সময়মতো পাঠ্যবই দিতে আবারও ব্যর্থতা, সেই একই ‘অজুহাত’
, ১১ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) দেশের খবর
২০১০ সালে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়া শুরু করে সরকার। সে বছর সব বই ছাপা ও বিতরণ শেষ হয়েছিল ২১ জুলাই। অর্থাৎ, বই পেতে বছরের অর্ধেক সময় চলে যায়। বিনামূল্যে বই ছাপা ও বিতরণে প্রথম বছরের সেই ব্যর্থতা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি কোনো সরকার। টানা ১৬ বছর শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের শুরুতে বই তুলে দিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে দেরিতে পাঠ্যবই দেওয়ার ক্ষত শিক্ষাখাত ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। প্রতিটি শিক্ষাবর্ষ দেরিতে শুরু হচ্ছে, প্রয়োজনের চেয়েও কম ক্লাস হচ্ছে এবং সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠছে শিক্ষার্থীরা। এতে শিখন ঘাটতি বাড়ছে এবং তলানিতে নামছে শিক্ষার মান।
বই ছাপা ও বিতরণে ধারাবাহিক এ ব্যর্থতার পেছনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকারকে দায়ী করছে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। আর মন্ত্রণালয় বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এনসিটিবি ঘিরে যে প্রেস সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতে তারা চেষ্টা করছেন। এ চক্র নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে পাঠ্যবই ছাপার কাজে স্বচ্ছতা ও মাননিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
দুই পক্ষের এমন বিপরীতমুখী বক্তব্যে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষকরা। তারা বলছেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের প্রথম ও অত্যাবশকীয় শিক্ষা উপকরণ হলো নতুন পাঠ্যবই। ক্লাস শুরু করতে, পাঠদানে গতি বাড়াতে বছরের শুরুতে বই দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও এনসিটিবি সেটা কীভাবে করবে, তা তাদেরই ঠিক করতে হবে।
চলতি বছর বই ছাপার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘ছাপাখানা মালিকদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। তারা প্রথমে এনসিটিবিকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তা সম্ভব না হলে মন্ত্রণালয়েও তদবির করেন। নানাভাবে তারা কাজের সময়টা পিছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তারা শেষ সময়ে তড়িঘড়ি বই ছাপার কাজ করে নিম্নমানের বই দেওয়ার সুযোগ পান।’
পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সাবেক একজন চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রতিবছর বই ছাপা ও বিতরণে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ হয়। স্বাভাবিকভাবে এ কাজে একটি চক্রের নজর থাকে। তারা মনোপলি করে কাজ বাগিয়ে নেয়। এর সঙ্গে যে এনসিটিবির কর্মকর্তা কিংবা সরকার তথা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকে না, তাও নয়। মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি, ছাপাখানা মালিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সিন্ডিকেটে পাঠ্যবই ছাপার কাজে এ ব্যর্থতা বলে আমি মনে করি।’
তবে ভিন্ন কথা বলছেন মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন মুদ্রণ ব্যবসায় জড়িত এবং বই ছাপার কাজ করছেন তোফায়েল খান। তিনি বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি। তোফায়েল খান বলেন, ‘প্রথম দায়টা অবশ্যই সরকারপক্ষের। এখানে সরকার বলতে আমরা পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকেই চিনি। তাদের ভালো পরিকল্পনা জরুরি। কিন্তু বরাবরই সেটা অনুপস্থিত। এ কারণে পাঠ্যবই সঠিক সময় ছাপা, বাঁধাই, কাটিং ও সরবরাহে দেরি হচ্ছে। সবার আগে এনসিটিবিকে এ দায় নিতে হবে।’
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে যে পরিকল্পনা সরকারের
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
চট্টগ্রামসহ চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
‘স্যার আপনাকে আব্বু ডাকলাম, কয়টা নাম্বার দেন’ উত্তরপত্রে ছাত্রীর আবেদন
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাইক রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে অস্থিরতা
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রাজধানীতেই মাদকের খোলা হাট!
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
২৫ কোটি গাছ রোপণের মহাপরিকল্পনা: স্যাটেলাইট ও ড্রোনে হবে পর্যবেক্ষণ
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সন্তুষ্ট ৭৫.৩ শতাংশ মানুষ: জরিপ
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের : আঙ্কটাড
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাসযোগ্য শহরের তালিকায় তলানিতে ঢাকা!
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশের মিশনে বড় রদবদল হচ্ছে
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ডিসি পদে ফের বড় রদবদল আসছে
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বর্ষার মোহনীয় ফুল দোলনচাঁপা। রংপুর সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ রোডের একটি বাড়ির সামনের ছোট্ট বাগান থেকে তোলা ছবি।
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












