সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
, ৩০ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ফুটবল-ক্রিকেটসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। মাঠে গিয়ে হোক আর টিভিতে হোক সর্বাবস্থায়ই খেলা দেখা হারাম ও কবীরাহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিখ্যাত কিতাব, মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُلُّ لَعِبٍ حَرَامٌ اِلَّا ثَلَاثٍ: مُلَاعَبَةُ الرَّجُلِ أَهْلَهُ وَرَمْيُهُ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبُهُ فَرَسَهُ
“সর্বপ্রকার খেলা নিষিদ্ধ তিনটি বিষয় ব্যতীত- যা খেলার অন্তর্ভুক্ত নয়। (১) নিজ আহলিয়া বা স্ত্রীর সাথে শরীয়তসম্মত হাসি-খুশী করা। (২) তীর ধনুক চালনা করা। (৩) অশ্বকে প্রশিক্ষণ দান করা।
“আবু দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসাঈ শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ” ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফের কিতাবেও হযরত উকবা ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তবে শব্দের কিছু তারতম্য রয়েছে।
কাজেই, খেলাধুলার ফিতনা থেকে ঈমান-আমল হিফাজত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ-ওয়াজিব।
(ধারাবাহিক)
আশরাফ আলী থানভী ও মুফতে শফির খেলা সম্পর্কিত বক্তব্যকে দলীল হিসেবে উল্লেখ করা কতটুকু সঠিক?
এখন অনেকে বলতে পারে যে, “সম্মানিত শরীয়তে মৃত গরু, ছাগল, বকরী, ভেড়া ইত্যাদি খাওয়া নাজায়িয। কিন্ত যদি কেউ তিন দিন না খেয়ে থাকে তাহলে তার জন্য জরুরত আন্দাজ উল্লিখিত মৃত প্রাণীর গোশ্ত খাওয়া মুবাহ। তাহলে কি এখানে এ ফতওয়ার দ্বারা হারামকে হালাল বলে সাব্যস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে? কেননা এখানেও শর্ত দিয়ে মৃত প্রাণীর গোশ্ত খাওয়াকে মোবাহ্ বলা হয়েছে।
এর জাওয়াব হচ্ছে, প্রাণ বা জান রক্ষা করা হচ্ছে ফরজ। আর প্রাণ রক্ষা করার জন্য খাদ্য গ্রহণ করা বা খাওয়াও ফরজ। সুতরাং প্রাণ রক্ষা করার জন্য যদি কেউ হালাল খাদ্যের ব্যবস্থা করতে না পারে এমতাবস্থায় তিনদিন অতীত হয়ে যায়। অর্থাৎ তিনদিন অনাহারে কেটে যায় অথচ ফরজ পরিমাণ খাদ্য সে সংগ্রহ করতে পারল না, তখন সে মাজুর হয়ে যায় এবং তখন তার প্রাণ বা জান রক্ষার জন্য অর্থাৎ এই মাজুরের জন্য হারাম মোবাহ হয়ে যায়।
সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মাজুর ঐ ব্যক্তি যাকে জীবন রক্ষা করার পূর্ব শর্ত হিসেবে শরীয়ত উনার খেলাফ কোন কাজ অনিচ্ছাসত্ত্বেও করতে হয়। আর এ সমস্ত খেলাধুলা কারো জন্য জীবন বা প্রাণ রক্ষার পূর্ব শর্তও নয় আর এ সমস্ত খেলাধুলার জন্য কোন ব্যক্তি কখনই মাজুরও হয় না। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি কোন বিষয় মাজুর না হয় তাহলে তার জন্য শর্ত শারায়েতের কি প্রয়োজন থাকতে পারে?
যেহেতু পবিত্র হাদীছ শরীফে এ সমস্ত খেলাধুলাকে সরাসরি হারাম বলে ফতওয়া দেয়া হয়েছে। তবে যারা ফক্বীহ তারা এ সমস্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ-উনার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খেলাধুলা কেন হারাম বলা হয়েছে তার কিছু কারণ প্রত্যেকেই তার আক্বল অনুযায়ী উল্লেখ করেছেন। সেজন্য এর অর্থ এটা নয় যে, এ সমস্ত কারণগুলো দুরীভূত হলেই উক্ত খেলাধুলা জায়েয হয়ে যাবে। কারণ ইমাম-মুজতাহিদ বা ফক্বীহগণ যে সমস্ত কারণ উল্লেখ করেছেন, তাছাড়া আরো শত সহস্র কারণ রয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা খেলা হারাম বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যেহেতু উক্ত খেলাধুলা পবিত্র হাদীছ শরীফে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে তাই তা বিনা শর্ত শারায়েতেই হারাম। অতএব এ বিষয়ে এখন আর কারো কোন ফতওয়াই গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফে মুবাহ্ হওয়ার জন্য কোন শর্ত শারায়েত উল্লেখ করা হয়নি।
অতএব, সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবেক কোন প্রকার খেলা ও তার অনুরূপ কোন বিষয় কস্মিনকালেও জায়েয, মুবাহ্ বা পছন্দনীয় হতে পারেনা। আর উপরোল্লিখিত সমস্ত প্রকার খেলাই বিধর্মী, বিজাতী ও বেদ্বীনদের দ্বারা প্রবর্তিত। এছাড়া বর্তমানে সমস্ত প্রকার খেলাই আন্তর্জাতিক বা জাতীয় অথবা সামাজিক বা ব্যক্তিগত পর্যায় বা উদ্যোগেই হোক না কেন তা অবশ্যই বিধর্মীদের নির্ধারিত নিয়মাবলীর মাধ্যমেই হয়ে থাকে। যদিও স্থান ও ক্ষেত্রবিশেষে কিছু নিয়ম পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয়ে থাকে।
যারা উল্লিখিত খেলাসমূহকে ব্যায়াম হিসেবে উল্লেখ করতে চায়, তাদের সম্পর্কে হাফিজে হাদীছ, বাহরুল উলুম, ফখরুল ফুক্বাহা, রঈসুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, মুফতীয়ে আ’যম, মুবাহিসে আ’যম, পীরে কামিলে মুকাম্মিল, শাহ্ সূফী, হযরত মাওলানা মুহম্মদ রুহুল আমীন বশীরহাটি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “জায়িয কাজ দ্বারা যখন ব্যায়াম করার উপায় আছে, তখন নাজায়েয কাজের দ্বারা কিরূপে জায়েয হবে? খেলার প্রতিযোগীতা করলে কি ফল হবে? কিন্তু লাঠি, তীর ছোড়া, তরবারী ভাঁজা, ঘোড়-দৌড় ইত্যাদিতে শত্রুদের হস্ত হতে কতকটা নিষ্কৃতি লাভের উপায় হতে পারে। পক্ষান্তরে খেলাতে এই প্রকার কোন লাভ হতে পারে না। বরং ওটা খাঁটি খেলবাজি ভিন্ন আর কিছুই নয়। কাজেই ওটা কিছুতেই জায়িয হতে পারে না। কেবল দুনিয়াদার স্বার্থপর আলেম দু’একজন ওটা জায়েয হওয়ার ফতওয়া দিয়েছে। তাদের ফতওয়া কিছুতেই গ্রহণীয় হতে পারে না। (ফতওয়ায়ে আমিনিয়া)
অতএব, ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ইত্যাদি সম্পর্কিত থানবী ও শফি ছাহেবের বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে ভুল ও দলীলবিহীন, তাই তাদের উক্ত বক্তব্য দলীল হিসেবে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বরং শরীয়তের ফায়ছালা হলো, প্রত্যেক প্রকার খেলাই নাজায়িয ও হারাম। খেলাকে হালাল বলা বা মনে করা কাট্টা কুফরী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইবলীসের ধোঁকা হচ্ছে-
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৩য় পর্ব)
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভোট, নির্বাচন, পদপ্রার্থী হওয়া ইত্যাদি কোনটিই জায়িয নেই
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত শি’য়ার তথা নিদর্শন মুবারক উনাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে তারা কিয়ামতের দিন তারা অন্ধ হয়ে উঠবে
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানকে কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ থেকে দূরে থাকতে হবে
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির থেকে গাফিল ব্যক্তির জন্য তিনটি শাস্তি-
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












