আর কেউই উছীলা বা মাধ্যমই নেই। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ আমাদের উছীলা বা মাধ্যম ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতম মুহব্বত-মা’রিফাত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা কারো পক্ষে কস্মিনকালেও সম্ভব হবে না। সুবহানাল্লাহ! (শরহে আকীদাতুত ত্বাহাবী লিল হাওয়ালী)
তাই, সকলেই জন্য আবশ্যক হচ্ছে- হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম করা এবং উনাদের আদেশ-নিষেধ মুবারক যথাযথভাবে মেনে চলা। তবেই সর্বক্ষেত্রে কামিয়াবী হাছিল করা সহজ ও সম্ভব।
সে জন্য নিম্নে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নছীহত মুবারক উল্লেখ করা হলো। যাতে করে আমরা উনার মহাসম্মানিত নছীহত মুবারক জেনে আমলে বাস্তবায়ন করতে পারি।
উনার কতিপয় মহামূল্যবান নছীহত মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
১) আমি আশ্চর্য হই ওই ব্যক্তি সম্পর্কে- যে ফখর ও অহঙ্কার করে। কারণ গতকাল যে সামান্য পানি ছিলো এবং আগামীকাল যে মৃত্যুবরণ করে আবার মাটিতে মিশে যাবে, তার অহঙ্কার দেখলে বড়ই আশ্চর্য হই।
২) আর ওই ব্যক্তির জন্যও আশ্চর্য হতে হয়- যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার আযমত সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনিই তাকে সৃষ্টি করেছেন।
৩) ওই ব্যক্তি সম্পর্কেও আশ্চর্য হই- যে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে; অথচ প্রথমবার মহান আল্লাহ পাক তিনিই তাকে পয়দা করেছেন।
৪) আর ওই ব্যক্তি সম্পর্কেও আশ্চর্য হই- যে ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগী অর্থাৎ দুনিয়ার জন্য সবসময় আমল করে; কিন্তু চিরস্থায়ী জিন্দেগী অর্থাৎ পরকালের জন্য আমল করে না। হে ব্যক্তিগণ! তোমরা লক্ষ্য করো, দুনিয়া হচ্ছে মুসাফিরখানা। আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ওই আমল থেকে পানাহ তলব করছি- যা লোকদের নিকট জাহিরীভাবে (বাহ্যিকভাবে) ভালো মনে হয়। কিন্তু হাকীকতে তা অত্যন্ত খারাপ।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
ক) কিছু লোক আছে; যারা মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে ইবাদত করে, ইহা বান্দা বা গোলামদের ইবাদত।
খ) কিছু লোক আছে; যারা জান্নাত উনার আশায় ইবাদত করে, ইহা ব্যবসায়ীদের ইবাদত।
গ) আর কিছু লোক রয়েছে; যারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায়ের লক্ষ্যে ইবাদত করে, মূলত ইহা হচ্ছে আযাদ বা স্বাধীন ব্যক্তির ইবাদত। (সফওযাতুছ্ ছাফওয়া, সিয়ারুছ্ ছাহাবা)
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে একদিন উনার সুযোগ্য আওলাদ সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ডেকে কিছু মহামূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ নছীহত মুবারক করেন।
তিনি বললেন, হে আমার প্রিয় আওলাদ! পাঁচ ধরনের লোকদের সাথে কখনো বন্ধুত্ব করবেন না। এমনকি তাদের সাথে দুশমনিও করতে যাবেন না।
(১) ফাসিক বা পাপীদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন না।
তাদের সহচার্য হতে সবসময় দূরে সরে থাকবেন। ওই সমস্ত লোক আপনাকে প্রবৃত্তির গোলামে পরিণত করতে চাইবে এবং যে বিষয়ের কোনো প্রয়োজন নেই- এমন সব বিষয়ে আত্মনিয়োজিত হতে প্ররোচিত করবে।
(২) কৃপণের সাথে বন্ধুত্ব করবেন না।
কেননা যদি কখনো আপনার আর্থিক সমস্যা দেখা দেয়, তখন সেই ব্যক্তি বখিলীর কারণে আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে পালিয়ে যাবে।
(৩) মিথ্যাবাদীর সাথে কখনো বন্ধুত্ব করবেন না।
কেননা এমন লোক মরীচিকার মতো; সে তার অভ্যাসবশতই আপনার আপনজনদেরকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে দিবে।
(৪) আহমক/বোকা লোকের সাথে বন্ধুত্ব করবেন না।
কারণ এ ধরনের লোক উপকার করতে গিয়েও এমন ভয়ানক ক্ষতি করে ফেলবে, যার প্রতিকার করা অনেক সময় সম্ভবপর হবে না।
(৫) রক্তের সম্পর্ক ছিন্নকারী লোকদের সাথে সম্পর্ক রাখবেন না।
কারণ আমি যে সমস্ত আসমানী কিতাব পাঠ করেছি, প্রত্যেক আসমানী কিতাবে এ ধরনের লোকদেরকে অভিশপ্ত হিসেবে উল্লেখ দেখেছি। (হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন/৭৫)
সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, ইমামুল মুত্তাকীন, সুলত্বানুল আউলিয়া, পেশওয়ায়ে দ্বীন, যীনাতুল আরিফীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নছীহত মুবারকসমূহ মেনে চলা। তবেই সর্বক্ষেত্রে সহজেই কামিয়াবী হাছিল করা সহজ ও সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন!
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছূরত মুবারক
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আহলু বাইতি রসূলল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়মি মাক্বামে উম্মাহাআহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত বুলন্দী শান মুবারক
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
এক নযরে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত সুওয়াল মুবারক
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে সম্মানিত মুসলমান উনাদের প্রাচুর্যতা
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হিজরত মুবারক:
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
এক নযরে হাদ্বিনাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ই’জায শরীফ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আখিরী চাহার শোম্বা শরীফ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












